বিলাস পণ্য আমদানিতে জমা দিতে হবে পুরো অর্থ

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২২, ১২:৪৭ এএম

আমদানির চাপ কমাতে কিছু বিলাস পণ্যের ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে মূল্যের পুরো টাকাই আগাম জমার শর্ত দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ফলে আমদানিকারকদের বিনিয়োগ বাড়াতে হবে এবং আমদানিকৃত পণ্যের দামের ওপর বাড়তি বিনিয়োগের প্রভাব পড়বে। এতে ধীরে ধীরে আমদানি নিরুৎসাহিত হবে বলে আশা করছে ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে সেডান, এসইউভি, এমপিভি প্রভৃতি মোটরগাড়ি, ইলেকট্রিক্যাল এবং ইলেকট্রনিক্স হোম অ্যাপ্লায়েন্স, স্বর্ণ ও স্বর্ণালঙ্কার, মূল্যবান ধাতু ও মুক্তা, তৈরি পোশাক,  চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, প্রসাধনী, আসবাবপত্র ও সাজসজ্জা সামগ্রী, ফল ও ফুল, নন সিরিয়াল ফুড যেমন অ-শস্য খাদ্যপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যদ্রব্য ও পানীয়; যেমন টিনজাত খাদ্য, চকোলেট, বিস্কিট, জুস, সফট ড্রিংকস প্রভৃতি অ্যালকোহল জাতীয় পানীয়, তামাক, তামাকজাত বা এর বিকল্প পণ্যসহ অন্যান্য বিলাসজাতীয় পণ্যের আমদানি ঋণপত্র খুলতে ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিন সংরক্ষণ করতে হবে। এতদিন ৭৫ শতাংশ মার্জিন ছিল।

এ ছাড়া অন্যান্য পণ্য আমদানির এলসি খোলার ক্ষেত্রে মার্জিন হার ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আমদানির এলসির নগদ মার্জিন গ্রাহকের নিজের অর্থ থেকে পরিশোধ করতে হবে; এজন্য কোনো ধরনের ব্যাংকঋণ পাওয়া যাবে না।

তবে শিশু খাদ্য, জ্বালানিসহ অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যপণ্য, জীবন রক্ষাকারী ওষুধ, স্থানীয় ও রপ্তানিমুখী শিল্প এবং কৃষি খাতসংশ্লিষ্ট পণ্য আমদানির ঋণপত্র এ নির্দেশনার বাইরে থাকবে। গত সোমবার ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়ে সার্কুলার জারি করেছে।

এতে বলা হয়, কভিড-১৯ এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব এবং বহির্বিশ্বে সাম্প্রতিক যুদ্ধাবস্থা প্রলম্বিত হওয়ার কারণে চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশের মুদ্রা ও ঋণ ব্যবস্থাপনা অধিকতর সুসংহত রাখার লক্ষ্যে আমদানি ঋণপত্র স্থাপনের ক্ষেত্রে নগদ মার্জিন হার পুনর্নির্ধারণ করা হলো।

তবে শিশুখাদ্য, অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যপণ্য, জ্বালানি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর স্বীকৃত জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও সরঞ্জামসহ চিকিৎসাসংক্রান্ত কাজে ব্যবহৃত দ্রব্যাদি, উৎপাদনমুখী স্থানীয় শিল্প ও রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য সরাসরি আমদানি করা মূলধনী যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল, কৃষি খাতসংশ্লিষ্ট পণ্য এবং সরকারি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের ওপর কোনো মার্জিন আরোপ করেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এটি বলবৎ থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

আমদানি প্রবৃদ্ধি বেশি থাকায় বিদায়ী অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় রিজার্ভ থেকে অর্থবছরের পুরো সময়ে ৭৬২ কোটি ডলার বিক্রি করতে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চলতি অর্থবছরে যাতে আমদানি প্রবৃদ্ধি কমে আসে সে লক্ষ্যে গত ৩০ জুন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অনুষ্ঠিত মুদ্রানীতিতে আমদানি নিরুৎসাহিত করতে এলসি মার্জিন বাড়ানোর কথা বলেছিলেন বিদায়ী গভর্নর ফজলে কবির।

মূলত করোনা মহামারীর প্রকোপ কমে আসায় বিদায়ী অর্থবছরের শুরু থেকেই আমদানির চাপ বাড়তে থাকে। এর মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর জ¦ালানি তেল, গমসহ অনেক ধরনের পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় জাহাজ ভাড়াও বাড়তে থাকে। এর ফলে দেশের আমদানি ব্যয়ে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দেয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) ৭ হাজার ৫৪০ ডলারের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এই সময়ে ৪ হাজার ৪৫৮ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করে দেশ। এই সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধি এবং ডলারের মূল্যবৃদ্ধিও ঘটতে থাকে। গত দেড় মাসেই ডলারের দর বেড়েছে ৭ টাকা। এই চাপ সামাল দিতে এবার আমদানিকারকদের বিনিয়োগের খরচ বাড়িয়ে আমদানি নিরুৎসাহিত করতে চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত