ঈদুল ফিতরে ডাবল বাউন্ডারি হাঁকানোর পর ঈদুল আজহায়ও সিনেমা হল মাতাতে আসছেন এ সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পূজা চেরী। মুক্তির দিন গুনছে তার অভিনীত সিনেমা ‘সাইকো’। তার সঙ্গে কথা বলেছেন রণ
প্রচারণা...
যখনই আমার সিনেমা মুক্তির সময় আসে, আমি মনপ্রাণ নিয়ে প্রচারণা করি। এর পেছনে দুটি কারণ আছে। প্রথমত, আমাদের দেশের দর্শকের মধ্যে সিনেমা দেখার অভ্যাস সেভাবে গড়ে ওঠেনি। তাই নতুন কী ছবি আসছে, কী ছবি যাচ্ছে, কেউ সেভাবে খোঁজ রাখে না। কিন্তু তারা যদি জানতে পারে একটি ভালো ছবি আসছে তাহলে কিন্তু হলে যায়। এর প্রমাণ আমি এর আগে অনেকবার পেয়েছি। দ্বিতীয় কারণ হলো, আমি কোনো সিনেমা সিলেক্ট করার সময় অনেক বিচার-বিশ্লেষণ করি। ছবির গল্প, মেকিং, আমার চরিত্র, বাজেট সবকিছু ঠিকঠাক হলেই কাজ করি। এরপর শ্যুটিংয়ের সময় শতভাগ মনোযোগী থাকি। তাই আমার সিনেমা নিয়ে নিজের মধ্যেই এক ধরনের কনফিডেন্স থাকে। আমি দর্শককে অনুরোধ করব সিনেমা হলে যেতে আর তারা সিনেমা দেখার পর বলবে ছবি ভালো হয়নি, এমন হবে না। এজন্যই আমি প্রচারে বরাবরই মনোযোগী। এখন শেষ মুহূর্তের প্রচার নিয়ে ব্যস্ত আছি। সব ঠিক থাকলে ‘সাইকো’ আসছে আপনার পাশের প্রেক্ষাগৃহে। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ছবিটি উপভোগ করার অনুরোধ রইল।
সাইকো...
‘সাইকো’ একটি থ্রিলার ছবি। তাই এর মধ্যে টানটান উত্তেজনা তো থাকছেই। সঙ্গে প্রেম-ভালোবাসা, দারুণ কিছু গান, সুন্দর নির্মাণশৈলী, লোকেশনসহ জমজমাট একটি গল্প থাকছে। পরিচালক অনন্য মামুন জানেন, তার গল্পটি ঠিক কীভাবে বলতে চান। নায়ক রোশানের সঙ্গে প্রথমবার কাজ করলাম। এর আগেও তার সঙ্গে কাজের কথা হচ্ছিল। কিন্তু নানা কারণে হয়ে ওঠেনি। সে বাইরে থেকে দেখতে খুব চুপচাপ, কিন্তু ভেতরে-ভেতরে খুবই দুষ্টু প্রকৃতির। আমিও সেটে সারাক্ষণ হাসি-তামাশায় মেতে থাকি। কারণ আমাদের কাজটা অনেক পরিশ্রম আর ধৈর্যের। তাই সবাই যাতে একটু হাসি-খুশি থেকে কাজ করতে পারে এজন্য আমি সবার সঙ্গে দুষ্টুমি করতে থাকি। তবে অ্যাকশন বলার পর আমি যেন অন্য পূজা হয়ে যাই। যখন ক্যারেক্টারের মতো করেই আচরণ করি।
অভিজ্ঞতা...
এই ছবির অভিজ্ঞতা আমার আজীবন মনে থাকবে। প্রথমবার আইটেম গানে নেচেছি এর জন্য। নেপালে শ্যুটিয়ের সময় সিনেমার ইউনিট থেকে যে কয়টা পোশাক দেওয়া হয়েছিল তার মধ্যে একটি পোশাক দেখে আমার মনে হচ্ছিল এটি বাংলাদেশের মানুষ সহজভাবে নিতে পারবে না। তা ছাড়া আমি নিজেও কম্ফোর্টেবল ফিল করব না। সেই ড্রেসের বদলে নতুন একটি ড্রেস খুঁজতে মাইনাস ৯ ডিগ্রি তাপমাত্রার মধ্যে নেপালের বিভিন্ন শপিং মলে কয়েক ঘণ্টা ঘুরেছি। পরে মনমতো পোশাক কিনে এনে শ্যুটিং করেছি।
প্রত্যাশা...
আমার প্রতিটি ছবি নিয়েই বেশ ভালো রকম প্রত্যাশা থাকে। কারণ এ পর্যন্ত দর্শক প্রতিবার আমাকে মন উজাড় করে ভালোবাসা দিয়েছে। তাই ‘সাইকো’ নিয়েও প্রত্যাশা অনেক বেশি। আসলেই ভালো একটি সিনেমা হয়েছে। আশা দর্শক হলে গেলে নিরাশ হবেন না। আর ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই যেহেতু আমার সিনেমা ঈদে মুক্তি পেয়ে আসছে, তাই আমি অন্য যত সিনেমা আসুক না কেন তাদের কমপিটিশন মনে করি না। কারণ দর্শক জানেন যে কী ধরনের সিনেমায় কাজ করেন। তারা ভালোটাই বেছে নেন দিন শেষে।
