ভাইরাস জ্বর সংক্রমিত হয়

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২২, ১১:৪৬ পিএম

সিজনাল জ্বর বা ভাইরাস জ্বর হঠাৎ করেই হয় এবং খুব সহজে একজন থেকে অন্যজনে ছড়ায়। পরিবারের একজনের হলে বাকিরাও আক্রান্ত হতে পারে। চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে অফিসে একজন থেকে আরেকজন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

লক্ষণ

এই জ্বর হলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে ১০২ থেকে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে। বমি হয়, সেইসঙ্গে সর্দি ও হাঁচি থাকে। চোখ লাল হয়ে যায়। এসব উপসর্গ থাকলে মোটামুটি ধরে নেওয়া যেতে পারে রোগীর ভাইরাস জ্বর হয়েছে।

করণীয়

সিজনাল জ্বর বা ভাইরাস জ্বরে শরীরের তাপমাত্রা একটু বেশি থাকে তাই রোগীর শরীর কুসুম গরম পানিতে ভেজানো তোয়ালে বা গামছা চিপে, তা দিয়ে মুছে দিতে হবে। এভাবে কয়েকবার মুছে দিলে শরীরের তাপমাত্রা কমে আসবে। কিছুক্ষণ পরপর মাথায় পানি দিতে হবে। জ্বর না কমলে সামান্য কিছু খেয়ে প্যারাসিটামল ট্যাবলেট বা সিরাপ খাওয়া যেতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খেতে হবে। বহু মানুষ জ্বরের সময় ডিম, মাছ কিংবা মাংস খাওয়ার পরামর্শ দেন। পুষ্টিবিদদের মতে, এই সময়ে জ্বরে আক্রান্ত রোগী ইনফেকশনের সঙ্গে লড়াই করে। তার সঙ্গে থাকে ওষুধ। অনেক রোগী এই সময়ে ডিহাইড্রেশনে ভোগে। এছাড়াও আরও নানা সমস্যা দেখা দেয়। তাই সঠিক পুষ্টিকর খাবার খাওয়া প্রয়োজন।

জ্বর কমাতে বা নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছু খাবার দারুণ কার্যকর। যেমন, তরল খাবার দিতে হবে কারণ জ্বরের সময় শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়ে। তাছাড়া তরল খাবার হজমে সহায়তা করে। তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে এবং পানিশূন্যতা রোধে ভালো কাজ করে। এ সময় অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেশি পানি পান করা প্রয়োজন। পানি ছাড়া তরল খাবার হিসেবে ফলের জুস বিশেষ করে ভিটামিন ‘সি’ যুক্ত লেবু, আনারস, কমলা, মালটার মতো টকজাতীয় ফলের জুস বেশ উপকারী। প্রতিদিন দুই থেকে তিনবার ফলের জুস পান করলে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগানোসহ জ্বরের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।

সর্দি-কাশিজনিত জ্বরে লাল চা বেশ উপকারী। সবচেয়ে ভালো হয় আদা, লং, এলাচ পানির সঙ্গে ফুটিয়ে অর্ধেক করে এর সঙ্গে লেবু ও মধু মিশিয়ে খেলে। এ ছাড়া তুলসী চা, গ্রিন টিও পান করা যেতে পারে। জ্বরের সময় নরম ও পাতলা মুগডালের খিচুড়ি, জাউভাত, সুজি, সাগু, পুডিং, নরম ও কাঁটা ছাড়া মাছ ইত্যাদি রোগীকে দেওয়া । এসব খাবার বেশি চিবোতে হয় না বলে সহজে গেলা যায়। হজমও হয় সহজে।

যেকোনো ধরনের পুষ্টিকর খাবার জ্বরে আক্রান্ত রোগীর শরীরে প্রোটিনের মাত্রা ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ডিম, মাছ, মুরগির মাংস, এই সবকিছুতেই প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন বি-সিক্স, বি১২, জিঙ্ক এবং সেলেনিয়াম রয়েছে। এই সব কিছুই হাড় মজবুত করার সঙ্গে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করে। সঙ্গে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তার সঙ্গে শরীরের দুর্বলতা দূর করে। প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় তাই এই সব পুষ্টিকর খাবার রাখা খুবই জরুরি। তাছাড়া সিজনাল বা ভাইরাস জ্বর দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে এমনিতেই সেরে যায়। তাই প্রয়োজন না হলে অ্যান্টিবায়োটিক দেবেন না।

জ্বরের সময় যা করবেন না

সিজনাল বা ভাইরাস জ্বর হলে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খাওয়ার দরকার নেই। তিন থেকে চার দিনের মধ্যে জ্বর ভালো না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। খাবার-দাবার বন্ধ করা চলবে না। বদ্ধ ঘরে থাকা যাবে না। ছোঁয়াচে বলে অন্যদের থেকে পৃথক থাকার চেষ্টা করুন। এছাড়া জ্বর অতিরিক্ত বেশি থাকে আর সেই সঙ্গে যদি মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, গলায় ব্যথা এবং চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয় তাহলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করুন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত