নড়াইলের মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে হেনস্তা ও নির্যাতনের ঘটনায় বিচারিক তদন্তে নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি এসএম মনিরুজ্জামানের অবকাশকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেয়।
নড়াইলের মুখ্য বিচারিক হাকিমকে (চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) ঘটনার তদন্ত করে ছয় সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে আদেশে। একই সঙ্গে স্বপন কুমার বিশ্বাসকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এ বিষয়ে আগামী ১৭ অক্টোবর পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেছে আদালত।
ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বহিষ্কৃত মুখপাত্র নূপুর শর্মার সমর্থনে মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের এক হিন্দু শিক্ষার্থী ফেইসবুকে পোস্ট দেয়। এ নিয়ে গত ১৮ জুন কলেজ ক্যাম্পাসে সহিংসতা ও বিক্ষোভ হয়। পরে গুজব ছড়ানো হয় যে ওই শিক্ষার্থীর পক্ষ নিয়েছেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস। এর জেরে ওইদিন বিকেলে তার গলায় জুতার মালা পরিয়ে ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে আসার একটি ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যাতে দেখা যায়, পুলিশের উপস্থিতিতেই ওই শিক্ষক হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। এ নিয়ে দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে।
ওই ঘটনা রোধে বিবাদীদের (রিট মামলার বিবাদী) অবহেলার বিষয়ে বিচারিক তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে গত ৪ জুলাই মানবাধিকার ও আইনি সহায়তা সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পক্ষে একটি রিট আবেদন করা হয়। আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না, অনিক আর হক ও মো. শাহীনুজ্জামান শাহীন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস। রুলে স্বপন কুমার বিশ্বাসের সুরক্ষায় বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্র্তৃত্ববহির্ভূত হবে না তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, নড়াইলের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শুনানিতে বলেছি, ওই শিক্ষকের গলায় জুতার মালা পরানো মানে আমার পিতার গলায় পরানো। পুলিশ ও প্রশাসনের লোকদের সামনে প্রকাশ্যে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা কীভাবে ঘটে তার তদন্ত দরকার। আদালত বিচারিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।’
