ব্রাজিলে বিশ্বের বৃহত্তম শহুরে বাগান

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২২, ১১:২৫ পিএম

ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি, অর্থনৈতিক মন্দায় বিপর্যস্ত ব্রাজিলের অর্থনীতি। অনাহারে দিন কাটাচ্ছে দেশটির অনেক মানুষ। এমন পরিপ্রেক্ষিতে রিও ডি জেনিরো শহরের উত্তরাঞ্চলে বস্তি এলাকায় করা জৈব শাকসবজির বাগান প্রকল্প শহরবাসীদের কিছুটা হলেও স্বস্তি দিয়েছে। বাগানের কাজ বদলে দিয়েছে জীবন। লিখেছেন তৃষা বড়ুিয়া    

বাগানের নেপথ্যে

ফারনান্দা দা সিলভা। থাকেন ব্রাজিলের বিশাল সমুদ্রতীরবর্তী শহর রিও ডি জেনিরোর এক বস্তিতে। ৪০ বছর বয়সী ফারনান্দা তিন সন্তানের জননী। ২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারীর সময় চাকরি হারান তিনি। অনেক চেষ্টা করেও সে সময় কোনো চাকরি জোটাতে পারেননি ফারনান্দা। সংসারের পুরো ব্যয়ভার তার দারোয়ান স্বামীর ওপর এসে পড়ে। মাসে মাত্র আড়াইশো ডলার আয় ছিল ফারনান্দার স্বামীর। এই দিয়ে পাঁচ সদস্যের এই পরিবারকে চলতে হতো। ফারনান্দার স্বামীর একার আয়ে যে সংসার ঠিকঠাক চলত না, তা বলাই বাহুল্য। বেশির ভাগ দিনই খাবার কেনার মতো অর্থ তাদের হাতে থাকত না। অবশ্য ফারনান্দার পরিবার একা নয়, ব্রাজিলের আরও লাখ লাখ দরিদ্র মানুষকে সে সময় অনাহারে, অর্ধাহারে দিন কাটাতে হয়। মহামারীর আঘাতের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন মূল্য, মুদ্রাস্ফীতিসহ অর্থনৈতিক সংকট ছিল তাদের দুরবস্থার মূল কারণ। ফারনান্দা যে বস্তিতে থাকেন, তার কাছে খালি জায়গায় বছর কয়েক আগে জৈব শাক-সবজির বাগান করে পৌরসভা। তিনি জানতে পারেন, বাগানে যারা কাজ করছে, তাদের মাসে ৯৫ ডলার করে দেওয়া হচ্ছে। বেকার ফারনান্দা ভাবলেন, ঘরে বসে না থেকে বাগানে কাজ করে মাসে ৯৫ ডলার পেলে মন্দ কী? সন্তানদের মুখে অন্তত কিছু খাবার তুলে দেওয়া যাবে। গত বছর স্থানীয়দের সঙ্গে মিলে বাড়ির কাছে বাগানে শাক-সবজির চাষ করা শুরু করেন ফারনান্দা। বাগানটি যে বছরশেষে আকারে আরও বড় হয়ে হাজার হাজার স্থানীয় মানুষের খাদ্যের চাহিদা মেটাবে, তা হয়তো শুরুতে জানতেন না তিনি। এই বাগান যে পৌরসভার উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ, সে সম্পর্কেও কোনো ধারণা ছিল না তার। রিও ডি জেনিরো শহরের ভেতরের ওই বাগানে এখন ফারনান্দাসহ কাজ করে আশপাশের কয়েকটি বস্তির অর্ধশত মানুষ। বাগানে উৎপন্ন টাটকা শাক-সবজি বাজারে বিক্রি করে ঘরেও নিয়ে যেতে পারেন তারা। এর জন্য তাদের অর্থ দেওয়া লাগে না। লেটুস, বিটরুট, গাজর, মূলাসহ হরেক রকমের শাকসবজির ক্ষেতের আগাছা পরিষ্কার করতে করতে ফারনান্দা বলেন, ‘বছরখানেক আগে আমার কোনো আয়ই ছিল না। অনেক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে আমার পরিবারকে। ঘরে খাবার ছিল না। বাচ্চারা না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ত। এখন সকালে বাগানের উদ্দেশে বের হয়ে বিকেলে তাজা সবজি নিয়ে ঘরে ফিরি। সেসব রান্না করে স্বামী-সন্তানদের খাওয়াই।’

রিও ডি জেনিরো শহরের উত্তরাঞ্চলে ম্যানগুইনহস, মাদুরেইরা, কাজুইরোসহ আরও কয়েকটি দরিদ্র এলাকায় শহুরে বাগানের কাজ করছে পৌরসভা। পোস্টকার্ডে বা ইন্টারনেটে শহরটির যে বিশাল সমুদ্র সৈকত ও সবুজ পাহাড়ের মনোরম দৃশ্য দেখা যায়, সেখান থেকে অনেক দূরে এসব এলাকার অবস্থান। এখানে আগে আবর্জনা ফেলা হতো। এ ছাড়া ছিল মাদকসেবী ও  চোরাকারবারিদের আনাগোনা। শহুরে বাগানটি রিও ডি জেনিরো পৌরসভার হরটাস কারিওকাস নামের এক সবুজ প্রকল্পের অংশ। ২০০৬ সালে পৌরসভায় কর্মরত কৃষিবিদ জুলিও সিজার বারোস এই প্রকল্প নিয়ে কাজ করা শুরু করেন। এখন এই প্রকল্পে ৫৫টি বাগান রয়েছে। স্কুল চত্বর, বস্তি ও রেললাইনের আশপাশের এলাকাসহ খোলা জায়গা এসব বাগানের অন্তর্ভুক্ত। হরটাস কারিওকাস প্রকল্প পরিচালনা ও অর্থায়নের দায়িত্বে রয়েছে পৌরসভা আর স্থানীয়রা প্রতিটি বাগান পরিচর্যার কাজে নিযুক্ত। এজন্য প্রতি মাসে তাদের পৌরসভার পক্ষ থেকে সামান্য বেতনও দেওয়া হয়। রোসিলদে রদরিগেজ নামের স্থানীয় এক নারী বলেন, ‘বাগানে কাজ করে খুব বেশি আয় হয় না আমাদের কিন্তু এখানে কাজ করে আমরা যে আনন্দ পাই তা অন্য কোথাও পাই না। বাগানচাষিদের দলে যোগ দেওয়ার পর আমার মানসিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি শারীরিক স্বাস্থ্যেরও উন্নতি হয়। ৭/৮ বছর আগে এখানে কাজ করা শুরু করি। প্রতিবেশীদের সঙ্গে কাজ করতে করতে এতগুলো বছর কোন দিক দিয়ে চলে গেল, টেরই পেলাম না।’ গত বছরের সেপ্টেম্বরে রিও ডি জেনিরোর মেয়র বলেছিলেন, ‘ম্যানগুইনহস এলাকায় শহুরে বাগানের প্লট চারটি ফুটবল মাঠের সমান করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল শুরুতে। সেটি হলে এই বাগান হতো লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় কমিউনিটি বাগান। পরে বাগানের আয়তন আরও বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করা হয়। আমরা যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে পারি, তাহলে এটি কেবল লাতিন আমেরিকা নয়, গোটা বিশ্বের সবচেয়ে বড় শহুরে বাগান হবে।’

হরটাস কারিওকাস প্রকল্পের প্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক বারোস জানান, বাগানের আয়তন আরও বাড়ানোর কারণে আশপাশের পাঁচটি বস্তির মানুষ উপকৃত হবে। বিদ্যমান বাগানের মডেল অনুযায়ীই বর্ধিত বাগানের নকশা করা হয়েছে। শুরু থেকে বস্তিবাসীদের দিয়ে বাগানচাষিদের দল গঠন করা হয়, পরেও তাই হবে। এই কমিউনিটি বাগান প্রকল্প পরিকল্পনার সময় একটি বিষয়ে আমরা জোর দিই। উৎপাদিত পণ্যের অর্ধেক অবশ্যই স্থানীয়দের দান করতে হবে। বাকি অর্ধেক বাগানচাষিরা চাইলে বাজারে বিক্রি করতে পারবে। আরেকটি যে বিষয়ে আমরা গুরুত্ব দিই তা হলো, বাগানচাষিরা এই প্রকল্পে বিনামূল্যে কাজ করবে না, খুব অল্প করে হলেও তাদের প্রতি মাসে বেতন দেওয়া হবে। 

পুরোটাই জৈব

কৃষিবিদ জুলিও সিজার বারোসের শহুরে বাগান নিয়ে কাজ করার প্রধান কারণ ছিল রিও ডি জেনিরো শহরে বিভিন্ন বস্তিতে থাকা লোকজনের আয়ের উপায় বের করা। এর মাধ্যমে বস্তিবাসীদের অভাব-অনটন দূর করার পাশাপাশি বস্তিতে থাকা অত্যন্ত দরিদ্র ও অসহায় পরিবারগুলোকে সাহায্য-সহযোগিতা করা। এসব লক্ষ্যেই কমিউনিটি গার্ডেনিংয়ের চিন্তা মাথায় আসে তার। প্রকল্পের পুরো কাজ শেষ হতে ২০২৪ সাল লেগে যাবে। বারোস মনে করছেন, ওই সাল থেকে প্রতি বছর প্রায় ৫০ হাজার স্থানীয় পরিবারের খাবারের চাহিদা পূরণ করবে এই বাগান। রিও ডি জেনিরোর শ্রমিক শ্রেণি অধ্যুষিত এলাকা কাজুইরোর যেখানে বাগানটি করা হয়, সেখানে একসময় আফ্রিকান দাসরা বাস করত। দাস মালিকদের কাছ থেকে তারা পালিয়ে ওই এলাকায় বসতি গড়েছিল। ২০১৬ সালে রিও ডি জেনিরোতে অলিম্পিক গেইমস শুরুর আগে কাজুইরো এলাকায় একটি পার্ক নির্মাণ করে ব্রাজিল সরকার যাতে লোকজন পার্কে বসে অলিম্পিক গেইমস উপভোগ করতে পারে। এ কারণে ওই এলাকার প্রায় নয়শো পরিবারকে সে সময় উচ্ছেদ করা হয়। সেই পার্কের ছোট এক টুকরো জায়গা এখন পৌরসভার শহুরে বাগানের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। কাজুইরো এলাকায় বাগানের আয়তন এখন একটি ফুটবল মাঠের সমান। এর পুরোটা জুড়ে শাকসবজি চাষ করা হচ্ছে। কৃষিবিদ বারোস আশা করছেন, ২০২৪ সালের শেষে শহুরে বাগানের আয়তন দশ গুণ অর্থাৎ ১ লাখ ১০ হাজার বর্গমিটার বা ২৭ একর বৃদ্ধি পাবে। এই বাগানে উৎপাদিত পণ্য বাজারে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হবে। এ ছাড়া রিও ডি জেনিরো শহরের উত্তরাঞ্চলীয় বিভিন্ন এলাকার বস্তিবাসীদের মহামারীসহ যে কোনো সংকট বা দুর্যোগের সময়ে বাগানের উৎপাদিত ফসল দান করা হবে। বাগানের শাক-সবজি বিক্রি করে যে মুনাফা হবে, তা বাগানচাষিদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। প্রকল্পের উদ্যোক্তা বারোস বলেন, ‘রিও ডি জেনিরোর বাগানে যে শাকসবজি উৎপাদন করা হয়, তাতে কোনো রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয় না। আমরা বিশ্বকে দেখাতে চাই, রিও ডি জেনিরোর মতো বড় শহরের ভেতরেই বিস্তৃত অঞ্চলে জৈব খাদ্য উৎপাদন সম্ভব।’

বর্ধিত খাদ্যসংকট

লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে খাদ্যসংকট প্রতি বছরই বাড়ছে। জনগণের খাদ্যের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটির সরকার। এমন পরিপ্রেক্ষিতে রিও ডি জেনিরোর বস্তি এলাকায় শহুরে বাগান কিছুটা হলেও দেশটির জনগণকে আশার আলো দেখাচ্ছে। একসময় দেশের মানুষের ক্ষুধা ও অপুষ্টি দূরীকরণে বিশ্বে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে ব্রাজিল। এর প্রধান কারণ সে সময় ব্রাজিল সরকার খাদ্যসহ নাগরিকদের অন্যান্য মৌলিক অধিকারের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করত। এতে লাখ লাখ ব্রাজিলিয়ান দারিদ্র্যের হাত থেকে মুক্তি পায়। ২০০৪ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে ব্রাজিলে ক্ষুধার্ত মানুষের হার ৯.৫ শতাংশ থেকে নেমে ৪.২ শতাংশ হয়। তবে গত কয়েক বছরে অর্থনৈতিক মন্দা, করোনাভাইরাস মহামারী ও ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি দেশটির অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে তোলে। গত মাসে এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রাজিলের জনসংখ্যার ১৫.৫ শতাংশ অর্থাৎ ৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষ অনাহারে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে। রিও ডি জেনিরোর এক নাগরিক সংগঠনের প্রধান লুসিয়ের কোস্তা বলেন, ‘কাজুইরোসহ অন্যান্য এলাকায় শহুরে বাগান প্রকল্প এমন সময় বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে যখন দেশের অনেকে খাদ্যের অধিকার থেকে বঞ্চিত। রিও ডি জেনিরোর বাসিন্দারা অনবদ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আমি মনে করি, এই প্রকল্প দেশের অন্যান্য এলাকার মানুষদের অনুপ্রাণিত করবে। অনাহারে থাকা জনগোষ্ঠী এর মাধ্যমে উপকৃত হবে।’ শহুরে বাগান নিয়ে উৎসাহী বাগানচাষি ফারনান্দা বলেন, ‘এই প্রকল্পের অংশ হওয়া আমার জন্য অনেক আনন্দের বিষয়। মাটি ও গাছপালা নিয়ে কাজ করতে কার না ভালো লাগে? জীবনকে অন্যভাবে দেখার সুযোগ করে দিয়েছে এই বাগান প্রকল্প।’

জীবন পাল্টানো প্রকল্প

মাদুরেইরা এলাকার বাগান দেখিয়ে প্রকল্পের প্রতিষ্ঠাতা বারোস বলেন, ‘বর্ধিত বাগানের মধ্যে এটিও পড়েছে। এই প্রকল্পের মধ্য দিয়ে কেবল খাদ্যের ঘাটতিই পূরণ হবে না, যেসব এলাকা পৌরসভা প্রায় হারাতে বসেছিল, সেসবও পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে। মাদুরেইরো ঐতিহাসিকভাবে কৃষি এলাকা। এখান থেকে একসময় শহরের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে পণ্য পাঠানো হতো। এই এলাকার মানুষ সে সময় জীবিকার জন্য কৃষির ওপর অনেক নির্ভরশীল ছিল। এক দশক আগে মাদুরেইরা এলাকায় পার্ক নির্মাণ করা হলে কৃষিপণ্যের উৎপাদন ব্যাহত হয়। এখন এখানে জৈব খাদ্য উৎপাদন করে সেই ঘাটতি কিছুটা মেটানো সম্ভব হবে। যারা এই মাদুরেইরা এলাকায় আগে কৃষিকাজ করতেন, তাদের শহুরে বাগান প্রকল্পে যুক্ত করা হয়েছে। এই প্রকল্পকে সংস্কৃতির পুনরুজ্জীবন বললে অত্যুক্তি হবে না।’ রিও ডি জেনিরোর শহুরে বাগান নিয়ে গর্ববোধ করেন বারোস। ২০২০ সালে এই প্রকল্প থেকে ৮২ টন শাকসবজি উৎপাদন করা হয়। এসব পণ্যের বেশির ভাগই করোনাভাইরাস মহামারীতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে দান করা হয়।

শহুরে বাগান প্রকল্প রিও ডি জেনিরোর বস্তির মানুষের জীবনে খাদ্য সংকট দূর করাসহ আরও কল্যাণ বয়ে আনে। এই প্রকল্পের কারণে তাদের সন্তান স্কুলে যেতে পারছে। জীবন এখন তাদের কাছে আগের চেয়ে অনেক বেশি উপভোগ্য মনে হয়। শহরের উত্তরাঞ্চলীয় ম্যানগুইনহস এলাকায় বাগানচাষিদের দল পরিচালনাকারী ইজেকুয়েল ডিয়াস আরিস বলেন, ‘আমি এখানকার লোকজনদের প্রায়ই বলি, হরটাস কারিওকাস প্রকল্পের আরেক নাম জীবন রক্ষাকারী প্রকল্প। আমি পাঁচ বছর বেকার ছিলাম। ২০১৩ সালে এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হই। এই বাগান না থাকলে আমি হয়তো আজ মাদক বিক্রি করতাম নয়তো জেলে থাকতাম। মরেও যেতে পারতাম।’                    

আরিসের সঙ্গে একমত পোষণ করেন চার সন্তানের পিতা ৩০ বছর বয়সী ডগলাস ডস সানতোস। তিনি বলেন, ‘জীবনে প্রথম নিজেকে সমাজের জন্য মূল্যবান মনে হচ্ছে। মানুষজন এখন আমাকে শ্রদ্ধার চোখে দেখে, যার স্বাদ আগে কখনো পাইনি। এই প্রকল্পে এসে কৃষিকাজ শিখি। রেলপথের মাঝের খালি জায়গায়, নালার ধারে, মাদুরেইরা পার্কে সাইকেল চলাচলের পথের পাশে যে বাগান করা হয়েছে, সেটির দায়িত্বে আছি আমি। আমার দলে আট জন কাজ করে। আমিই এই দলের নেতা।’ বাগান নিয়ে সানতোস গর্ববোধ করলেও এই প্রকল্পের ত্রুটি নিয়ে চিন্তিত তিনি। তার মতে, বস্তিবাসীদের সংগঠন এবং পৌরসভা নিয়ন্ত্রণ করা মাদক পাচারকারী উভয়ের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক বজায় রাখা সহজ নয়। এ ছাড়া স্থানীয় রাজনীতিকরা প্রায়ই বাগানকে তাদের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে ব্যবহারের চেষ্টা করেন। তাদের ঠেকানোও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এই প্রকল্পে পৌরসভার অংশগ্রহণ যতটা না সাহায্য করে, তার চেয়ে অনেক সময় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে বেশি। এসব সমস্যা সত্ত্বেও কৃষিবিদ বারোসের প্রকল্প রিও ডি জেনিরোর পৌরসভা প্রশাসনকে উল্লেখযোগ্য সহায়তা করে। বিশেষ করে এই প্রকল্প সার্থক করার জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের অঙ্গীকার ও উৎসাহ-উদ্দীপনা চোখে পড়ার মতো। খালি হাতে মাটি সরাতে সরাতে স্মিত হাস্যে রোসিলদে রদরিগেজ বলেন, ‘আমি এই প্রকল্প ছেড়ে কোথাও যাচ্ছি না। এটি আমাদের জীবন বাঁচিয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত