কারো মা নেই, কারো বাবা নেই; কারোর আবার মা-বাবা দুজনই নেই। কেউ থাকে বস্তিতে, কারো আবার মাথা গোঁজার জন্য নেই কোনো আশ্রয়।
ঈদুল আজহা মুসলিম সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বড় উৎসব। কোরবানির ঈদকে ঘিরে সবার মাঝে আনন্দ আমেজ বিরাজ করলেও এসব পথশিশুদের মাঝে নেই কোনো উচ্ছ্বাস-আনন্দ। ফুল, বেলুন ও খেলনা বিক্রি করে সারাদিন খাটা-খাটুনি পর এক বেলার ভাত জোগাড় করতে পারলেই তাদের আনন্দ সীমা ছাড়ায়।
তবে ঈদকে ঘিরে সবার মতো পথশিশুদের প্রত্যাশাও থাকে একটু বেশি। তাদেরও ইচ্ছে করে নতুন পাঞ্জাবি পরে ঈদের নামাজ পড়ার। খেতে ইচ্ছে করে ফিরনি, পায়েস, সেমাই আর কোরবানির মাংশ দিয়ে পেটপুরে এক বেলা ভাত।
রাজধানীর সদরঘাট থেকে শুরু করে বাহাদুরশাহ পার্ক, মালিটোলা, খিলগাঁও বস্তি, কমলাপুর স্টেশন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাবির টিএসসি, চন্দ্রিমা উদ্যান, গাবতলী মাজার রোড, মিরপুর বেড়িবাঁধ এলাকা, বিমানবন্দর স্টেশন! কোথায় নেই তারা? রাস্তার আইল্যান্ড, ফুটপাত, ওভারব্রিজ এবং পার্কের বেঞ্চগুলোই তাদের ঘরবাড়ি।
বাহাদুরশাহ পার্ক এলাকার মারুফ (১১) জানায়, তাদের কোনো ঈদ নাই। মা মইরা গেছে। বাপে আরেকটা বিয়া করছে। বাড়িতে ভাত দেয় না। মারধর করে। মাঝে মাঝে বাড়িতে যাই। বেশির ভাগ রাতই পার্ক আর ওভারব্রিজে থাকি। মানুষের কাছে টাকা চাই। টাকা পাইলে খাই না পাইলে খাই না।
শাখারীবাজার ওভারব্রিজে থাকে বেলাল (১০) ও তার বোন নাসরিন (৮)। তারা জানায়, ঈদে সবাই গরুর গোস্ত দিয়া ভাত খায়। আমরা গোস্ত পামু কই।ভাতই পাই না। বাপে মইরা গেছে জন্মের আগে। গত করোনায় মা ও মইরা গেছে। কেউ কিছু দিলে খাই না দিলে না খায়া থাকি।
সদরঘাট এলাকায় আরেক পথশিশু রবিন (১১) জানায়, কোরবানি ঈদে সবাই ভালো ভালো খাবার খায়। আমরা কই পামু। লঞ্চে মানুষের কাছে হাত পাইতা যা পাই, তা দিয়া এক দু'বেলা ভাত খাই।কোনো কোনো দিন এক বেলা খায়ে থাকতে হয়।ঈদ আমাদের জন্য না।
কবি নজরুল সরকারি কলেজ এর রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. হামিদুল হক বলেন, শিশুর চোখে আমরা ভবিষ্যৎ পৃথিবীকে দেখি। এজন্য শৈশবকাল থেকেই তাকে শিক্ষা, খাদ্য, পুষ্টি, নিরাপত্তা, নৈতিকতা ও সুন্দর পরিবেশের সুযোগ দিতে হবে। শিশুকে বিকাশের সুযোগ দিতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা যদি তাদের সুযোগ না দেই তাহলে তারা অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে যাবে। উন্নত দেশে শিশুকে রাষ্ট্রের সম্পত্তি মনে করা হয়। এই সম্পত্তি রক্ষায় তারা নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়ে থাকে। তাদের সঠিক বিকাশ নিশ্চিত করতে আমাদের সরকারকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
