সরকার আজ থেকে এলাকাভিত্তিক যে লোডশেডিং করতে যাচ্ছে তার প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি নেতারা বলছেন, ‘লোডশেডিংই সরকারের ক্ষমতা ত্যাগের কারণ হতে পারে। এমনিতেই নানা কারণে দেশের মানুষ অসহিষ্ণু হয়ে আছে। এখন সাধারণ মানুষ আরও অসহিষ্ণু হয়ে উঠবে।’ গতকাল সোমবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নেতারা এই প্রতিক্রিয়া জানান।
গতকাল সকালে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সেমিনার কক্ষে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির রমনা থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ড এবং শাহবাগ থানার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সম্মেলনে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘সরকার এত দিন বলে আসছে তারা জনগণের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছেন। কুইক রেন্টাল দিয়ে আপনারা বিদ্যুৎ দিয়েছেন, বিদ্যুতের আর অভাব নাই। এখন আবার বলছেন উল্টো কথা, লোডশেডিং করতে হবে। এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং সরকারের ক্ষমতা হারানোর কারণ হতে পারে।’
বিকেলে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, ‘সরকার এত দিন বলেছে তারা শতভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে, তারপরও কেন লোডশেডিং করতে হচ্ছে? আগে লোডশেডিংয়ে মানুষকে পে করতে হয়নি, এখন মিউজিয়ামে যাওয়া লোডশেডিংকে ফেরত এনে পে করতে হচ্ছে। লোডশেডিং সত্ত্বেও কেন মানুষকে পেমেন্ট করতে হচ্ছে, সেটিই বড় প্রশ্ন।’
তিনি বলেন, ‘সরকারের প্ল্যানে বলা ছিল ৬৪ ভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদন থাকবে সরকারের হাতে, আর ৩৬ ভাগ থাকবে বেসরকারি হাতে। সরকার তড়িঘড়ি করে বেজ প্ল্যান্টগুলো প্রাইভেটে দিয়ে দিল। সবকিছু মিলিয়ে আমি মনে করি এই প্ল্যান খারাপ ছিল, দুরভিসন্ধিমূলক ছিল এবং দুর্নীতিগ্রস্ত ছিল। শতভাগ বিদ্যুতের দেশ বলে হাতিরঝিলে অনেক ফানুস উড়ল, কিন্তু আজকে এসে আমরা বিদ্যুৎ পাচ্ছি না।’
সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন হলে বিদ্যুৎ ঘাটতি কাটবে কি না, জানতে চাইলে সাংবাদিকদের তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের রিজার্ভে টান পড়েছে তাই তেল, গ্যাস আমদানি করতে পারছে না। সারা দিন এত ঢোল পেটাল সিঙ্গাপুর, ব্যাংকককে ছাড়িয়ে গেছি আমরা, সেই রিজার্ভ এখন কোথায়। হঠাৎ করে নাই হয়ে গেল কেন। আজকে দেশ অর্থনৈতিক ক্রাইসিসে দাঁড়িয়ে গেছে এবং এটার জন্য আমি পুরোপুরি সরকারকে দায়ী করি।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন, সদস্য সচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সদস্য ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, শায়রুল কবির খান।
