রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ৬৭০০ কোটি ডলার

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২২, ১১:৪২ পিএম

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা রপ্তানি করে ৬ হাজার ৭০০ কোটি ডলার আয়ের আশা করছে বাণিজ্য মন্ত্রণলায়। যা গত অর্থবছরের রপ্তানি আয়ের চেয়ে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। করোনা মহামারীর মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে ৫ হাজার ২০০ কোটি ডলারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও রপ্তানি হয়েছে ৬ হাজার কোটি ডলারের বেশি।

বিশে^র বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার, করোনা পরবর্তী অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, বিশ^ সরবরাহ ব্যবস্থা, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বিশ^ বাণিজ্যে দৃশ্যমান অভিঘাত, রপ্তানি খাত ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ওপর ভিত্তি করেই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)।

গতকাল বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে নতুন অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, আগের অর্থবছরের প্রকৃত আয় থেকে ১১ দশমিক ৩৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে নতুন অর্থবছরে ৫ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানির প্রত্যাশা করা হচ্ছে। আর সেবা খাতে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ৯০০ কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে পণ্য ও সেবা খাত মিলে মোট ৬ হাজার ৭০০ কোটি ডলার রপ্তানি আয় হবে আশা করা যায়।

২০২১-২২ অর্থবছরের ১২ মাসে বাংলাদেশে থেকে পাঁচ হাজার ২০৮ কোটি ২৬ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়, যা ছিল লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেশি এবং আগের অর্থবছরের চেয়ে ৩৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেশি। আর সেবা খাতে গত অর্থবছরে ৮০০ কোটি ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেশি। পণ্য ও সেবা খাত মিলে ৫ হাজার ১ কোটি ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয় হয় মোট ৬ হাজার ৮ কোটি ডলার, যা ছিল লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৭ দশমিক ৮০ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশের রপ্তানির ইতিহাসে এটাই ছিল সর্বোচ্চ আয়; বছরজুড়ে প্রবৃদ্ধির ওই অঙ্কও অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। কভিড-১৯ মহামারীর কারণে প্রায় দুই বছর অর্থনৈতিক সংকোচন চলে বিশ্বজুড়ে। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের ফলে ক্রেতা দেশগুলোতে এখন ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। আর সে কারণেই রপ্তানিতে এই অভূতপূর্ব প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে মনে করেন টিপু মুনশি।

নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের ক্ষেত্রে ইউরোপে চলমান দাবদাহ, যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতিসহ অন্যান্য চ্যালেঞ্জগুলোও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অর্জনের গতিধারা, পণ্য ও বাজার সম্প্রসারণে সরকারের দেওয়া আর্থিক সুবিধা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব বিশ^বাণিজ্যেও সাম্প্রতিক গতিধারা ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

টিপু মুনশি বলেন, অনেক পণ্যের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রপ্তানি বাড়ছে না। তারপরও নেতিবাচক কিছু নেই। পোশাক খাতের পরেই চামড়া নিয়ে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। চামড়া শিল্পনগরীর বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে। বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক। এ খাতের রপ্তানির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৫ দশমিক ৪৭ ভাগ। মোট রপ্তানির সিংহভাগ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। আশা করা হচ্ছে, আগামীতেও এ খাতের রপ্তানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া, আমাদের কৃষি খাত, চামড়া খাত, পাট খাত, হোম টেক্সটাইল খাতের রপ্তানি ইতিমধ্যে প্রতিটি খাতে ১০০ কোটি ডলারের বেশি হয়েছে। আইসিটি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ প্রায় ৮-১০টি খাতের রপ্তানি বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। বিশেষ করে আইসিটি খাতের রপ্তানি ২০২৫ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলার হবে।

বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য রপ্তানি পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে, নিটওয়্যার ও ওভেন পণ্য, কৃষিপণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, হিমায়িত মাছ, ইঞ্জিনিয়ারিং প্রডাক্টস। প্রধান রপ্তানি গন্তব্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান, নেদারল্যান্ডস, কানাডা, বেলজিয়াম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত