সচিব দেখলেন ২১ কর্মকর্তা-কর্মচারীর ১৬ জনই অনুপস্থিত

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২২, ০৫:২১ এএম

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ে কর্মরত আছেন ২১ কর্মকর্তা-কর্মচারী। ঈদের ছুটি শেষে গত বুধবার থেকে কার্যালয় খোলা হয়। বৃহস্পতিবার কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারী। তারমধ্যে একজন হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর করেও উপস্থিত ছিলেন না। ওইদিন দুপুরের পর হঠাৎ করেই ওই কার্যালয়ে পরিদর্শনে যান যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মেজবাহ উদ্দিন। এ রকম অব্যবস্থাপনা দেখে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। যারা বিনা নোটিসে অনুপস্থিত ছিলেন তাদের কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়ার পাশাপাশি বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

জানতে চাইলে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মেজবাহ উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নানা অভিযোগ পেয়ে আচমকা যুব উন্নয়ন অদিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয় পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি দেখে মনটা আসলে খারাপ হয়েছে। ২১ জনের মধ্যে ১৬ জনই ছিলেন অনুপস্থিত। তার মধ্যে একজন উপস্থিতির আগাম স্বাক্ষরও দিয়ে রেখেছেন। এভাবে তো একটা প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না।’ তিনি আরও বলেন, যারা অনুপস্থিত ছিলেন তাদের কারোর ছুটির নোটিস পাওয়া যায়নি। যারা উপস্থিত ছিলেন তারাও কেউ অনুপস্থিত থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটির নোটিস দেখাতে পারেননি। তবে সহকারী পরিচালক তার বাবার মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ছুটিতে ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রায় এক যুগ ধরে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের বিপরীতে একটি ভবনের ৩টি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম চলে আসছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের। ওই কার্যালয়ে একজন সহকারী পরিচালক আছেন। তার নাম বিরাজ চন্দ্র সরকার। এত অল্পসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য এতগুলো ফ্লোর নিয়ে কাজ করায় অনেকে প্রশ্নও তুলেছেন।

অভিযোগ উঠেছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই ঠিকমতো অফিস করেন না। এমনকি ছুটি না নিয়েও অফিসে অনুপস্থিত থাকেন। কোনো জবাবদিহিতা নেই বললেই চলে। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মেজবাহ উদ্দিন পরিদর্শনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। গত বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার দিকে তিনি ঢাকা জেলা কার্যালয়ে হাজির হন। তার সঙ্গে আরও দুজন কর্মকর্তা ছিলেন। প্রায় ১৫ মিনিট তিনি অবস্থান করেন কার্যালয়ে। এই সময় সচিব হাজিরা খাতা যাচাই করে দেখেন অনুপস্থিত থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে একজন আগাম স্বাক্ষর করে রেখেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, সচিব পরিদর্শনের সময় উচ্চমান সহকারী আছিয়া আকতার খান, মৎস্য কর্মকর্তা রিতা রানী, শামীমা চৌধুরী, সোনিয়া আক্তার ও অফিস সহকারী রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। সচিব প্রতিটি ফ্লোর ঘুরে দেখেন। তবে একটি কক্ষ তালাবদ্ধ থাকায় সেখানে যেতে পারেননি। তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুটি হাজিরা খাতা পর্যালোচনা করেন এবং পরে সেগুলো জব্দ করে নিয়ে যান।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, কর্মকর্তারা দায়সারাভাবেই অফিস করেন। কোনো জবাবদিহি নেই। কর্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দ হওয়া গাড়ি এক জেলা থেকে আরেক জেলায় নিতে পারেন না। অথচ অনেকেই ব্যক্তিগত কাজেও গাড়ি এক জেলা থেকে আরেক জেলায় নিয়ে ব্যবহার করেন।

অভিযোগ বিষয়ে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তদরের ঢাকা জেলার সহকারী পরিচালক বিরাজ চন্দ্র সরকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সচিব মহোদয় হঠাৎ করেই পরিদর্শনে এসেছেন। আমি ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়িতে এসেছি। যারা অনুপস্থিত বলা হচ্ছে, তারা আসলে ছুটিতে  ছিলেন। কারণ তারা ছুটির নোটিস দিয়েছিলেন। এ ছাড়া কয়েকজন অফিসের নিচে অবস্থান করছিলেন।’

একসঙ্গে এতজন ছুটিতে যান কীভাবেএই প্রশ্নের জবাবে সহকারী পরিচালক বলেন, ‘আমি ৪-৫ জনকে ঈদের ছুটির পর বাড়তি ছুটির আবেদন মঞ্জুর করেছি। অন্যরা আবেদন করেছিলেন বলে আমি জানি। তবে ছুটির নোটিসগুলো তাৎক্ষণিক সচিব মহোদয়কে দেখানো যায়নি। কারণ যার কাছে ছিল তিনিও ছুটিতে ছিলেন।’ তিনি জানান, রবিবার কার্যালয়ে এসে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে সবার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। সচিব যেভাবে বলেছেন তাই করা হবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিরাজ চন্দ্র বলেন, ‘আমাদের অফিসে কোনো অনিয়ম হয় না। সবাই নিয়মিত অফিস করেন। ঈদের ছুটির কারণে এই সমস্যাটা হয়েছে। তারপরও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা এলে অব্যশই নেওয়া হবে।’ গাড়ির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার থেকে আমার নামে বরাদ্দ হওয়া গাড়িটি প্রায় নষ্ট থাকে। এখনো নষ্ট আছে। এক জেলার গাড়ি আরেক জেলায় নিতে পারে না এমন কথা কেউ বলে থাকলে তা মিথ্যা বলেছেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত