ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের কমিটি গঠনে টাকা নেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি। তিনি বলেন, ‘কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ আসতেই পারে। অভিযোগ আসলে তা খতিয়ে দেখার জন্য আমাদের দলীয় ফোরামে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা আছেন। অতএব নিশ্চয় এই অভিযোগ সত্যি কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে।’
গতকাল বুধবার বিকেলে চাঁদপুর সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি এসব কথা বলেন।
গতকাল দেশ রূপান্তরে ‘ছাত্রলীগের পদ কোটি টাকা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। আওয়ামী লীগের এই ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনটির কয়েকজন সহসভাপতিসহ অন্তত এক ডজন নেতার সঙ্গে কথা বলে তৈরি করা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মহানগর শাখা ছাত্রলীগের কমিটিসহ বিভিন্ন স্তরের কমিটির পদের বিনিময়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য্য কোটি টাকা পর্যন্ত নেন।
চাঁদপুরে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের অর্থের বিনিময়ে কমিটি অনুমোদন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘পত্র-পত্রিকায় অনেক সময় অনেক ধরনের খবর আসে। কোনো খবর আসলে আমরা তা ফেলে দিব তা নয়। গণমাধ্যমে সত্য যেমন খবর আসে, আবার অনেক সময় একেভাবে বানোয়াট খবরও আসে। এক্ষেত্রে সবার কাছ থেকেই দায়িত্বশীলতা আশা করি।’
এদিকে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় তার ধারণক্ষমতা অনুযায়ী শিক্ষার্থী বেছে নিয়েছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ফেল করাচ্ছে, তা কিন্তু নয়। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ধারণক্ষমতা রয়েছে। সেই অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বাছাই করছে। যারা সেই বাছাইয়ে আসছে না তারা যে অকৃতকার্য হচ্ছে বা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছে না, তা কিন্তু নয়।’
বিষয়টি নেতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মন্ত্রী বলেন, ‘একই জিনিসকে দেখবার অনেক দৃষ্টিভঙ্গি থাকে। বলা হচ্ছে এত শিক্ষার্থীকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। কথা কিন্তু তা নয়, বিশ^বিদ্যালয় তার ধারণক্ষমতা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের বেছে নিয়েছে, বাকিরা অন্যান্য জায়াগায় যাবেন।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায়, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুর রহমান প্রমুখ।
