ভাঙ্গায় এক দিনে ৪ ইউনিয়নে সংঘর্ষ-ভাঙচুর-লুট

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২২, ১২:৪৫ এএম

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় একই দিনে চার ইউনিয়নে পৃথক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দফায় দফায় চলা এসব রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বাড়ি-ঘর ব্যাপক ভাঙচুর এবং লুটপাট করা হয়। সংঘর্ষে নারীসহ শতাধিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গুলিবর্ষণও করে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে প্রকাশ, গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গতকাল বৃহ¯পতিবার সকালে উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়নের তুজারপুর, হামিরদী ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ, ঘারুয়া ইউনিয়নের গঙ্গাধরদী ও কালামৃধা ইউনিয়নের কালামৃধা গ্রামবাসী সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় তারা একে অপরের ওপর ঢাল, সড়কি, রামদা প্রভৃতি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দীর্ঘক্ষণ চলা সংঘর্ষে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দফায় দফায় চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের নারী-পুরুষসহ আহত হয় অন্তত শতাধিক। এ সময় তারা বাড়ি-ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে ব্যাপক তান্ডব সৃষ্টি করে। বিভিন্ন স্থানে চলা এ সংঘর্ষে আহতদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলগুলোতে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এসময় বিভিন্ন এলাকা থেকে অপ্রীতিকর ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ১৭ জনকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়নে চলা সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ দুই রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে।

ভাঙ্গা থানার ওসি সেলিম রেজা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে তুজারপুর গ্রামের সংঘর্ষরত এলাকায় পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। জেলা দাঙ্গা পুলিশ ও স্থানীয় পুলিশের একাধিক টিম ওই এলাকায় অবস্থান করছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কয়েকটি জায়গায় থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছিল। এসময় লোকজনকে দিগি¦দিক ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। পুলিশকে দেখা যায় সংঘর্ষকারীদের ধরার চেষ্টা করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত