কমনওয়েলথ গেমসে এবার আশা অন্য খেলা ঘিরে

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২২, ১২:৫০ এএম

সেই ১৯৯০ অকল্যান্ড কমনওয়েলথ গেমস থেকে শুরু। শুটার আব্দুর সাত্তার নিনি ও আতিকুর রহমানের হাত ধরে মর্যাদার এই আসর থেকে প্রথম সোনার পদক জিতেছিল বাংলাদেশ। এরপর থেকে কমনওয়েলথ গেমস এলেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন শুটাররা। গেল তিন দশকে প্রায় প্রতিটি আসরেই বাংলাদেশের শুটারদের হাত ধরে এসেছে পদক। ২০০২ সালে ম্যানচেস্টার গেমসে ভারতের টপ ফেভারিট অভিনভ বিন্দ্রাকে হারিয়ে সোনার হাসি হেসেছিলেন রাইফেল শুটার আসিফ হোসেন খান। পরবর্তী দুই আসরেও এই শুটারই এনে দেন পদক। তার ব্যাটনটাই বহন করে সর্বশেষ দু’টি আসরে রুপার হাসি হেসেছেন আরেক রাইফেল শুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকী। এছাড়া গেলবার গোল্ড কোস্ট গেমসে রুপা জিতেছিলেন পিস্তল শুটার শাকিল আহমেদও। কমনওয়েলথ গেমসে জেতা ২টি স্বর্ণ, চারটি রুপা ও ২টি ব্রোঞ্জসহ মোট ৮টি পদকই এসেছে বাংলাদেশের শুটারদের হাত ধরে। কিন্তু আরেকটি গেমস যখন কড়া নাড়ছে, তখন একরাশ হতাশা নিয়ে বসে শুটাররা। যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে ২৮ জুলাই-৮ আগস্ট অনুষ্ঠেয় ২২তম কমনওয়েলথ গেমসে নেই শুটিং। নিরাপত্তার চিন্তা থেকে শুটিংয়ের পাশাপাশি রাখা হয়নি সম্ভাবনাময় আরচারিও। এই দু’টি সাফল্য প্রসবা ডিসিপ্লিন না থাকায় এবার সাফল্যের স্বপ্ন সীমাবদ্ধ এই আসর থেকে কখনই সাফল্য এনে দিতে না পারা ডিসিপ্লিনগুলোকে ঘিরে। বাংলাদেশ এবার সাতটি ডিসিপ্লিনে অংশ  নেবে। অ্যাথলেটিক্স, বক্সিং, জিমন্যাস্টিকস, সাঁতার, টেবিল টেনিস, ভারোত্তোলন, কুস্তিতে অংশ নেবেন বাংলাদেশের ৩১ জন ক্রীড়াবিদ। ১০ জন অফিশিয়াল মিলিয়ে বার্মিংহামে বাংলাদেশ বহর ৫০ জনের।

ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে কখনই আশা থাকে না বাংলাদেশের। তারপরও মাদার ডিসিপ্লিন বলেই নিয়ম করে বৈশ্বিক আসরে অংশ নেন বাংলাদেশের অ্যাথলেটরা। এবারের গল্পটা অবশ্য একটু ভিন্ন। পদক চিন্তা দূরে রেখে এবার ভালো কিছুর লক্ষ্য দলে ইমরানুর রহমান নামে একজন থাকায়। যুক্তরাজ্য প্রবাসী ইমরানুর ‘সেকেন্ড হোমে’ দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন মর্যাদার ১০০ মিটার স্প্রিন্টে। গেল দু’বছরে ইমরানুর এই ইভেন্টে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। যদিও এই অ্যাথলেট ৬০ মিটারে (ইনডোর গেমস) বেশি স্বচ্ছন্দ, তারপরও তাকে ঘিরে অতীতের সেরা পারফরম্যান্স ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা দেখছেন অ্যাথলেটিক্স কর্তারা। ইমরানের পাশাপাশি ১০০ মিটারে দৌড়াবেন রাকিবুল হাসানও। তার আরেকটি ইভেন্ট ২০০ মিটার স্প্রিন্ট। মেয়েদের ১০০ ও ২০০ মিটার স্প্রিন্টে প্রতিনিধি এবারের দ্রুততম মানবী সুমাইয়া দেওয়ান। অনেক দিন পর বৈশ্বিক আসরে স্প্রিন্টের বাইরেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব থাকছে। মাহফুজুর রহমান ও উম্মে হাফসা রুমকি হাই জাম্পে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছেন।

বক্সিংয়ে বাংলাদেশের হয়ে খেলবেন তিনজন। ৬০-৬৩.৫ কেজির বেশি ওজন শ্রেণিতে খেলবেন সুর কৃষ্ণ চাকমা, ৬৩.৫-৬৭ কেজির ওপরের শ্রেণিতে হোসেন আলী ও ৫৪-৫৬ কেজি ওজন শ্রেণিতে খেলবেন সেলিম হোসেন। সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান প্রো-বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে সেরা হওয়ার পর সুর কৃষ্ণকে নিয়ে একটা প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে বক্সিং অঙ্গনে। তবে সেটা পদক জয়ের মতো কি না তা সময়ই বলে দেবে।

জিমন্যাস্টিকসে আশার বাতিঘর আরেক প্রবাসী তরুণ আলী কাদের হক। নিউজিল্যান্ডে জন্ম ও বেড়ে উঠলেও এই তরুণের শরীরে বইছে এদেশের রক্ত। বেশ ক’বছর ধরে জুনিয়র লেভেলে সিঙ্গাপুরসহ নানা দেশে আলো ছড়ানো কাদের প্রথমবারের মতো সিনিয়র পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। তার সঙ্গে বাংলাদেশ জিমন্যাস্টিকস দলে আছেন শিশির আহমেদ ও আবু সাঈদ রাফি। সাঁতারের সম্ভাবনা বহু আগে শেষ হয়ে গেলেও বৈশ্বিক সংস্থা ফিনার বদান্যতায় বড় গেমসগুলোতে নিয়মিতই সুযোগ পায় বাংলাদেশের সাঁতারুরা। এবারও তাই। বাংলাদেশের পাঁচ সাঁতারু মাহমুদুন্নবী নাহিদ, সুকুমার রাজবংশী, আসিফ রেজা, মরিয়ম আক্তার ও সোনিয়া খাতুন ১০টি ইভেন্টে পুলে ঝাঁপাবেন। পড়ালেখার জন্য বিরতিতে যাওয়া যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাঁতারু জুনায়না আহমেদ খেলছেন না।

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ অংশ নেবে কমনওয়েলথ গেমসের টেবিল টেনিস ডিসিপ্লিনে। মোহতাসিন আহমেদ হৃদয়, রিফাত মাহমুদ সাব্বির, মুফরাদুল খায়ের হামজা ও রামহিমলিয়ান বমকে নিয়ে গড়া হয়েছে ছেলেদের টিটি দল। এছাড়া মেয়েদের দলের দু’জন সোনাম সুলতানা সোমা ও সাদিয়া রহমান মৌ। কমনওয়েলথ গেমসকে সামনে রেখে অনেকদিন ধরেই আবাসিক ক্যাম্পে তৈরি হচ্ছেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। ভারতীয় কোচের অধীনে তারাও চান অভিষেকে ভালো কিছু উপহার দিতে। গত আসরে নামের প্রতি সুবিচার করতে না পারলেও এবার ভারোত্তোলক মাবিয়া আকতার সীমান্তকে নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখছেন বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশনের কর্তারা। পরপর দু’টি এসএ গেমসে সোনাজয়ী সীমান্ত এবার খেলবেন ৬৪ কেজি ওজন শ্রেণিতে। এছাড়া ৪৯ কেজিতে মার্জিয়া আকতার ইকরা, ৭৬ কেজিতে মনিরা কাজী ও ছেলেদের ৫৫ কেজিতে খেলবেন আশিকুর রহমান তাজ। কুস্তিতে অংশগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সারবেন আব্দুর রশিদ হাওলাদার (৮৬ কেজি), লিটন বিশ্বাস (১২৫ কেজি), দোলা খাতুন (৬২ কেজি) ও তিথি রায় ( ৬৮ কেজি)।

বাংলাদেশ বহরে ২০ জন কর্মকর্তার তালিকায় শেষ মুহূর্তে এসেছে বড় পরিবর্তন। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে শেফ দ্য মিশন পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশনের সভাপতি জেনারেল (অব.) মাইনুল ইসলাম। বিওএ’কে তাই তড়িঘড়ি শেফ দ্য মিশন হিসেবে মাইনুলের বিকল্প বের করতে হয়েছে। এখন বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দেবেন বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স দলের অফিশিয়াল ও ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মন্টু।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত