এ সময়ে ভাইরাস জ্বর

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২২, ১২:২১ এএম

এখন আবহাওয়াটা এই গরম এই বৃষ্টি। প্রকৃতির এই রূপবৈচিত্র্যের কারণে সিজনাল জ্বর বা ভাইরাস জ্বরের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম যেমন শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। ভাইরাস জ্বর নানারকম ভাইরাসের কারণে হয়। যেমন করোনা ভাইরাস, ডেঙ্গু ভাইরাস, রাইনো ভাইরাস, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস, রেস্পাইরেটরি সিনসাইটিয়াল ভাইরাস ইত্যাদি। প্রত্যেকটি ভাইরাস জ¦রের লক্ষণও কিন্তু এক নয়। বিশেষ করে ডেঙ্গু ভাইরাস জ্বরের লক্ষণ সম্পূর্ণ আলাদা।

লক্ষণ

শিশুদের ভাইরাস জ্বর হলে সাধারণত সর্দি-কাশি গলা ব্যথা, মাথা ব্যথা, শরীর ব্যথা এবং অনেক সময় পাতলা পায়খানা এবং বমিও হতে পারে। সাধারণত ডেঙ্গু জ¦রে ১০১ ডিগ্রি থেকে ১০৫ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রা থাকে। জ্বরের সঙ্গে প্রচন্ড মাথা ব্যথা, বিশেষ করে মাথার পেছনের দিকে এবং চোখের কোটরের ভেতর প্রচন্ড ব্যথা, মেরুদন্ডের হাড়ের ভেতরও প্রচন্ড ব্যথা হয়।

এছাড়া জ্বরের সঙ্গে বমি বা বমি বমি ভাব থাকে। জ্বর একটানা থাকতে পারে, আবার ঘাম দিয়ে জ¦র ছেড়ে দেওয়ার পরও আবার জ¦র আসতে পারে। জ¦র সাধারণত ৪ দিন পরে হঠাৎ করে কমতে পারে । জ¦র কমার ৪৮ ঘণ্টা থেকে ৯৬ ঘণ্টা খুবই জটিল সময় শিশুর জন্য। বিশেষ করে ওজন বেশি এমন বাচ্চাদের জন্য।

এর পরে আবার কারও কারও জ্বরের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হতে পারে। এই জ্বরবিহীন সময়ে শরীরে লাল লাল র‌্যাশ উঠতে পারে এবং এই র‌্যাশে প্রচন্ড চুলকানি হয় যা সাধারণত অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধে কাজ হয় না। তবে এ ধরনের চুলকানি তিন দিনের বেশি স্থায়ী হয় না। ডেঙ্গু রোগীর জ্বর চলে যাওয়ার পর হঠাৎ করেই ব্লাড প্রেশার কমে রোগীর অবস্থা খারাপ হতে পারে।

একজন ডেঙ্গু রোগীর অবস্থা যখন জটিল হয় তখন ক্রিটিক্যাল কেয়ার সাপোর্ট এবং সার্বক্ষণিক স্পেশাল ট্রেইন্ড ডাক্তারের প্রয়োজন হয়। তবে সাধারণ সর্দি-জ¦র শিশুদের তেমন কোনো ঝুঁকির মধ্যে ফেলে না। কিন্তু খুব ছোট শিশু এবং দুর্বল শিশুদের নানা ধরনের জটিলতা এমনকি নিউমোনিয়া পর্যন্ত হতে পারে।

প্রতিকার

সাধারণ সর্দি-জ্বর তিন দিনের বেশি স্থায়ী এবং তীব্রতা বাড়তে থাকলে প্রচন্ড কাশি এবিং কাশির সঙ্গে বুকের ভেতরটা ডেবে যায়। শ্বাসের গতি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়। যেমন ২ মাসের কম শিশুর শ্বাসের গতি মিনিটে ৬০ বা তার বেশি, ২ মাস থেকে ১ বছরের কম শিশুদের ৫০ অথবা তার বেশি, ১ বছর থেকে ৫ বছর পর্যন্ত ৪০ অথবা তার বেশি হলে দ্রুতই শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে হবে।

এছাড়া সাধারণ সর্দি জ্বরের জন্য বাসায় বিশ্রাম করতে হবে। প্যারাসিটামল, অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো সঠিক পরিমাণে ও সঠিক সময়ে খাওয়াতে হবে। কুসুম গরম পানি দিয়ে গা মোছানো এবং প্রচুর পরিমাণে তরল শক্তিদায়ক খাবার খাওয়াতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে বুকের দুধও খাওয়াতে হবে। কাশির জন্য কুসুম গরম পানি দিয়ে লেবুর শরবত এবং একটু বড় শিশু হলে মধু দিয়া লেবুর চা খাওয়ানো যেতে পারে। শিশুর রোগপ্রতিরোধক ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য দরকার ব্যায়াম, খেলাধুলা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং প্রচুর পরিমাণে পানি, ভিটামিন, প্রোটিন এবং মিনারেল জাতীয় খাবার খাদ্য তালিকায় রাখা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত