শিশুর প্রথম ১০০০ দিন কেন গুরুত্বপূর্ণ

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২২, ১২:০৬ এএম

একজন শিশুর জন্য প্রথম এক হাজার দিন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। মূলত এক হাজার দিন কীভাবে হয় তা জানা এবং বোঝা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিশু মায়ের গর্ভে ৯ মাস ও জন্মের পরের ২ বছর অর্থাৎ ৯ মাস ৩০ দিন হলে হলো ২৭০ দিন। এরপর ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরবর্তী দুই বছর ৩৬৫ দিন করে ৭৩০ দিন। তাহলে মোট দিন দাঁড়ায় এক হাজার দিন।

এই এক হাজার দিন শিশুর মস্তিষ্ক, শরীর, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং বডি মেটাবলিজমের বিকাশের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নবজাতক থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর হারও একেবারে কম নয়। বিভিন্ন পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শিশু (নবজাতক ৫ বছরের কম বয়সীদের) মৃত্যুহারও একেবারে কম নয়।

একজন অন্তঃসত্ত্বা মা সাধারণত কী ভাবেন বা চিন্তা করেন, কী খাবার খান, কী ধরনের প্রসাধন ত্বকে ব্যবহার করেন এবং কীভাবে বা কোন পরিবেশ থেকে শ্বাস-প্রশ^াস নেন সবই গুরুত্বপূর্ণ।

তবে আজকের আলোচনার বিষয় একজন অন্তঃসত্ত্বা মা কী ধরনের খাবার খাবেন তা নিয়ে। অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালীন একজন মায়ের পুষ্টিকর খাবারের প্রয়োজন হয়। দেখা গেছে, একজন শিশুর মস্তিষ্কের ৯০ শতাংশেরও বেশি অংশ গঠিত হয় তার ভূমিষ্ঠ হওয়ার এক হাজার দিনের মধ্যে।

গবেষণায় দেখা যায়, এ সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন নিউরোলাজক্যাল প্রক্রিয়া সিনাপ্স ফরমেশন ও মাইলেশন একে অপরের ওপর গড়ে ওঠে। সিনাপ্স ফরমেশন একটি মাল্টিকম্পোনেন্ট প্রক্রিয়া হিসাবে উপস্থাপিত হয়, যার মাধ্যমে একটি প্রাথমিক সিনাপটিক যোগাযোগ নিউক্লিয়েটস সংগঠনের প্রাক এবং পোস্টসিন্যাপটিক বিশেষীকরণ, যা পরে নির্দিষ্ট করা হয়। আর মাইলিন হলো একটি অন্তরক স্তর বা আবরণ, যা স্নায়ুর চারপাশে গঠন করে, মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ডের কর্ডসহ। এটি প্রোটিন এবং চর্বিযুক্ত পদার্থ দ্বারা গঠিত। এ মাইলিন খাপটি স্নায়ুকোষ বরাবর আবেগ দ্রুত এবং দক্ষতার সঙ্গে পাঠাতে দেয়। এই এক হাজার দিনের মধ্যে মা ও শিশুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু পুষ্টি উপাদানের প্রয়োজন হয়। এসব পুষ্টি উপাদান হলো শর্করা চাল, গম, আলু, ভুট্টা, গুড় ও মিষ্টিজাতীয় খাবার। প্রোটিন মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, কলিজা, শুঁটকি মাছ, ডাল, শিমের বিচি, বাদাম, শুকনা মটর ইত্যাদি। ফলিক অ্যাসিড সবুজ পাতাসমৃদ্ধ শাকসবজি ফলিক অ্যাসিডের বড় উৎস। জিংক জিংকের অন্যতম উৎস হলো সামুদ্রিক মাছ, কাঁকড়া, ঝিনুক, চিংড়ি, মাংস, ডিম, দুধ, বাদাম, মাশরুম, দই ইত্যাদি। আয়রন ডিম, সয়াবিন, শিমের বিচি, গুড়, পালংশাক, লালশাক, ব্রোকলি, কচুজাতীয় সব শাক ও সবজি। কপার কাজুবাদাম, মিষ্টি কুমড়ার বিচি, সিদল শুঁটকি, দই, শুঁটকি মাছ, চিংড়ি মাছ, মাছের সস, পান্তা ভাত ইত্যাদি। কোলিন ডিম, মুরগির মাংস, মাংস ও বিভিন্ন প্রোটিন ও গাঁজানো জাতীয় খাবারে কোলিন পাওয়া যায়। ভিটামিন-ডি তৈলাক্ত মাছ, কলিজা, ডিমের কুসুম, মাখন, উন্নত প্রজাতির মাশরুম, সূর্যের আলো ইত্যাদি। ভিটামিন-বি ১২ যকৃৎ, হৃৎপিণ্ড, মাছ, মাংস, ডিম এ ছাড়া চিড়া তে ও ভিটামিন-বি ১২ পাওয়া যায়। পলি আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড ভুট্টা, সয়াবিন, সূর্যমুখীর তেল, শস্যজাতীয় খাদ্য ইত্যাদি। পানি ও পানিজাতীয় খাবার বিশুদ্ধ পানি, ফলের রস, পানিজাতীয় খাবার ইত্যাদি।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, একটি শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ সঠিক হওয়ার জন্য এ ১০০০ দিনের আহার সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একজন গর্ভবতী মা শিশু গর্ভে থাকা অবস্থা থেকে শুরু করে শিশুর ২ বছর বয়স হওয়া পর্যন্ত নিয়ম মেনে চললে সঠিক জন্ম ওজন সম্পন্ন, সুস্থ, মেধাবী শিশু গড়ে তোলা সম্ভব। এ ছাড়া পাশাপাশি গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়ের ব্যায়াম, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পূর্ণ ঘুম এবং হাসিখুশি সন্তুষ্ট জীবনযাপন করাটাও একান্ত জরুরি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত