বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিকৃত পণ্যের প্রায় ৮২ শতাংশই ছিল তৈরি পোশাক। এ পোশাক রপ্তানির ২১ দশমিক ১৫ শতাংশই গেছে যুক্তরাষ্ট্রে। তাছাড়া আগের অর্থবছরের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৫১ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি থেকে দেশ আয় করেছে ৪ হাজার ২৬১ কোটি ৩২ লাখ ডলার। এর মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৯০১ কোটি ৩১ লাখ ডলারের। এর আগে কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এক অর্থবছরে এত পোশাক রপ্তানি হয়নি। ২০২০-২১ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি করে ৫৯৪ কোটি ৬৪ লাখ ডলার আয় করেছিল দেশ। আলোচিত সময়ে সামগ্রিকভাবে দেশের পোশাক রপ্তানির প্রায় ৫৫ শতাংশ ছিল নিট পোশাক। তবে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানির ৬৫ শতাংশই ছিল ওভেন পোশাক।
ইউরোপীয় ইউনিয়নে পোশাক রপ্তানি ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার থেকে গত অর্থবছরে ৩৩.৮৭ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।
জার্মানি, ইইউ অঞ্চলে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় পোশাক রপ্তানি বাজার ২৭.৭৪ বৃদ্ধি পেয়েছে। আলোচিত অর্থবছরে জার্মানিতে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৭১৭ কোটি ডলারের। অন্যান্য প্রধান ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজার স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি, পোল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসে পোশাক রপ্তানিতে ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। যুক্তরাজ্য এবং কানাডাতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি যথাক্রমে ৩০.৫৬ শতাংশ এবং ৩৩.২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৪৫০ কোটি ডলারের। স্পেনে ৩০২ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। ফ্রান্সে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২৩৯ কোটি ডলারের। ইতালিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৬০ কোটি ডলার।
এ বিষয়ে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর নেতারা বলছেন, পোশাক রপ্তানি আপাতত ইতিবাচক থাকলেও করোনা-পরবর্তী বিশ্বে এবং ইউক্রেনের সংঘাতের কারণে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে আগামী দিনগুলোতে বাণিজ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা উদ্বেগের কারণও হতে পারে। এ কারণে বর্তমান অগ্রগতি নিয়ে বেশি আশাবাদী হওয়ার পাশাপাশি সতর্কও থাকতে হবে।
একই সময়ে অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানি গত অর্থবছরে ২৫.৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রধান অপ্রচলিত বাজারগুলোর মধ্যে চীন এবং রাশিয়ায় যথাক্রমে ১৮.০৪ শতাংশ ও ১.৬৭ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএর পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধান বাজারগুলোতে সামগ্রিক রপ্তানি এখনো একটি ইতিবাচক বৃদ্ধির প্রবণতা দেখালেও কভিড-পরবর্তী বিশ্বে এবং ইউক্রেনের সংঘাতের কারণে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ বাণিজ্য গতিশীলতা আগামী দিনগুলোতে একটি তীক্ষè পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং বাণিজ্যে সামনে একটি হতাশাজনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। যা আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।’
ইপিবির তথ্য বলছে, গত অর্থবছরের ১২ মাসে বাংলাদেশ থেকে ৫ হাজার ২০৮ কোটি ২৬ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়েছে পোশাক, ৪ হাজার ২৬১ কোটি ডলার। এ খাতে আয় বেড়েছে ৩৫.৪৭ শতাংশ, যা ২০২০-২১ অর্থবছরে ছিল ৩ হাজার ১৪৫ কোটি ডলার।
তৈরি পোশাকের পাশাপাশি হোম টেক্সটাইল খাতে ২০২১-২২ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছে ১৬২ কোটি ১৯ লাখ ডলারের পণ্য যা এর আগের অর্থবছরের তুলনায় ৪৩.২৮ শতাংশ বেশি। এ সময়ে মোট রপ্তানিতে এ খাতের অবদান ছিল ৩.১১ শতাংশ।
