তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাসান মাহমুদের সাম্প্রতিক মন্তব্যের রেশ ধরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, অস্ট্রেলিয়াতে নাকি ১০ ঘণ্টা বা কোথাও কোথাও ১৫ থেকে ১৮ ঘণ্টা লোডশেডিং হয়। অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রায় সাড়ে সাত হাজার মাইল দূরে বাংলাদেশের এই মন্ত্রী এই উদ্ভট খবরটি পেলেন কী করে?
আরও বলেন, সত্যি বিস্ময়কর যে, এই অবৈধ আওয়ামী সরকার বাংলাদেশকে ‘আবোল-তাবোলের’ দেশ বানাতে চাচ্ছেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে। আওয়ামী সরকারের মন্ত্রী ও নেতাদের কথাবার্তা শুনে মনে হয় এরা জন্মগতভাবেই মিথ্যেবাদী একটি রাজনৈতিক দল।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, একটি উন্নত গণতান্ত্রিক সুপরিচিত দেশ অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ায় বিদ্যুৎ কত ঘণ্টা থাকে না থাকে এটা বিশ্ববাসী জানে। আওয়ামী মন্ত্রীরা এ ধরনের টাটকা মিথ্যা কথা বলে শুধুমাত্র বাংলাদেশের জনগণকে প্রতারণা করার জন্য। বর্তমান ভয়াবহ লোডশেডিংকে জায়েজ করার জন্য হরেক কিসিমের প্রতারণামূলক কথাবার্তা বলছেন আওয়ামী মন্ত্রীরা।
সরকারের মেগা প্রকল্পের সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, এই ধরনের অনির্বাচিত লুটেরা শাসকদের বড় বড় প্রজেক্ট নিয়ে বিশেষ দুর্বলতা থাকে। এতে যেমন ঢাকঢোল পিটানো যায় আবার হরিলুটও করা যায়। বিদেশি ঋণে বড় বড় মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বাংলাদেশের প্রতিটি জনগণের এমনকি ছোট শিশুর ঘাড়েও চাপিয়ে দেয়া হয়েছে ঋণের বোঝা। নিজের টাকায় পদ্মা সেতু বানানোর কতইনা বাহাদুরির গল্প শোনাচ্ছেন শেখ হাসিনা অথচ গত ১৪ বছরে চীন, জাপান ও ভারতের কাছ থেকে উচ্চ সুদে বিপুল অঙ্কে ঋণ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ নেয়া অব্যাহত রয়েছে।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, স্থায়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি না করে প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়স্বজনদের কুইক রেন্টাল স্থাপনা দেয়া হয়েছে শুধুমাত্র জনগণের টাকা লুটের জন্য। তা এখন অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণিত হচ্ছে। এই বিদ্যুৎ প্রকল্প খাতে হরিলুট নিশ্চিত করতে এবং কেউ যাতে এই বিষয়ে উচ্চবাচ্য করতে না পারে সে জন্য করা হয়েছে দায় মুক্তি আইন (ইনডেমনিটি)। বলা হয়েছিল নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেয়া হবে অথচ সেই বিদ্যুৎ কালবৈশাখীর ঝড় উঠলে শুধুমাত্র আকাশে দেখা যায় বাস্তবে বাসা-বাড়িতে ও শিল্প কারখানায় বিদ্যুৎ মাঝে মাঝে আসে, যায় না। বর্তমানে রাজধানীর ঢাকা শহরে প্রতিদিন ৫/৬ ঘণ্টা করে লোডশেডিং হচ্ছে। গ্রামগুলোতে বিদ্যুতের অভাবে রাতে অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সমালোচনা করে বলেন, ঘরমুখো মানুষের ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। ঈদের প্রাককালে ১০০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা গুনতে হয়েছে জনগণকে। সড়কে দুর্ভোগের সীমা ছিল না। ৫ ঘণ্টার পথ ৩০/৩২ ঘণ্টায়ও শেষ হয়নি। যাত্রীদের দিনরাত কাটাতে হয়েছে সড়ক-মহাসড়কে। মন্ত্রীরা বলেছেন মহাসড়কে কোন যানজট নেই। অথচ অনেক মানুষকে ঈদ করতে হয়েছে রাস্তাতেই, কেউ ঈদের দিন দুপুরে বাড়িতে পৌঁছতে হয়েছে। আওয়ামী নেতাদের মস্তিষ্ক কোষ থেকে সত্য হারিয়ে গেছে। ঘরমুখো মানুষকে ভয়াবহ দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে আর ছিল সড়কে মৃত্যুর মিছিল। এর জন্য দায়ী আওয়ামী প্রশাসন ও সড়ক মন্ত্রী।
