স্থগিত এসএসসি শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর নভেম্বরে এইচএসসি

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২২, ০৫:২৩ এএম

বন্যায় স্থগিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর এবং এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নভেম্বরের প্রথম দিকে শুরু হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। গতকাল রবিবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা-সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে এ পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

দীপু মনি বলেন, ‘সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। আমরা ভেবেছিলাম আগস্টের মাঝামাঝি এসএসসি পরীক্ষা নিতে পারব। কিন্তু এ সময়ে আবার দক্ষিণাঞ্চলে বন্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আমরা আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু করব। আর এসএসসির পরীক্ষা শুরুর ৪৫ দিন পর, অর্থাৎ নভেম্বরের শুরুতে আমরা এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু করতে চাই।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যাদুর্গত এলাকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাদের বই নষ্ট হয়ে গেছে, তাদের ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে নতুন বই পৌঁছে দেওয়া হবে। আমরা যে তথ্য সংগ্রহ করেছি তাতে সিলেটে ২৫ হাজার ৬০১ সেট বই এবং সুনামগঞ্জে ৭৬ হাজার ৮৯৯ সেট বইয়ের প্রয়োজন। এরপরও যদি আরও বইয়ের প্রয়োজন, সেটাও দেওয়া হবে।’

দীপু মনি বলেন, ‘পরীক্ষার সিলেবাস আগের শিডিউলে যেভাবে করা হয়েছিল সেভাবেই হবে। পরীক্ষার্থীদের বলব, এবার যেন পরীক্ষার গ্যাপ বেশি আশা না করে। এমনভাবে তারিখ নির্ধারণ হবে যেন পরীক্ষার্থীরা কোনোভাবেই অসুবিধায় না পড়ে।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা আমরা নির্ধারিত সময়ের কাছাকাছিই নিতে চাই। কারণ এ বছর বন্যার কারণে পরীক্ষা পেছাতে হলো। তাই আগামী বছর আমরা বর্ষাকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাই না।’

দীপু মনি জানান, এবারও পরীক্ষার সময়ে কোচিং সেন্টার সেন্টার বন্ধ থাকবে। তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কোচিং সারা বিশে^ই আছে। সব শিক্ষার্থীর মেধা এক রকম নয়। সবার বাড়িতে প্রাইভেট শিক্ষক রাখারও সক্ষমতা নেই। তবে আমরা চেষ্টা করব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ঘাটতি পূরণ করতে। তবে কোনো শিক্ষক যদি ক্লাসে না পড়িয়ে তার কোচিংয়ে যেতে বলেন, সেটা অনৈতিক। এ জন্য আমরা বলছি, নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কেউ কোচিং-প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না।’

সহায়ক বইয়ের ব্যাপারে মন্ত্রী বলেন, ‘নোট-গাইড এবং সহায়ক বা রেফারেন্স বইয়ের মধ্যে পার্থক্য আছে। সহায়ক বইতে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা থাকে। এখন আমরা তো এটা বলতে পারি না, শিক্ষার্থীরা সহায়ক বা রেফারেন্স বই পড়তে পারবে না।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবু বকর ছিদ্দীক, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত