পবিপ্রবিতে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনায় উৎপাদিত তেলাপিয়া ও পাঙ্গাস মাছের নিলাম

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২২, ০১:০৭ পিএম

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রবিবার (৩ জুলাই) সকাল ১০টায়  যুক্তরাষ্ট্রের ফিড দ্য ফিউচার ফুড সেফটি ইনোভেশন ল্যাবের অর্থায়নে পরিচালিত ‘এনহান্সিং ফুড সেফটি ইন ফিশ অ্যান্ড চিকেন ভ্যালু চেইন অ্যাক্টরস অব বাংলাদেশ’ প্রকল্পের অধীনে অধিকতর নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনায় উৎপাদিত তেলাপিয়া ও পাঙ্গাস মাছের নিলাম অনুষ্ঠিত হয়।

এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, অধিকতর নিরাপদ মাছ ক্রয়ে ভোক্তাদের মনোভাব বা আগ্রহ কেমন এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিবেচনায় প্রচলিত পদ্ধতিতে চাষকৃত মাছ থেকে অধিকতর নিরাপদ মাছ প্রাপ্তিতে ভোক্তারা কত দাম প্রদান করতে ইচ্ছুক তা জানা।

নিলাম উদ্বোধন করেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন প্রকল্পের আমেরিকান পরিচালক প্রফেসর ড. মদন মোহন দে। নিলাম প্রক্রিয়া সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন প্রকল্প বাংলাদেশ অংশের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. সাইদুর রহমান।

নিলামের উদ্দেশ্যে প্রচলিত পদ্ধতিতে চাষকৃত তেলাপিয়া ও পাঙ্গাস মাছ এবং অধিকতর নিরাপদ পদ্ধতিতে চাষকৃত তেলাপিয়া ও পাঙ্গাস মাছ পৃথক পাত্রে প্রদর্শন করা হয়।

নিলামের প্রথম পর্বে মাছের আকার ও রং দেখে উপস্থিত অর্ধ শতাধিক ক্রেতাকে মাছের দাম নির্ধারণ করতে বলা হয়।  পরবর্তীতে তাদের সামনে গবেষণাগারে প্রাপ্ত তথ্যগুলো তুলে ধরা হয় এবং বিভিন্ন জিজ্ঞাসার জবাব দেওয়া হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, নিরাপদ উপায়ে চাষকৃত মাছে ক্ষতিকর জীবাণুর উপস্থিতি একবারেই কম এবং কখনও কখনও অনুপস্থিত। অথচ প্রচলিত পদ্ধতিতে চাষকৃত মাছে এসব জীবাণুর পরিমাণ অপেক্ষাকৃত বেশি।

পবিপ্রবির উপাচার্য প্রফেসর ড স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত বলেন, ‘১০ বছর আমি পাঙ্গাশ মাছ খাই না, এই প্রজেক্টের মাছ দেখে নদীর মাছের মতো দেখাচ্ছে। গন্ধমুক্ত মাছ হলে আবার খেতে পারি।’

প্রকল্প বাংলাদেশ অংশের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. সাইদুর রহমান বলেন, ‘মাছের গুণাগুণ বিষয়ে গবেষণাগারে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রদর্শিত মাছের মূল্য নির্ধারণ করতে বলা হয়। সমগ্র নিলাম প্রক্রিয়ার কোন মাছ প্রচলিত পদ্ধতিতে চাষকৃত এবং কোন মাছ বিশেষ খাদ্য ব্যবস্থাপনায় চাষকৃত তা গোপন রাখা হয়। নিলাম প্রক্রিয়া শেষে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় চাষকৃত পাঙ্গাশ মাছ ১৬০ টাকা এবং তেলাপিয়া মাছ ১৭৫ টাকা দাম নির্ধারণ করা হয়। যা প্রচলিত পদ্ধতিতে উৎপাদিত মাছের দামের চেয়ে অপেক্ষাকৃত বেশি।’

ব্যাবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর আবুল বাশার খান বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য  নিশ্চিতে পাঙ্গাস ও তেলাপিয়া মাছ ভোক্তার কাছে কীভাবে জনপ্রিয় করা যায় এটা নিয়েই গবেষণা করছে এই প্রজেক্ট। তারই অংশ হিসেবে গন্ধমুক্ত মাছ উৎপাদন ও প্রদর্শন করা হচ্ছে।’

প্রফেসর বদিউজ্জামাল বলেন, ‘আজকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মের ল্যাবে জৈব পদ্ধতিতে চাষ করা গন্ধমুক্ত ও নিরাপদ তেলাপিয়া ও পাঙ্গাশ মাছ ভোক্তাদের কাছে প্রদর্শিত করা হয়। প্রদর্শিত এই মাছ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে গাড়িতে করে  প্রায় ১০ ঘণ্টা পরিবহন করে আনা হয়েছে । এই মাছের পাশাাপাশি লোকাল মাছ ও প্রদর্শিত করা হয়েছে। যাতে ভোক্তারা সহজে  তুলনা করতে পারে এবং কেমন দাম দেবে এটা নির্ধারণ করাতে পারে।’

নিলাম প্রক্রিয়া শেষে জানা যায় যে, ভোক্তারা প্রচলিত পদ্ধতিতে চাষকৃত তেলাপিয়া ও পাঙ্গাস মাছের চেয়ে অধিকতর নিরাপদ পদ্ধতিতে চাষকৃত তেলাপিয়া ও পাঙ্গাস মাছ যথাক্রমে ২০ শতাংশ ও ২৫ শতাংশ অধিক দামে ক্রয় করেন, যা ক্রেতাদের স্বাস্থ্য সচেতনতা ও নিরাপদ খাদ্যের প্রতি আগ্রহের একটি বহিঃপ্রকাশ। গবেষণালব্ধ ফলাফল ও ভোক্তাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে বিবেচনায় নিয়ে নীতি-নির্ধারক ও সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলকে নিরাপদ মাছ চাষের বাণিজ্যকরণে আশু পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রকল্প সংশ্লিষ্ট গবেষকবৃন্দ আহ্বান জানান।

প্রকল্পটি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস স্টেন ইউনিভার্সিটি এবং বাংলাদেশের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে প্রধান গবেষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান। গবেষণা দলের অন্য সদস্যরা হচ্ছেন বাকৃবির প্রফেসর ড. মো. আখতারুজ্জামান খান, প্রফেসর ড. কে. এইচ. এম. নাজমুল হুসাইন নাজির, প্রফেসর ড. আব্দুল আলিম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সহযোগী প্রফেসর ড. সামিনা লুৎফা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত