আইসিজেতে মিয়ানমারের আপত্তির সিদ্ধান্ত শুক্রবার

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২২, ০৭:৩৪ এএম

ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) রোহিঙ্গা ইস্যুতে গণহত্যা অপরাধ প্রতিরোধ ও শাস্তির রীতি লঙ্ঘন করে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা চালানোর অভিযোগ তুলে গাম্বিয়া কর্র্তৃক মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের নভেম্বরে করা মামলায় আপত্তি জানিয়েছিল মিয়ানমার।

আগামী শুক্রবার নেদারল্যান্ডসে অবস্থিত আইসিজে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবে। নেদারল্যান্ডসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রিয়াজ হামিদুল্লাহ আশা প্রকাশ করেছেন যে, সব যুক্তিতর্ক বিবেচনা করে আইসিজে মিয়ানমারের আপত্তি খারিজ করবে। মূল মামলার শুনানি শুরুর অনুমতি দেবে। মিয়ানমারের তোলা আপত্তির বিষয়ে গাম্বিয়া লিখিতভাবে তাদের পর্যবেক্ষণ এরই মধ্যে আদালতে জমা দিয়েছে। তবে আপত্তিতে মিয়ানমার কী জানিয়েছে, আইসিজে তা জনসম্মুখে প্রকাশ করেনি।

গত বছরের ২৮ জানুয়ারি দেওয়া বিবৃবিতে আইসিজে জানায়, আদালতের বিচারব্যবস্থা ও মামলার আবেদনের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে আপত্তি তুলেছে মিয়ানমার।  প্রাথমিক এই আপত্তির সই করা কপি মামলার অপর পক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। সে সময় নিউইয়র্কভিত্তিক গ্লোবাল জাস্টিস সেন্টার ও আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাগুলো গাম্বিয়ার করা মামলার বিষয়ে মিয়ানমার আপত্তি তোলায় রোহিঙ্গা গণহত্যার ঘটনায় ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়টি আরও পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করলেও অবশেষে দিনক্ষণ নির্ধারণ হলো।

২০১৯ সালের নভেম্বরে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সহায়তায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যা মামলা দায়ের করে গাম্বিয়া। গাম্বিয়ার অভিযোগে বলা হয়, প্রায় সাড়ে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার ওপর নৃশংস সামরিক অভিযান চালিয়ে রোহিঙ্গা গ্রামগুলো পুড়িয়ে দিয়ে, হাজারো রোহিঙ্গাকে হত্যা, আহত ও নারীদের ধর্ষণ করেছে মিয়ানমার। ২০১৭ সালের আগস্টের পর থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বরতার শিকার হয়ে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার সীমানা পেরিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।

এর আগে বিভিন্ন সময় নির্যাতনের শিকার আরও চার থেকে পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছিল। অন্তারিও ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সির (ওআইডিএ) তথ্য অনুযায়ী ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে প্রায় ২৪ হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।

২০২০ সালের ২৩ জানুয়ারি আইসিজে গাম্বিয়ার করা এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে। রাখাইন রাজ্যের ৬ লাখ রোহিঙ্গা গণহত্যার মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছেন উল্লেখ করে মিয়ানমারকে গণহত্যা রোধ করতে, প্রমাণাদি ধ্বংস করা বন্ধ করতে এবং এ বিষয়ে চার মাসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়। এরপর প্রতি ছয় মাস পরপর রিপোর্ট পেশ করার আদেশ দেয় আইসিজে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত