যশোর শিক্ষা বোর্ডে ৭ কোটি টাকা লোপাট

হিসাব সহকারী আবদুস সালাম চাকরিচ্যুত

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২২, ০২:০৪ এএম

চেক জালিয়াতির মাধ্যমে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ৭ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় পলাতক কর্মচারী আবদুস সালামকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহসান হাবীব জানান, তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে হিসাব সহকারী আবদুস সালামকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। সরকারি শৃঙ্খলা লঙ্ঘন ২০১৮-৩ (ঘ) এবং শিক্ষা বোর্ডের আইন ১৯৯৯-এর ৩৫ উপবিধি ঙ ২ (ক) ধারায় তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।  

২০২১ সালের ৭ অক্টোবর যশোর শিক্ষা বোর্ডের ৩৮টি চেকে জালিয়াতির মাধ্যমে লোপাট করা হয় ৭ কোটি টাকা। এ ঘটনার পর বোর্ড কর্তৃপক্ষ যশোর দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করে। তদন্তে নেমে দুদক দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ায় মামলা করে। মামলায় আসামি করা হয় ৫ জনকে। তারা হলেন শিক্ষা বোর্ডের সে সময়ের চেয়ারম্যান ড. মোল্লা আমীর হোসেন, সচিব অধ্যাপক এএমএইচ আলী আর রেজা, কর্মচারী আবদুস সালাম, ঠিকাদার ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের মালিক যশোর সদরের রাজারহাট এলাকার আবদুল মজিদ আলীর ছেলে শরিফুল ইসলাম বাবু ও শেখহাটী জামরুলতলা এলাকার শাহীলাল স্টোরের মালিক মৃত সিদ্দিক আলী বিশ্বাসের ছেলে আশরাফুল আলম।

শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান জানান, গত ২২ ফেরুয়ারি বোর্ডের হিসাব সহকারী আবদুস সালামকে শোকজ করা হয়েছিল। ১০ কর্মদিবসে তাকে জবাব দিতে বলা হয়। গত ৫ মার্চ আবদুস সালাম শোকজ নোটিস জবাবের সময় বৃদ্ধির আবেদন করেন। কিন্তু বোর্ড কর্তৃপক্ষ তাতে সাড়া না দেওয়ায় ৯ মার্চ ডাকযোগে শোকজ নোটিসের জবাব পাঠান তিনি। নোটিসের জবাব পাওয়ার পর কর্মচারী সালামের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে সেজন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। যার প্রধান ছিলেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মাধব চন্দ্র রুদ্র বলেন, ‘গত ২৫ জুন আমরা চেয়ারম্যানের কাছে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পেশ করি। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে হিসাব বিভাগের হিসাব সহকারী আবদুস সালামের যোগসাজশে ৭ কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত