মেট্রোরেলে পরামর্শক, সুদ ব্যয় বাড়ছে

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২২, ০৫:৫৩ এএম

ঢাকার যানজট কমানোর লক্ষ্যে নির্মাণাধীন মেট্রোরেল প্রকল্পের (এমআরটি লাইন-৬) ব্যয় ও সময় বাড়িয়ে তৈরি করা সংশোধিত প্রস্তাব আগামীকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উঠছে। সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রকল্পের জন্য নেওয়া বিদেশি ঋণের সুদ বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ১৫২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এ ছাড়া পরামর্শক খাতেও ব্যয় বাড়ছে ৫৭৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

প্রকল্পের ১০টির বেশি অঙ্গে খরচ বাড়ছে। সব মিলিয়ে প্রকল্পে ব্যয় বাড়ছে ৫২ দশমিক ২৫ শতাংশ। এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সময়ও বাড়ছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পের প্রথম প্রস্তাবে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছিল ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী প্রকল্পের ব্যয় বাড়বে ১১ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা, অর্থাৎ ব্যয় গিয়ে ঠেকবে ৩৩ হাজার ৪৭১ কোটি টাকায়। একই সঙ্গে দৈর্ঘ্য বাড়বে ১ দশমিক ১৬ কিলোমিটার।

ব্যয় বাড়ানোর কারণ হিসেবে দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রকল্পটির কয়েকটি খাত নতুন করে সংযোজনের কারণে ব্যয়ও বাড়ছে। যেমন মেট্রোরেলের দৈর্ঘ্য ১ দশমিক ১৬ কিলোমিটার বাড়ায় খরচ বেড়েছে ৭২৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। মতিঝিল থেকে কমলাপুরের রোলিং স্টকসের (রেল কোচ) জন্য ব্যয় বাড়ছে ৩৬ কোটি টাকা। স্টেশন প্লাজার জন্য ব্যয় বাড়ছে ১৬৪ কোটি ৭২ লাখ টাকা। কাস্টমস ডিউটি ও ভ্যাটের জন্য ব্যয় বাড়ছে ২ হাজার ২২৯ কোটি টাকা।

সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী, প্রকল্পটির মোট ব্যয়ের প্রায় ২৩ শতাংশই খরচ হচ্ছে শুল্ক-কর ও জমি অধিগ্রহণ খাতে। অন্যদিকে নতুন করে ২ দশমিক ৪ একর ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় বাড়ছে ২৬৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

ল্যান্ডিং স্টেশন, স্টেশন প্লাজা, স্ট্যান্ডার্ড ফুটপাত নির্মাণের জন্য ব্যক্তিমালিকানাধীন ভূমিসহ ১১টি সরকারি সংস্থার মোট ১১ লাখ ৩১ হাজার ৯৩৭ একর (৪৫.৮২৭৪ হেক্টর) ভূমি অধিগ্রহণ-ক্রয়ের জন্য ৫ হাজার ৬৩৩ কোটি (ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ ৪ হাজার ২৪ কোটি ও ভূমি কেনায় ১ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা) ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। সংস্থাগুলো হলো রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ রেলওয়ে, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা জেলা প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। এর মধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ে ও রাজউকের ৩৭ হেক্টর ভূমির (আংশিক) মূল্য বাবদ ইতিমধ্যে ১ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

এ জন্য বর্তমান উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধন করছে মেট্রোরেল বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। সংশোধিত প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই করা হয় পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির বৈঠকে। এরপর কমিশন সংশোধিত প্রস্তাব অনুমোদন করে।

উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার অংশের কাজ প্রায় শেষ। চলতি বছরের ডিসেম্বরে এই অংশে মেট্রোরেল চলাচল উদ্বোধন করা হবে। কাজ চলছে প্রকল্পের বাকি অংশেও। তবে মতিঝিল ছাড়িয়ে মেট্রোরেলের রুট কমলাপুর পর্যন্ত নেওয়ায় প্রকল্পের কাজ বেড়ে গেছে। মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত দৈর্ঘ্য ১ দশমিক ১৬ কিলোমিটার ধরে মেট্রোরেলের রুট দাঁড়াচ্ছে ২১ দশমিক ২৬ কিলোমিটার। কাজ বাড়ার কারণে বেড়েছে ব্যয়ও। ডিপিপির দ্বিতীয় সংশোধন প্রস্তাবে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭১ কোটি টাকা, অর্থাৎ প্রকল্পে নতুন ব্যয় ১১ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা বাড়ছে।

আগের প্রকল্প প্রস্তাব অনুসারে, ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ের মধ্যে ১৬ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকাই ছিল জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা-জাইকার ঋণের। বাকি টাকা সরকারি তহবিলের। নতুন করে যে ব্যয় বাড়ছে, সেখানে জোগানের জন্য জাইকা থেকে ঋণ চাওয়া হবে আরও ৩ হাজার ৮১ কোটি ১১ লাখ টাকা। সরকারি তহবিল থেকে দেওয়া হবে ৮ হাজার ৪০৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা। নতুন অর্থ জাইকা দিলে তাদের ঋণ দাঁড়াবে ১৯ হাজার ৭১৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এ প্রকল্পে সরকারি তহবিলের ব্যয় দাঁড়াবে ১৩ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির প্রাথমিক মেয়াদকাল ছিল ১ জুলাই ২০১২ থেকে ৩০ জুন ২০২৪। তবে কাজ বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্প শেষ করতে সময় লাগবে আরও এক বছর ছয় মাস। সে ক্ষেত্রে এটির মেয়াদ ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুসারে, মেট্রোরেলের ১৬টি স্টেশন হওয়ার কথা ছিল। এখন নতুন করে কমলাপুরে একটি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। কমলাপুর ছাড়া অন্য স্টেশনের স্থানগুলো হচ্ছে উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ, পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়, বাংলাদেশ সচিবালয় ও মতিঝিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত