আইএস ও আল কায়েদার সঙ্গে যোগাযোগের মিশন

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২২, ১২:৫৮ এএম

দেশের জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও অনলাইনে সক্রিয় তারা। তারা আল কায়েদা, আইএস (ইসলামিক স্টেট) ও লস্কর-ই-তৈয়বাসহ অন্য সংগঠনগুলোর সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। গত বুধবার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে ভয়াবহ হামলার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টানা অভিযানে দেশে আইএসপন্থি সংগঠন নব্য জেএমবির সাংগঠনিক ও নেতৃত্ব কাঠামো অনেকটা ধ্বংস হয়ে গেছে। তাদের এক শীর্ষ নেতা তুরস্ক থেকে অনলাইনে এই গোষ্ঠীকে সক্রিয় করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।

কিন্তু লেখক ও ব্লগার হত্যাকান্ডে জড়িত আনসারুল্লাহ বাংলা টিম যারা এখন আনসার আল ইসলাম নামে সক্রিয় তারা সাংগঠনিকভাবে ততটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। সংগঠনটি অনলাইন ছাড়াও মাঠপর্যায়ে সদস্য সংগ্রহ করতে পারছে। আনসার আল ইসলাম নিজেদের আল কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা অর্থাৎ একিউআইএসের বাংলাদেশ শাখা হিসেবে দাবি করে আসছে।

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো গোয়েন্দা প্রতিবেদনেও আল কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখার হামলার হুমকির কথা বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি দেশের দুজন ব্লগার হত্যায় অভিযুক্ত সাতজনকে মৃত্যুদন্ডের সাজা দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকারের নিন্দা করে জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা বাংলাদেশে আত্মঘাতী হামলারও হুমকি দিয়েছে।

জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও নব্য জেএমবি, আনসার আল ইসলাম ও হিজবুত তাহরীরসহ অন্যান্য জঙ্গি সংগঠন এখনো পর্যন্ত সক্রিয় রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হচ্ছে। দেশীয় গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে বৈশি্বক পর্যায়ের জঙ্গি সংগঠন যেমন আল কায়েদা, লস্কর-ই-তৈয়বা, আইএস ইত্যাদি সংগঠনের সঙ্গে অনলাইনভিত্তিক যোগাযোগ বাড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেশে জঙ্গিদের তৎপরতা নেই বললেই চলে। তারপরও আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর আছে। নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর প্রতিটি কর্মকান্ড নজরদারি করা হচ্ছে।’

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সারা বিশে^ আল কায়েদার তৎপরতা না থাকলেও আইএস মাঝেমধ্যে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে। বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠনগুলোর তৎপরতা নেই বললেই চলে। তবে সংগঠনগুলোর সদস্যরা গোপনে অনলাইনে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে বলে আমাদের কাছে তথ্য এসেছে। বিষয়টি মাথায় রেখেই আমাদের নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। আমরা আত্মতুষ্টিতে ভুগছি না। প্রতিনিয়ত পলাতক জঙ্গিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরকে জানান, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হওয়ার আশংকা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ভারতে হজরত মোহাম্মদকে (স.) নিয়ে কটূক্তির কারণে যেকোনো সময় দেশে অস্থিরতা হতে পারে। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে একটি মহল বিশৃঙ্খলা করার পাঁয়তারা করছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ঈদুল আজহার জামায়াতের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো আন্দোলনের সূত্রপাত না হয় সেদিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে। সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠী এবং ইসলামী দলগুলোর কার্যক্রম কঠোর নজরদারি. পরিবহন খাতে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা-দুর্ঘটনা রোধে যথাসময়ে স্বরাষ্ট্র, যোগাযোগ, নৌপরিবহন ও রেল মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে টাস্কফোর্স গঠন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলেছে।

ওই কর্মকর্তারা জানান, ঈদের ছুটির সময় আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমার ভল্ট সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান রোধ ও অবৈধভাবে কোরবানির পশু প্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়ে বিজিবি ও কোস্টগার্ডকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চামড়া সংগ্রহ ও অবৈধভাবে পাচাররোধে নজরদারি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। কোরবানির পশু জবাই করার ব্যবস্থা, কোরবানি শেষে ব্লিচিং পাউডার ছিটানোসহ পশু জবাই করার স্থান দ্রুত পরিষ্কার করতে সিটি করপোরেশনগুলোকে কঠোর হতে হবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জাতীয় সরকারের দাবিতে বামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো বৃহত্তর ঐক্য গঠনের তৎপরতা চালাচ্ছে। আর এই সুযোগে একটি মহল তৎপরতা চালিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে পারে। এই জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত