পছন্দের সঙ্গে দামে মিলছে না

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২২, ০১:৫০ এএম

ঈদুল আজহাকে ঘিরে জমে উঠতে শুরু করেছে রাজধানীর কোরবানির পশুর হাট। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে হাটে ক্রেতাদের সমাগম বেড়েছে। বেপারিরা জানিয়েছেন, বিগত কয়েক দিনের তুলনায় বিক্রিও বেড়েছে।

তবে ক্রেতাদের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, এবার বেশি দাম হাঁকাচ্ছেন বিক্রেতারা। হাটের ইজারাদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চাঁদরাত পর্যন্ত ক্রেতাদের সমাগম বেশি থাকবে বলে মনে করছেন তারা।

সারা দেশে প্রায় ২ হাজার ৪০০ হাটে চলছে কোরবানির পশু বিক্রি। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২০টি হাট বসেছে।

সরেজমিনে গাবতলী ও বসিলা হাটে দেখা যায়, বিগত কয়েক দিনের তুলনায় ভিড় অন্তত কয়েক গুণ বেশি। গাবতলী হাট শুরুর প্রথম দিন থেকেই লাল বাহাদুর, রাজা বাবু, কুষ্টিয়ার টাইগার, মাগুরার বাদশাসহ বেশ কয়েকটি গরু মূল আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। অনেকে মোবাইল ফোনে গরুর ছবিও তুলছিলেন। তবে এসব গরু বাহারি নামের কারণে আকর্ষণীয় হলেও ক্রেতাদের ক্রয় তালিকার বাইরেই রয়েছে।

লাল বাহাদুর, বাংলার টাইগার, বাংলার চিতা নামের তিনটি গরু নিয়ে গাবতলী হাটে ক্রেতার অপেক্ষায় আছেন কুষ্টিয়ার নূর হোসেন। তিনি বলেন, ‘লাল বাহাদুরের দাম ২০ লাখ টাকা, ক্রেতাদের মধ্য থেকে ১২ লাখ টাকা দিয়ে কিনতে চেয়েছেন, বিক্রি করিনি। ১৬ লাখ টাকা হলে বিক্রি করব। টাইগার ও চিতা প্রত্যেকটির দাম ১২ লাখ টাকা করে। ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম উঠেছে। এখনো বিক্রি করিনি।’

গাবতলী হাটের আরেক আকর্ষণ রাজা বাবু। এ গরুটির দাম হাঁকা হচ্ছে ১৬ লাখ টাকা। এ ছাড়া মাগুরার বাদশাও দৃষ্টি কাড়ছে।

কুব্বত বেপারি ডেইরি ফার্মের ব্যবস্থাপক আসাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের ফার্ম থেকে সারা বছরই গরু বিক্রি করি। হাটে চাহিদা বাড়লে আরও গরু আনা হবে। ইতিমধ্যে ৮০টির মতো গরু আনা হয়েছে। বেশ কয়েকটি গরু বিক্রি করেছি। আমাদের নিজেদের ফার্মে দেশি প্রক্রিয়ায় লালন পালন করে বড় করেছি গরুগুলো। আমাদের কাছে সর্বোচ্চ ১৩ লাখ টাকা দামের গরু আছে, সর্বনিম্ন রয়েছে সাড়ে ৩ লাখ টাকা দামের।’

গাবতলী হাটের ছাগলের সারিতে গিয়ে দেখা যায়, ১০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকাচ্ছেন বিক্রেতারা। আসমত আলী ১১০টি ছাগল নিয়ে গাবতলী হাটে এসেছেন। ১৫টির মতো বিক্রি হয়েছে বলে জানান তিনি।

মিরপুর থেকে গাবতলী হাটে গরু কিনতে এসেছেন আসলাম সিকদার। তিনি বলেন, ‘এবার গরুর দাম একটু বেশি। গরু পছন্দ হলেও দামে মেলাতে পারছি না। সময় যেহেতু আছে, তাই তাড়াহুড়োও করছি না। আরও এক দিন দেখে তারপর কিনব।’

হাটের ইজারাদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার হাসিল নেওয়া হচ্ছে শতকরা ৫ টাকা করে।

অন্যদিকে মোহাম্মদপুরের বসিলা হাটে দেখা যায়, কুষ্টিয়া থেকে ৩০টি গরু নিয়ে এসেছেন রহমত আলী ও তার ছেলে সুমন। তারা জানান, ‘এবার হাট একটু ভেতরে হওয়ায় ক্রেতাদের চাপ কম। তবে এখানে পরিবেশ অনেক সুন্দর। বিশাল খালি জায়গা হওয়ার কারণে গাড়ি পার্কিং করে আরামে ঘুরতে পারবেন ক্রেতারা। অন্যান্যবার বসিলা বাসস্ট্যান্ডের পাশে হাট বসলেও এবার একটু ভেতরে বসিলা গার্ডেন সিটির খালি জায়গায় নদীর পাড়ে বসানো হয়েছে হাট।

কিশোরগঞ্জ থেকে নবাব বাহাদুর, লাল বাহাদুর, বিশাল, সম্রাট, সুলতান ও ঈশা খাঁ নামের গরু নিয়ে হাটে এসেছেন সালাম। তিনি জানান, নবাব বাহাদুর ও লাল বাহাদুর কিনলে সঙ্গে খাসি ফ্রি দেওয়া হবে। প্রতিটি গরুর দাম ১১ লাখ টাকা। অন্যদিকে তিন দিন আগে চারটি গরু নিয়ে হাটে এলেও এখনো একটি গরুও বিক্রি হয়নি বলে জানান কেরানীগঞ্জের সালামত আলী। তিনি বলেন, ‘আমার নিজের পালা দেশি গরু। বিক্রি না করতে পারলে বাড়িতে নিয়া যামু। কম টাকায় বিক্রি করুম না।’

বসিলা হাটে আশপাশের অনেকেই দেশি গরু নিয়ে এসেছেন। ৭০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা দামের গরুর দিকে বেশি আগ্রহ ক্রেতাদের। এ হাটে ৪০ হাজার থেকে শুরু করে ১৬ লাখ টাকা মূল্যের গরু এসেছে। এ ছাড়া ছাগলের দাম গড়ে ১০ হাজার থেকে শুরু করে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্তও রয়েছে।

হাটে রয়েছে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম। তারা সার্বক্ষণিক পশুর চিকিৎসায় নিয়োজিত রয়েছে। এছাড়া ডিজিটাল লেনদেনের জন্যও রয়েছে বুথ। ফলে ক্যাশ টাকা নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর ঝুঁকি নেই। বিক্রেতারা ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে পশু বিক্রির টাকা গ্রহণ করতে পারছেন। তবে ডিজিটাল বুথে দেখা যায়, অলস সময় কাটাচ্ছেন কর্মীরা। তারা জানান, এখনো ডিজিটাল লেনদেনে অভ্যস্ত হননি বেপারি এবং ক্রেতারা।

ভেটেরিনারি মেডিকেল টিমের দায়িত্বে রয়েছেন ডা. তারেক এবং তার সহকারী হিসেবে আছেন মাকসুদুল আলম। ট্রাক থেকে গরু নামাতে গিয়ে একটি গরু অসুস্থ হয়ে পড়ায় ডা. তারেক সেখানে জরুরি চিকিৎসা দিতে ব্যস্ত রয়েছেন বলে জানান মাকসুদুল আলম। তিনি বলেন, গরমের কারণে এই হাটে থাকা পশুদের প্রাথমিক কিছু সমস্যা হচ্ছে। তবে বড় কোনো সমস্যা নেই। এছাড়া ট্রাকে ওঠানো-নামানোর সময় কোনো কোনো গরুর সমস্যা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত