টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই দখল হয়ে গেছে নারায়ণগঞ্জের কোরবানির পশুর হাট।
ইজারা না পেয়েই সিটি করপোরেশন এলাকার ৭টি হাটের দখল নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। কোন কোন হাটে প্যান্ডেল টানিয়ে পশু তোলাও শুরু হয়েছে।
সিটি করপোরেশন বলছে, যে টেন্ডারে পাবে, সেই নিয়ে যাবে। যে দখল করেছে, সে নাও পেতে পারে। তাই ইজারা সম্পন্ন করতে কোন রকম বিঘ্ন যাতে না ঘটে, সে জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের হিসাব অনুযায়ী আগামী ১০ জুলাই বাংলাদেশে মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। সেই হিসেবে ঈদের পূর্ববর্তী ৩ দিনের জন্য এ সকল হাট ইজারা দেবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। ১৬টি অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা চূড়ান্ত করতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭টি হাটের মাঠ দখল করে নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। হাটের ইজারা না হলেও কোরবানির পশু তোলা হয়ে গেছে কোন কোনটিতে। এ অবস্থায় দরপত্রে সর্বোচ্চ মূল্য দিয়েও হাটগুলোর ইজারা পাবে কিনা; সেই শঙ্কায় ভুগছে দরপত্রে অংশ নেওয়ার ইচ্ছুক সাধারণ ইজারাদাররা।
জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ সিটির বিভিন্ন স্থানে এবার কোরবানির পশুর ১৬টি অস্থায়ী হাট বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জে ৭টি ও কদমরসুল এলাকায় বসবে ৯টি হাট। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন থেকে হাটের ইজারা চূড়ান্ত করতে দরপত্র আহ্বান করেছে। তবে শহরের ৯ ওয়ার্ডে কোন হাট দেওয়া হয়নি।
করোনা মহামারির মধ্যেও গত বছর সিটি করপোরেশন ৬টি হাট বসিয়েছিল। সিটি করপোরেশনের ইজারা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ৩০ জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত দরপত্র বিক্রয়ের তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে। জমাদানের শেষ তারিখ ৩ জুলাই দুপুর ২টা, সেদিনই বিকেল ৩টায় দরপত্র খোলা হবে। এরপর সর্বোচ্চ দরদাতাকে দেওয়া হবে ইজারা।
এবার হাটের ইজারা চূড়ান্ত করতে দরপত্র আহ্বান করা হাটগুলো হলো— ১ নং ওয়ার্ডে সিআইখোলা বালুর মাঠ, ৩ নং ওয়ার্ডে সানারপার লিথি গার্মেন্টস সংলগ্ন মৌলভি মো. ফজলুর রহমানের খালি জায়গা, ৪ নং ওয়ার্ডে টাইগার অয়্যার রি-রোলিং মিলসের মাঠ, ৫ নং ওয়ার্ডের ওমরপুরের সিদ্ধিরগঞ্জ বাজার রোডের পাশে জালাল উদ্দিন আহম্মেদের খালি জায়গা, ৮ নং ওয়ার্ডের গোদনাইল ইব্রাহীম টেক্সটাইল মিলসের খালি মাঠ (রেললাইনের পশ্চিম অংশ), ৯ নং ওয়ার্ডে জালকুড়ি উত্তরপাড়া দশপাইপ সংলগ্ন মোতালিব বেপারীর বালুর মাঠ, ১৯ নং ওয়ার্ডের সামিট পাওয়ার প্লান্টের পেছনে খালি জায়গায় অস্থায়ী পশুর হাট, ২০ নং ওয়ার্ডে সোনাকান্দা মাঠে পশ্চিম পাশের খালি জায়গায়, ২১ নং ওয়ার্ডে স্কুল ঘাট সংলগ্ন বালুর মাঠে, ২৩ নং ওয়ার্ডে পূর্বপাড়া লতিফ হাজীর মোড় সংলগ্ন খালি জায়গা, ২৩ নং ওয়ার্ডে সমরক্ষেত্র, ২৪ নং ওয়ার্ডে কাইতাখালি গোলন্দাজ সাহেবের খালি জায়গা, ২৪ নং ওয়ার্ডের নবীগঞ্জ গুদাড়াঘাট সংলগ্ন খালি জায়গা ও ২৫ নং ওয়ার্ডের উত্তর লক্ষণখেলালা খেয়াঘাটের পাশের খালি মাঠ।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সিটি করপোরেশনের ১ নং ওয়ার্ডের সিআই খোলা বালুর মাঠ, ৪ নং ওয়ার্ডের টাইগার অয়্যার রি-রোলিং মিলস এর মাঠ, ৫ নং ওয়ার্ডের ওমরপরের মাঠ, ৮ নং ওয়ার্ডের গোদনাইল ইব্রাহীম টেক্সটাইল মিলস’র খালি মাঠ, ৯ নং ওয়ার্ডের জালকুড়ি উত্তরপাড়া দশ পাইপ সংলগ্ন তোতালিব বেপারীর বালুর মাঠ, ২০ নং ওয়ার্ডের সোনাকান্দা মাঠের পশ্চিমের খালি জায়গা ও ২৪ নং ওয়ার্ডের নবীগঞ্জ গুদাড়াঘাট সংলগ্ন খালি জায়গা দখল করে হাটের প্রস্তুতি নিয়েছেন স্ব স্ব এলাকার প্রভাবশালীরা। এর মধ্যে ৮ নং ওয়ার্ডের গোদনাইল ইব্রাহীম টেক্সটাইল মিলসের খালি মাঠে প্যান্ডেল টানিয়ে গরুও তোলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল আমিন বলেন, ‘বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ওপেন টেন্ডার খোলা হবে, যে পাবে, সেই নিয়ে যাবে। যে দখল করেছে, সে নাও পেতে পারে। তাই ইজারা সম্পন্ন করতে কোন রকম বিঘ্ন যাতে না ঘটে, সে জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
