আপিল গ্রহণ করে আসামির অব্যাহতির আদেশ স্থগিত

আপডেট : ৩০ জুন ২০২২, ০৬:৩৪ এএম

ধর্ষণের শিকার হলেও আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছেএমন অভিযোগ নিয়ে হাইকোর্টের এজলাসে এসে বিচার চাওয়া কিশোরীর মায়ের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছে উচ্চ আদালত। একই সঙ্গে আসামিকে অব্যাহতি দিয়ে নীলফামারীর সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতের আদেশ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে তাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বুধবার বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

গত রবিবার সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড আইনজীবীর মাধ্যমে কিশোরীর মা আপিল করেন। তার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী বদরুন নাহার।

আদেশের বরাত দিয়ে এই আইনজীবী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আসামিকে আত্মসমর্পণের সময় তার জামিনের বিষয়টি বিবেচনা করতে বলেছে হাইকোর্ট।’

১৫ জুন সকালে হাইকোর্টের এই বেঞ্চের বিচারকাজ চলাকালে এজলাসের ডায়াসের সামনে এসে দাঁড়ায় এক কিশোরী (১৬) ও তার মা (৪৫)। এ সময় আদালত প্রশ্ন করলে কিশোরী জানায়, তারা নীলফামারীর বাসিন্দা। বিজিবিতে (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) কর্মরত এক সৈনিক তাকে ধর্ষণ করেছে। কিন্তু নীলফামারীর আদালত আসামিকে খালাস (অব্যাহতি) দিয়েছে। কিশোরী বলে, ‘আমরা গরিব মানুষ। মামলা চালানোর মতো আর্থিক সামর্থ্য আমাদের নেই। আপনাদের কাছে বিচার চাই।’

হাইকোর্ট তখন সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবীকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা এবং প্রয়োজনে তাকে আইনগত সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

বিচারপ্রার্থী ওই কিশোরী এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী। দেড় বছরের বেশি সময় আগে সে ধর্ষণের শিকার হয় বলে থানা অভিযোগ করেন তার মা।

২০২০ সালের ২১ নভেম্বর থানায় করা মামলার এজাহারে কিশোরীর মা অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী যুবক বিজিবিতে সৈনিক পদে কর্মরত আক্তারুজ্জামান (২৮) ৯ নভেম্বর তাদের অনুপস্থিতির সুযোগে তার ১৪ বছরের মেয়েকে মোটরসাইকেলে করে বোনের নবজাতক দেখানোর কথা বলে নিয়ে যান। পরদিন তিনি মেয়ের মধ্যে কিছু অস্বাভাবিকতা দেখে হাসপাতালে ভর্তি করেন। নীলফামারী সদর হাসপাতালে কিশোরীর ছাড়পত্রে যৌন নির্যাতনের আলামত থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। পরে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়।

তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর আক্তারুজ্জামানের অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। এই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজির আবেদন করেন মামলার বাদী। শুনানি শেষে নীলফামারীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল- ১ চূড়ান্ত প্রতিবেদন সঠিক উল্লেখ করে নারাজির আবেদন খারিজ করে দেয়।

গত ৩১ মে প্রকাশিত বিচারিক আদালতের পূর্ণাঙ্গ আদেশে উল্লেখ করা হয়, নথিপত্রে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। অভিযোগের কোনো সত্যতা না পেয়ে তদন্ত কর্মকর্তা সঠিকভাবে এই মামলার তদন্ত করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত