ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট

নূপুর শর্মার উচিত জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২২, ০১:৪০ এএম

মহানবী (সা.)-কে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্যে উত্তেজনা উসকে দেওয়ার জন্য বিজেপির বহিষ্কৃত নারী মুখপাত্র নূপুর শর্মাকে দায়ী করেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি সূর্যকান্ত ও বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালার সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ মৌখিক পর্যালোচনায় বলেছে, তার (নূপুর শর্মা) উচিত পুরো দেশের কাছে ক্ষমা চাওয়া। বিচারপতিরা বলেছেন, ‘যেভাবে তিনি দেশজুড়ে মানুষের আবেগ উসকে দিয়েছেন, দেশে যা ঘটছে সেজন্য এককভাবে এ নারী দায়ী।’

গত মে মাসের শুরুতে একটি টেলিভিশন বিতর্কে নূপুর শর্মার অপমানজনক মন্তব্য ভারত ও বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় মুসলিম দেশে ক্ষোভের জন্ম দেয়। বেশ কয়েকটি আরব দেশ ভারতীয় কূটনীতিককে তলব করে কঠোর তিরস্কার জানায়। বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন, ‘আমরা ওই বিতর্কে দেখেছি তাকে কীভাবে প্ররোচিত করা হয়েছিল। কিন্তু যেভাবে তিনি সবকিছু বলেছেন এবং পরে বলেছেন তিনি একজন আইনজীবী ছিলেন তা লজ্জাজনক। পুরো দেশের কাছে তার ক্ষমা চাওয়া উচিত।’

হুমকির কথা উল্লেখ করে ভারতের বিভিন্ন স্থানে করা মামলা দিল্লিতে স্থানান্তরের আবেদন জানিয়েছিলেন নূপুর শর্মা। আদালত বিষয়টি আমলে না নেওয়ায় পরে তিনি আবেদন প্রত্যাহার করেন। তার আইনজীবী বলেছেন, হুমকির কারণে আবেদনে নিজের নাম উল্লেখ করেননি নূপুর শর্মা। কিন্তু বিচারপতিরা তার সমালোচনা করে বলেছেন, ‘তিনি হুমকির মুখে রয়েছেন নাকি তিনি একটি নিরাপত্তা হুমকিতে পরিণত হয়েছেন।’

আদালত জানায়, নূপুর শর্মার মন্তব্য ছিল ‘শান্তিভঙ্গকারী’। বেঞ্চের পক্ষ থেকে তার আইনজীবী সিনিয়র অ্যাডভোকেট মানিন্দার সিংয়ের কাছে জানতে চাওয়া হয়, এ মন্তব্য করায় তার (নূপুর শর্মা) কাজ কী? মানিন্দার সিং আদালতকে জানান, তার মক্কেল ক্ষমা চেয়েছেন। তখন বিচারপতিদের বেঞ্চ সমালোচনা করে বলে, তার উচিত ছিল টেলিভিশনে হাজির হয়ে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া। মন্তব্য প্রত্যাহারে তিনি অনেক দেরি করেছেন। সেই প্রত্যাহারও করেছেন শর্তসাপেক্ষে। তিনি বলেছেন, যদি অনুভূতিতে আঘাত লাগে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত