প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদ হাসানকে সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শেখ সাদী এ আদেশ দেন। গতকাল বুধবার দুপুরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রামীণ টেলিকম কর্র্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও কয়েকজন সিবিএ নেতার যোগসাজশে তড়িঘড়ি করে শতাধিক মামলা থেকে গ্রামীণ টেলিকমকে ইনডেমনিটি দেওয়ার জন্য বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গত ৪ জুলাই মিরপুর মডেল থানায় একটি মামলা করেন গ্রামীণ টেলিকম কর্মচারী ইউনিয়নের অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান। মামলার অভিযোগে বলা হয়, অবৈধ আর্থিক সুবিধা লাভের আশায় গ্রামীণ টেলিকমের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আইনজীবীদের যোগসাজশে গ্রামীণ টেলিকম কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে গোপন চুক্তি করে শ্রমিক-কর্মচারীদের করা মামলাগুলো প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য করেন। পাশাপাশি লভ্যাংশ দেওয়ার জন্য গ্রামীণ টেলিকম কর্র্তৃপক্ষ কর্র্তৃক সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্টে দেওয়া ৪৩৭ কোটি টাকা থেকে ২৬ কোটি ২২ লাখ টাকা ইউনিয়নের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করেন। ওই অর্থ থেকে তিন শ্রমিক নেতা ৩ কোটি করে ৯ কোটি টাকা উত্তোলন করেন এবং তাদের সহায়তাকারী আইনজীবীদের ১৬ কোটি টাকা দেন। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগ গত মঙ্গলবার ওই মামলার আসামি মো. কামরুজ্জামান এবং ফিরোজ মাহমুদ হাসানকে গ্রেপ্তার করে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন জানিয়েছেন যে, গ্রামীণ টেলিকম কর্র্তৃপক্ষ অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার প্রলোভনের পাশাপাশি তাদের হুমকি দেয়। গ্রামীণ টেলিকম কর্র্তৃপক্ষ বলে, শিগগিরই বাংলাদেশের পরিস্থিতি শ্রীলঙ্কার মতো হবে এবং ক্ষমতার পটপরিবর্তনে দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তখন শ্রমিকদের দায়ের করা এসব মামলা কোনো কাজে আসবে না এবং কেউ কোনো ক্ষতিপূরণও পাবে না। বরং শ্রমিক নেতাদের জেল খাটাসহ নানা নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হবে। মূলত এই ভয়ে এবং অতিরিক্ত অর্থ প্রাপ্তির প্রলোভন থেকেই আইনজীবীদের পরামর্শে দ্রুততম সময়ে মামলা তুলে নিতে রাজি হয় শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন। গ্রামীণ টেলিকম কর্র্তৃপক্ষ ও আইনজীবীদের তরফ থেকে এ বিষয়ে কঠোর গোপনীয়তা অবলম্বনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়।’
এদিকে গতকাল গ্রামীণ টেলিকম ইউনিয়নের আইনজীবী মো. ইউসুফ আলীর ১২ কোটি টাকা ফিস গ্রহণের বিষয়ে অধিকতর তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে একটি রিট করেছেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম। হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে এ পিটিশন দাখিল করা হয়। রিটে সংসদ সচিব, বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, বার কাউন্সিলের সচিব ও অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আলীকে বিবাদী করা হয়েছে। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি এসএম মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে রিট পিটিশনটির শুনানি হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
