প্রবাসী কর্মী বীমায় যুক্ত হচ্ছে স্বাস্থ্য

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২২, ১২:৩৬ এএম

সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশসমূহে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য প্রচলিত ‘প্রবাসী কর্মী বীমা’য় স্বাস্থ্যবীমা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এছাড়াও সব প্রবাসী শ্রমিককে বীমার আওতায় আনা, পাসপোর্টের মেয়াদকালীন পর্যন্ত পলিসির মেয়াদ রাখার পরিকল্পনা করছে সরকার। জীবন বীমা করপোরেশন ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

২০১৯ সালের ১৯ ডিসেস্বর প্রবাসী কর্মী বীমা চালু করে সরকার। চলতি বছরের ১০ মে পর্যন্ত ১৩ লাখ ৩০ হাজার ৬৮৯ জন বিদেশগামী কর্মী এই বীমা কাভারেজের আওতায় এসেছেন। ১৮ থেকে ৫৮ বছর বয়সী প্রবাসী কর্মীরা এককালীন ৪৯০ টাকার প্রিমিয়াম পরিশোধ করে দুই বছরের জন্য ৪ লাখ টাকার মৃত্যুঝুঁকি ও দুর্ঘটনাজনিত অঙ্গহানির সুবিধা পাচ্ছেন।

সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে ৩০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মী কাজ করলেও বীমা কাভারেজের আওতায় রয়েছেন অর্ধেকেরও কম। এ ক্ষেত্রে সৌদি আরবে কর্মরত সব বাংলাদেশিকে বীমা সুবিধার আওতায় আনার নতুন কিছু প্রডাক্ট চালু করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সরকার।

সম্প্রতি সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশসমূহে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের পূর্ণ বীমা সুবিধা প্রদানের বিষয়ে সৌদি আরাবিয়ান ইনসুরেন্স কোম্পানি প্রস্তাবিত মেডিকেল এক্সপেন্স ইনসুরেন্স চালুর বিষয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এসব বিষয়ে উঠে আসে।  

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, বর্তমানে প্রবাসী কর্মী বীমার আওতায় শ্রমিকদের মৃত্যুঝুঁকি ও অঙ্গহানি সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। নতুন করে বিদেশগামী কর্মীদের স্বাস্থ্যবীমার সুবিধা প্রদান করা হবে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে সৌদি আরব ও উপসাগরীয় অঞ্চলে কর্মরত সব বাংলাদেশির স্বাস্থ্য বীমার আওতায় আসবে।

এছাড়াও প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ার পরও সার্ভিস পয়েন্ট না থাকায় ক্লেইম করতে পারছে না বলে সভায় জানানো হয়। এসব বিষয়ে বাংলাদেশিদের মধ্যে প্রয়োজনীয় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিদেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিশনগুলোতে ব্যানার, ফেস্টুন টাঙানো ও লিফলেট বিতরণের ব্যবস্থা করতে বলা হয়।

সভায় আরও বলা হয়, বর্তমানে চালুকৃত প্রবাসী কর্মী বীমার মেয়াদ মাত্র ২ বছর। একজন বাংলাদেশি দীর্ঘদিন বিদেশে থাকলেও পলিসির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে নতুন করে আর পলিসি নবায়ন করেন না। প্রবাসীদের সুরক্ষার জন্য পলিসি চলমান রাখতে বিদেশগামীদের পাসপোর্টের মেয়াদকালীন পর্যন্ত প্রবাসী কর্মী বীমা চালু করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে বিদেশে অবস্থিত মিশনে যখন প্রবাসী কর্মীরা পাসপোর্ট নবায়ন করতে যাবেন তখন প্রবাসী কর্মী বীমার পলিসি গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালে সৌদি আরব সফরের সময় সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের পূর্ণ বীমা সুবিধা প্রদানের নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনার পর জীবন বীমা করপোরেশন ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড যৌথভাবে প্রবাসী কর্মী বীমা চালু করে। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে প্রবাসী কর্মী বীমার পলিসি গ্রহণ না করে কোনো শ্রমিক বিদেশে কাজে যেতে পারছেন না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত