অধ্যক্ষ লাঞ্ছনার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমার পর নড়াইল সদর থানার ওসি মোহাম্মদ শওকত কবীরকে তার দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গত শনিবার রাতে তাকে প্রত্যাহার করে খুলনায় রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সে সংযুক্ত করা হয়। ওসি মোহাম্মদ শওকত কবীর মির্জাপুর ইউনাইটেড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য ছিলেন। শনিবার রাতে জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমার সময় তিনিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে অধ্যক্ষ লাঞ্ছিতের ঘটনায় হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। গতকাল রবিবার সদর আমলি আদালতে রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে বিচারক আমাতুল মোর্শেদা এই আদেশ দেন। আজ সোমবার থেকে আগামী বুধবার পর্যন্ত ওই চারজন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে থাকবেন।
ওসি শওকত কবীরকে প্রত্যাহারের বিষয়ে জানতে চাইলে নড়াইলের পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায় বলেন, পুলিশের খুলনা রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) কার্যালয় থেকে ওসিকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়। শনিবার রাত ১১টার দিকে এ সংক্রান্ত বার্তা আসে। পরে রাতেই শওকত কবীরকে সদর থানা থেকে খুলনায় রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সে (আরআরএফ) সংযুক্ত করা হয়। থানাটির পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাহামুদুর রহমানকে ওসির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে কী কারণে ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এ বিষয়ে কিছু বলেননি পুলিশ সুপার।
সদর থানার ওসির নতুন দায়িত্ব পাওয়া মাহামুদুর রহমান গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গতকাল (শনিবার) রাতেই মো. শওকত কবীর স্যার খুলনা আরআরএফ-এ চলে গিয়েছেন।’
অভিযোগ রয়েছে, গত ১৮ জুন মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিতের সময় সদর থানার ওসি মো. শওকত কবীর ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। এর কিছু দূরে নড়াইলের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান এবং পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায় উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্যও উপস্থিত ছিলেন।
তবে বিদায়ী ওসি শওকত কবীর দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি দূরে অবস্থান করছিলেন। অধ্যক্ষের গলায় জুতার মালা পরানোর বিষয়টি তার নজরে আসেনি।
ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সাময়িক বহিষ্কৃত মুখপাত্র নূপুর শর্মার ছবি দিয়ে নড়াইল সদরের এক কলেজছাত্র ফেইসবুকে পোস্ট দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে গত ১৮ জুন নড়াইল সদরের মির্জাপুর ইউনাইটেড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষে স্বপন কুমার বিশ্বাসের গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেওয়া হয়।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, ওই ছাত্র ফেইসবুকে পোস্ট দেওয়ার পরদিন কলেজে গেলে কিছু মুসলমান ছাত্র তাকে ওই পোস্ট মুছে ফেলতে বলেন। ওই সময় অধ্যক্ষ ওই ছাত্রের ‘পক্ষ নিয়েছেন’ এমন রটনা ছড়িয়ে পড়লে সেখানে উত্তেজনা তৈরি হয়। অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস কলেজ শিক্ষক, ওই শিক্ষার্থীর বাবা ও কলেজ পরিচালনা পরিষদের কয়েকজন সদস্যকে ডেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায় নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কলেজ ক্যাম্পাসে পুলিশ ডেকে ফেইসবুকে পোস্ট দেওয়া শিক্ষার্থীকে তাদের কাছে সোপর্দ করা হয়। পুলিশ সদস্যরা ওই শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাস থেকে নিয়ে যেতে চাইলে উত্তেজিত কিছু ছাত্র ও বহিরাগত কয়েকজন বাধা দেয়। তখন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে বিষয়টি জানানো হয়।
পরে বিকেলে শিক্ষক স্বপন কুমার বিশ্বাস এবং ওই শিক্ষার্থীকে কলেজের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে বের করা হয়। নিচতলার কলাপসিবল গেটের সামনে আনার পর পুলিশের উপস্থিতিতেই তাদের গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেওয়া হয়।
