ওবায়দুল কাদের বললেন

ঈদে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণের কারণেই দুর্ঘটনা কমেছে

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২২, ০৬:৫১ এএম

সরকারের পক্ষ থেকে আরও মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন ছিল বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘মোটরসাইকেলের কারণে দুর্ঘটনা বেশি হয়। এবার কিছু কিছু অ্যালাও করা হয়েছিল, আবার কিছু কিছু আদেশ লঙ্ঘন করেও হাইওয়েতে এসেছে। ছোট ছোট যে যানগুলো তিন চাকার ইজিবাইক, এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা না হলে সমস্যার সৃষ্টি হয়। তবে ঈদে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণের কারণেই দুর্ঘটনা কমেছে।’

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সভাকক্ষে ঈদপরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘এবার ঈদের সময় সড়কের অবস্থা সব জায়গায় ভালো ছিল। পদ্মা সেতুর ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ নির্বিঘেœ ঈদে বাড়ি যেতে পেরেছেন। তবে উত্তরাঞ্চলের একটা রুটে সমস্যা হয়েছে। কিন্তু সেটি হওয়ার কথা ছিল না। যেটা হয়েছে সেটা কিছু ব্যবস্থাপনার ত্রুটি বা সমন্বয়ের অভাবে হয়েছে।’

এ বছর যেসব জায়গায় সড়কে ত্রুটি হয়েছে, এগুলো বিবেচনায় নিয়েই ভবিষ্যতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যানজট যেখানে হয়েছে সেটা হয়েছে ব্যবস্থাপনার কিছু ত্রুটির কারণে। একটা রুটে প্রবলেমটা বেশি হয়েছে, সেটা উত্তর জনপদ। হওয়ার কথা ছিল না, কেননা আমাদের সিক্স লেন রোড অলরেডি হয়ে গেছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর এক দিনে ৪৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। পদ্মা সেতুর ব্যাপার হচ্ছে, সেখানে কোনো গাড়ি যদি দুর্ঘটনায় পড়ে সেই গাড়িটা সরানোর জায়গা আছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু সেতুতে সেই জায়গাটা নেই। সেখানে সামনেরগুলো সরিয়ে গাড়ি সরাতে হয়। অনেকগুলো নষ্ট হয়েছিল, সেই কারণে আমরা খুবই চাপের মধ্যে ছিলাম। অনেক জায়গায় দুর্ঘটনা ঘটে যার কারণে ধীরগতির মুখে ছিল গাড়ি। যে কারণে কিছু কিছু সমস্যা হয়েছে তবে সার্বিকভাবে অন্যান্য রুটে সারা দেশে ভালো ছিল।’

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘বিজিএমইএ-বিকেএমইএকে বারবার অনুরোধ করা হয়েছিল পর্যায়ক্রমে পোশাক কারখানাগুলো ছুটি দেওয়ার জন্য। গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার চন্দ্রা-নবীনগর এলাকায় যানজট হয়েছে। হঠাৎ করে পোশাকশ্রমিকদের একসঙ্গে ছেড়ে দেওয়ায় ভোগান্তিটা বাড়ে। পর্যায়ক্রমে ছুটি হলে সমস্যা হতো না। সেটা তারা করেনি বা করতে পারেনি।’

এ বছরের সেপ্টেম্বর মাসেই বহুল প্রতীক্ষিত কালনা সেতু ও বেকুটিয়ায় অষ্টম চীন-বাংলা মৈত্রী সেতুর উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্প দুটি উদ্বোধন করবেন।

চলতি বছরের ডিসেম্বরে মেট্রোরেল এবং আগামী বছরের শেষের দিকে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করা সম্ভব হবেÑ এমন আশা প্রকাশ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘এটা (এক্সপ্রেসওয়ে) আগে ধীরগতি ছিল এখন গতি বেড়েছে। আমরা অর্থায়নের সমস্যাটা দূর করেছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত