অনেক প্রশ্ন মাহমুদউল্লাহর নেতৃত্বে

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২২, ১২:২৭ এএম

ডানহাতি-বাঁহাতি তত্ত্বে মাহমুদউল্লাহর সিদ্ধান্তটা বরাবরই প্রশ্নবিদ্ধ। ভুলের বসতি থেকে বের হতেই পারছেন না তিনি। এর জন্য ম্যাচ হাত ফসকে যাচ্ছে বারবার। তারপরও বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক তার সিদ্ধান্তে অনড়। টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের অদ্ভুত সিদ্ধান্তে আগেও অনেক ম্যাচে বিপদে পড়েছে বাংলাদেশ, হেরেছেও। এই উইন্ডিজ সিরিজে গত ম্যাচেই এমন কা- ঘটিয়েছেন। অথচ শিক্ষা নিচ্ছেন কই মাহমুদউল্লাহ। ওই মুহূর্তগুলোতে তার চিন্তা বদলালে ম্যাচের ফল বদলাতে পারত। তা না হওয়ায় কাল তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে যথারীতি হার।

উইকেটে প্রতিপক্ষের ডানহাতি ব্যাটার থাকলে ডানহাতি বোলার, আবার বাঁহাতি ব্যাটার থাকলে বাঁহাতি বোলার আক্রমণে আনেন না মাহমুদউল্লাহ। তা ওই বোলার যতই ভালো করুক। দ্বিতীয় ম্যাচে মোসাদ্দেক উইকেট মেডেন পাওয়ার পরও তাকে আর  বোলিংয়ে আনা হয়নি উইকেটে ডানহাতি ব্যাটসম্যান থাকায়। আবার গত ম্যাচে সাকিবের নিজের প্রথম ওভারে উইকেট নিয়েও আর বল পাননি। সাকিবের নেওয়া উইকেট-ওভার শেষে উইন্ডিজের রান ৭ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ৪৭। ৮ ওভার ওপর ওই জুটি ভাঙে ৮৫ রানে, ১৫তম ওভারে। সাকিব যখন ১৭তম ওভারে বোলিংয়ে আসেন ততক্ষণে ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ দলে উইকেট পড়া বা ব্যাটার রিড করার ক্ষমতায় সন্দেহাতীত ভাবে সাকিব সেরা। তার ওপর এক ওভারে ৪ রানে নিলেন উইকেট। তবুও কেন সাকিবকে ৮ ওভার পর টানা হলো এর ব্যাখ্যা মাহমুদউল্লাহই দিতে পারবেন। ছন্দে থাকা বোলারকে সঠিক সময়ে আক্রমণে না আনার সিদ্ধান্ত তাই প্রশ্নবিদ্ধ। ওই সময় সাকিবকে টানা চারটি ওভার করালে উইন্ডিজকে বেশ চাপে ফেলতে পারত বাংলাদেশ। তখন ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনাও বেড়ে যেত। ক্রিকেট ব্যাকরণেই আছে কোনো বোলার ভালো বল করলে তাকে দিয়েই আক্রমণ চালানো। কিন্তু সাকিবের ওভার নিয়ে কেন ওই সিদ্ধান্ত নিলেন তা জানা যায়নি দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদউল্লাহ না আসায়। তবে লিটন দাশ ম্যাচ শেষে অধিনায়কের পক্ষেই কথা বললেন, ‘দুই দিক দিয়েই করানো যায় (ডানহাতি-বাঁহাতি)। ডানহাতি ব্যাটসম্যানের সময় ডানহাতি বোলার বল করে, সমস্যা নেই। কিন্তু সিদ্ধান্তটা সম্পূর্ণ অধিনায়কের। যদি সিদ্ধান্তটা ভালোর দিকে যেত, তাহলে হয়তো-বা এই প্রশ্নটা আসত না। মাঠ তো আমি চালাব না বা আর দশটা ক্রিকেটার চালাবে না। আমাদের উচিত অধিনায়কের যে সিদ্ধান্ত সেটা ফলো করা।’ ম্যাচের আগে মাহমুদউল্লাহ বলেছেন ১৬০-৭০ রান করলেও বোলাররা ম্যাচ জেতাবেন। কিন্তু সঠিক সময়ে সঠিক বোলিং আক্রমণে না থাকায় বোর্ডে তার চাওয়া মতো রান উঠেও কোনো লাভ হলো না। না হওয়ারই কথা। বিশ্বের কোনো অধিনায়কই দলের সেরা বোলারকে দরকারের সময় বসিয়ে রাখে না। কিন্তু বাংলাদেশ এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। ক্রিকেটে একটা টার্ম আছে আউট অব দ্য বক্স। গতানুগতিক পরিকল্পনায় সাফল্য না পেলে ভিন্ন কিছু করতে হয়। বাংলাদেশে একমাত্র সাকিব আল হাসানই নেতৃত্বে থাকলে ওই সাহস দেখান। এর বাইরে নিকট অতীতে কোনো অধিনায়কই তা করতে পারছেন না। সদ্য নেতৃত্ব হারানো মুমিনুল হক এই কারণে সমালোচিত ছিলেন। টেস্টে চার বোলার নিয়ে নেমে ওই চারজনকে দিয়েই আক্রমণ চালাতেন। কখনই পঞ্চম বোলার হিসেবে ভিন্ন কাউকে আক্রমণে আনতে চাইতেন না। মাহমুদউল্লাহর অবস্থাও ওই রকম। তার চিন্তা যেন বাঁহাতি ব্যাটারের বিপক্ষে বাঁহাতি বোলার কখনই সফল হন না।

নেতৃত্বের সমস্যা বাংলাদেশ ক্রিকেটে এখন নতুন সংযোজন। আগে থেকে ব্যাটিং-পাওয়ার হিটিংয়ের সমস্যা তো ছিলই। এ অবস্থায় আসন্ন বিশ^কাপে সাফল্য কেমন আসবে সেটাই প্রশ্ন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত