নির্মাণশৈলীর বিস্ময় গোল্ডেন গেইট সেতু

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২২, ১১:৫৩ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো শহরের গোল্ডেন গেইট সেতু বিশ্বের নামকরা সেতুগুলোর মধ্যে একটি। জোসেফ স্ট্রসের নকশায় ১৯৩৩ সালে এটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। নির্মাণে ব্যয় হয় সাড়ে তিন কোটি ডলার। গোল্ডেন গেইট সেতু নিয়ে রয়েছে চমকপ্রদ নানা গল্প। লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া

গোল্ডেন গেইট

বিশ্বে নামকরা যত সেতু রয়েছে, তার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ডেন গেইট অন্যতম। আইকনিক এই সাসপেনশন সেতু দেশটির ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ফ্রান্সিসকো শহরের সঙ্গে মেরিন কাউন্টির মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে। এক মাইল চওড়া গোল্ডেন গেইট নামে সরু এক প্রণালীর ওপর প্রায় দুই মাইল বিস্তৃত এই সেতু। গোল্ডেন গেইট প্রণালীই সান ফ্রান্সিসকো বে-এর সঙ্গে প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে। ১৯৩৩ সালে গোল্ডেন গেইট সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। মূলত সান ফ্রান্সিসকো শহরের সঙ্গে এর উত্তরাঞ্চলের সরাসরি যোগাযোগের লক্ষ্যে এই সেতু নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। গোল্ডেন গেইট সেতু নির্মাণের সময় যুক্তরাষ্ট্রে মহামন্দা চলছিল। লাখ লাখ মানুষ সে সময় বেকার হয়ে পড়েন। গোল্ডেন গেইট সেতু প্রকল্পে তাদের একাংশের কর্মসংস্থান হয়। ১৯৩৭ সালে এই সেতুর উদ্বোধন হয়। এটির স্থাপত্যশৈলী আধুনিক প্রকৌশল জগতের এক বিস্ময় হিসেবে দেখেন বিশেষজ্ঞরা।    

দৈর্ঘ্য

আধুনিক প্রকৌশল জগতের বিস্ময় গোল্ডেন গেইট সেতু ১.৭ মাইল দীর্ঘ ও ৯০ ফুট প্রশস্ত। দুই টাওয়ারের মধ্যে এই সাসপেনশন সেতুর ৪ হাজার ২০০ ফুট দৈর্ঘ্যরে প্রধান স্প্যান ১৯৮১ সাল পর্যন্ত বিশ্বে দীর্ঘতম ছিল। এ ছাড়া গোল্ডেন গেইট সেতুর ৭৪৬ ফুট লম্বা টাওয়ারগুলো এটিকে বিশ্বের সর্বোচ্চ সেতুতে পরিণত করে, ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত এই রেকর্ড ছিল সেতুটির। ১৯৮৯ সালে সান ফ্রান্সিসকোতে এক ভয়াবহ বিধ্বংসী ভূমিকম্পেও অটুট থাকে গোল্ডেন গেইট সেতু। নির্মাণের প্রথম ৭৫ বছরে মাত্র তিনবার এই সেতু বন্ধ রাখা হয়। এর জন্য দায়ী অত্যন্ত প্রতিকূল আবহাওয়া। ধারণা করা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন নয়নাভিরাম সেতুর মধ্যে গোল্ডেন গেইট সেতুকেই ছবিতে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় দেখায়। ১৯৯৪ সালে আমেরিকান সোসাইটি অব সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স (এএসসিই) সেতুটিকে যুক্তরাষ্ট্রের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাত বিস্ময়ের মধ্যে একটি হিসেবে মনোনীত করে।

শুরু যেভাবে

কয়েক দশক ধরে গোল্ডেন গেইট প্রণালীর ওপর সান ফ্রান্সিসকো শহরের সঙ্গে প্রতিবেশী এলাকার সংযোগ স্থাপনে সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন ওই অঞ্চলের মানুষ। তাদের দাবিতে সাড়া দিয়ে ১৯১৯ সালে শহরটির প্রধান প্রকৌশলী মাইকেল অ’ শোনেসিকে এমন এক প্রকৌশলীর সন্ধান দিতে বলা হয়, যিনি কম খরচে ওই প্রণালীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ করতে পারবেন। মাইকেল অ’ শোনেসি অনেক খোঁজাখুঁজি করে এই দায়িত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের শিকাগো শহরের প্রকৌশলী জোসেফ স্ট্রসকে যোগ্য মনে করেন। বড় এই প্রকল্পের জন্য ২৫ থেকে ৩০ মিলিয়ন ডলার নির্মাণ ব্যয় ধরেন স্ট্রস। ১৯২১ সালের জুন মাসে সেতুর নকশার স্কেচ জমা দেন তিনি। গোল্ডেন গেইট প্রণালীর উত্তরাঞ্চলে বসবাসরত মানুষদের তিনি আশ্বস্ত করতে সক্ষম হন, এই সেতু তাদের উপকার বয়ে আনবে। ১৯২৩ সালে পরিকল্পনা, নকশা ও অর্থায়নের জন্য ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের আইনসভা গোল্ডেন গেইট সেতু ও মহাসড়ক আইন পাস করলে সেতু প্রকল্পের কাজ বেগবান হয়। ১৯২৫ সালের আগস্ট মাসের মধ্যে গোল্ডেন গেইট প্রণালীর  উত্তরাঞ্চলীয় মারিন, সোনোমা, ডেল নর্তে কাউন্টির সব মানুষ এবং নাপা ও মেনডোসিনো কাউন্টির কয়েকটি এলাকার মানুষ সেতুর জন্য তাদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জামানত হিসেবে রাখতে রাজি হন। প্রকৌশলী স্ট্রস সেতুর নির্মাণ ব্যয় ২৫-৩০ মিলিয়ন ডলার ধরলেও শেষ পর্যন্ত খরচ হয় ৩৫ মিলিয়ন ডলার অর্থাৎ সাড়ে তিন কোটি ডলার।        

চমকপ্রদ তথ্য

গোল্ডেন গেইট সেতু নির্মাণের সময় বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটে। তার মধ্যে ভূমিকম্পের ঘটনা বেশ বিস্ময়কর। ১৯৩৫ সালের জুনে সান ফ্রান্সিসকো শহরে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পের সময় গোল্ডেন গেইট সেতুর দক্ষিণ টাওয়ারের মাথায় কাজ করছিলেন বেশ কয়েকজন শ্রমিক। পরবর্তী সময়ে এক শ্রমিক সেদিনের সেই ঘটনা স্মরণ করে বলেন, ‘ভূমিকম্পের সময় দক্ষিণ টাওয়ার দুপাশে ১৬ ফুট পর্যন্ত দুলছিল। টাওয়ারের একেবারে ওপরে আমরা তখন ১২/১৩ জনের মতো ছিলাম। টাওয়ার থেকে নামার কোনো উপায় ছিল না। পুরো টাওয়ার একবার প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে হেলে পড়ছিল, আরেকবার সান ফ্রান্সিসকো বে-এর দিকে ঝুঁকছিল। শেষ পর্যন্ত অবশ্য টাওয়ারের কোনো ক্ষতি হয়নি। ভূমিকম্প থামলে আমরা তাড়াহুড়ো করে নেমে পড়ি। বেঁচে ফিরব, আমরা কেউই তা আশা করিনি।’গোল্ডেন গেইট সেতুর আরেক ঘটনা ছিল সেফটি নেট ঘিরে। নির্মাণের সময় সেতুর নিচে সেফটি নেট বিছানো হয়। সেতুর চেয়ে এই নেট প্রস্থে ১০ ফুট চওড়া ও দৈর্ঘ্যে ১৫ ফুট লম্বা। গোল্ডেন গেইট সেতুর ১৯ শ্রমিক নির্মাণের সময় পা হড়কে নিচে পড়ে গেলে এই সেফটি নেট তাদের রক্ষা করে। এই ১৯ জনকে পরে ‘জাহান্নামের মাঝপথ থেকে ফেরত আসা ব্যক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। অবশ্য সেফটি নেটের মতো অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হলেও চার বছর ধরে সেতুটির নির্মাণকালে ১১ জনের মৃত্যু ঘটে।  

গোল্ডেন গেইট সেতুর কমলা রং নিয়েও বেশ মজার ঘটনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী চেয়েছিল, সেতুর রং যেন নীল ও হলুদ রঙের ডোরাকাটা হয় যাতে এটিকে কুয়াশার মধ্যে দূর থেকে দেখা যায়। তবে সান ফ্রান্সিসকো শহরে যখন সেতুর জন্য পোড়া লাল রঙা স্টিল এসে পৌঁছায়, তখন কনসাল্টিং স্থপতি সিদ্ধান্ত নেন, এই রং নীল-হলুদ রঙের চেয়ে একই সঙ্গে বেশি দৃশ্যমান ও চোখের জন্য আরামের। আসলে নৌবাহিনীর ইচ্ছা অনুযায়ী সেতুর স্টিলের গায়ে নীল ও হলুদ রং দেওয়ার আগে পুড়ে যাওয়া লাল রং প্রাথমিকভাবে লাগানো হয়েছিল। গোল্ডেন গেইট সেতুর সেই লাল রঙের নাম পরবর্তী সময়ে দেওয়া হয় ‘আন্তর্জাতিক কমলা’।  

১৯৩৭ সালের ২৭ মে পথচারী দিবসে গোল্ডেন গেইট সেতু জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। সেদিন প্রায় দুই লাখ মানুষ সেতুটি পাড়ি দেন। উদ্বোধনের দিন অনেকে নানা ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন। কে সবার আগে সেতুটি অতিক্রম করতে পারবেন, এ নিয়ে প্রতিযোগিতা হয়। এ ছাড়া রণপা ব্যবহার করে কে আগে সেতুর অপর পাশে যেতে পারবেন, সেই প্রতিযোগিতাও হয়। পরের দিন ২৮ মে যানবাহনের জন্য সেতুটি উন্মুক্ত করা হয়।  

১৯৩৭ সালে গোল্ডেন গেইট সেতুর ওপর দিয়ে গাড়ি যেতে ও আসতে এক ডলার টোল ফি দেওয়া লাগত, যা আজকের সময়ে ১৮ ডলারের সমতুল্য। ত্রিশের দশকে মহামন্দার সময়ে এই পরিমাণ টোল নিঃসন্দেহে অনেক বেশি ছিল। গোল্ডেন গেইট সেতু বিষয়ে চমকপ্রদ আরেক ঘটনা ঘটে এটির ৫০তম বর্ষপূর্তির দিন। ১৯৮৭ সালের ২৪ মে সান ফ্রান্সিসকো শহরের লাখো মানুষ সেতুর ওপর হেঁটে বর্ষপূতি উদযাপন করেন। সেতুতে সেদিন প্রায় তিন লাখ মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। এত মানুষের ভারে গোল্ডেন গেইট সেতুর অবস্থা বেশ সঙ্গিন হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ভার বইতে না পেরে সেতুর মাঝখান বরাবর সাত ফুট কংক্রিট ডেবে যায়। এতে সেতুর আইকনিক খিলান চ্যাপ্টা হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সান ফ্রান্সিসকো শহর কর্র্তৃপক্ষ দ্রুত সেতুটি বন্ধ করে দেয়। ছয় লাখের মতো মানুষ যারা সেতু পাড়ি দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন, সেতুটি হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়ায় তারা ফিরে যেতে বাধ্য হন। পরে অবশ্য প্রকৌশলীরা বলেছিলেন, মানুষের চাপ বেশি হলেও সেতুটি ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে ছিল না।

গোল্ডেন গেইট সেতুর দক্ষিণ ও মাঝের টাওয়ারে কুয়াশার সাইরেন বসানো রয়েছে। সান ফ্রান্সিসকো বে ঘন কুয়াশার জন্য বিখ্যাত। সাইরেনের মাধ্যমে এই কুয়াশা ঠেলে সরাতে সেতুর ভূমিকা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়। গোল্ডেন গেইট সেতুর প্রতিটি সাইরেন থেকে বিভিন্ন সময়ে জোরে বিভিন্ন ধরনের ধ্বনি বের হয়। এতে জাহাজগুলো ঘন কুয়াশার মধ্য দিয়ে নিরাপদে চলাচল করতে পারে। মার্চ মাসে কুয়াশার সাইরেন দিনে আধ ঘণ্টার কম সময় ধরে শোনা যায়। অন্যদিকে সান ফ্রান্সিসকোর কুয়াশাচ্ছন্ন মৌসুমে দিনের পর দিন পাঁচ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় ধরে সাইরেন শোনা যায়। বছর জুড়ে গোল্ডেন গেইট সেতুর দক্ষিণ ও মাঝের টাওয়ারের কুয়াশার সাইরেন প্রতিদিন গড়ে আড়াই ঘণ্টা ধরে বাজে। সেতুর রং যেটিকে আন্তর্জাতিক কমলা নাম দেওয়া হয়, সেই রং পছন্দ করার অন্যতম কারণ ছিল কুয়াশার মধ্যে সেতুটিকে এই রঙে অনেক বেশি পরিষ্কারভাবে দেখা যায়।

ত্রিশের দশকে গোল্ডেন গেইট সেতুতে এক ধরনের প্রাইমার লাগানো হয়। এই প্রাইমারে সিসার পরিমাণ অনেক বেশি ছিল। সে সময় স্থপতিরা মনে করেছিলেন, এই সিসা সেতুর স্টিলের কাঠামোকে ক্ষয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করবে। পরে তারা জানতে পারেন, সেতুতে লাগানো সিসা মানুষ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। সিদ্ধান্ত আসে, সেতুর গা থেকে সিসা সরাতে হবে। ১৯৬৫ সালে গোল্ডেন গেইট সেতুর সব সিসাভিত্তিক রং তুলে ফেলার কাজ শুরু হয়। ১৯৯৫ সালে এই কাজ শেষ হয়। টানা ৩০ বছর সময় লেগেছিল সেতু থেকে সিসার রং সরাতে। পরে দস্তাভিত্তিক প্রাইমার লাগানো হয়। এই প্রাইমার এখনো ব্যবহার করা হয়। সেতু রক্ষণাবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান গোল্ডেন গেইট ব্রিজ, হাইওয়ে অ্যান্ড ট্রান্সপোরটেশন ডিস্ট্রিক্ট দস্তাকে ‘আত্মত্যাগী ধাতু’ হিসেবে অভিহিত করে, যা মরচে পড়ার হাত থেকে সেতুর স্টিলকে রক্ষা করে আসছে। 

গোল্ডেন গেইট সেতু সম্পর্কে আরও যেসব তথ্য জানা যায়, তার একটি হচ্ছে এটির মূল নকশা সম্পর্কিত। ১৯২১ সালে প্রধান প্রকৌশলী জোসেফ স্ট্রস সেতুর মূল নকশা শহর কর্র্তৃপক্ষের কাছে জমা দেন। তার এই নকশা ছিল ক্যান্টিলিভার ও সাসপেনশন সেতুর সংকর, যা দেখতে মোটেই আধুনিক ছিল না। স্ট্রসের নকশা দেখে এক সমালোচক বলেই বসলেন, এটি দেখতে ইঁদুরের ওল্টানো ফাঁদের মতো হয়েছে। স্ট্রসের নকশা কাজের উপযোগী হলেও একেবারেই মনকাড়া ছিল না। সমালোচনা শুনে প্রকৌশলী স্ট্রস তার নকশা বাতিল করেন। পরে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রকৌশলীদের সামনে নান্দনিক এক সাসপেনশন সেতুর নকশা উপস্থাপন করেন, যা সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন পায়।

গোল্ডেন গেইট সেতুর নির্মাণব্যয় বহনের দায়িত্ব পড়েছিল ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য কর্র্তৃপক্ষের ওপর। সে সময় বেশির ভাগ অর্থ এসেছিল রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা গোল্ডেন গেইট ব্রিজ অ্যান্ড হাইওয়ে ডিস্ট্রিক্টের বিক্রি করা বন্ড থেকে। ১৯৩০ সালে মহামন্দার সময়ে দিনযাপন করলেও সান ফ্রান্সিসকোর ছয়টি কাউন্টির ভোটাররা ৩৫ মিলিয়ন ডলারের বন্ড ইস্যু অনুমোদন করেন, যেখানে জামানত হিসেবে ছিল তাদের বাড়িঘর, খামার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।               

আত্মহত্যার স্থান

১৯৩৭ সালের আগস্টে খুলে দেওয়ার তিন মাস পর গোল্ডেন গেইট সেতুতে এক পর্যটকের সঙ্গে হাঁটছিলেন এইচ বি ওবার নামে যুক্তরাষ্ট্রের এক নাগরিক। ওই পর্যটকের সঙ্গে সেতুতে আসার সময় বাসে পরিচয় হয় ওবারের। হাঁটতে হাঁটতে একপর্যায়ে সঙ্গীকে ওবার জানান, তিনি সান ফ্রান্সিসকো বে-তে ঝাঁপ দেবেন। ওই পর্যটক তাকে থামানোর অনেক চেষ্টা করলেও কোনো লাভ হয়নি। ওবারই ইতিহাসে প্রথম গোল্ডেন গেইট সেতু থেকে আত্মহত্যা করেন। ঝাঁপ দেওয়ার চার সেকেন্ড পর ঘণ্টায় ৭৫ মাইল বেগে সান ফ্রান্সিসকো বে-এর ওপরের অংশে আঘাত করেন তিনি। ওবারের পর দেড় হাজারের বেশি মানুষ গোল্ডেন গেইট সেতুকে আত্মহত্যার স্থান হিসেবে বেছে নেন। প্রতি তিন সপ্তাহের কম সময়ে গড়ে একজন এই সেতু থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে মাত্র ৩০ জনকে পরবর্তী সময়ে বাঁচানো সম্ভব হয়। গোল্ডেন গেইট সেতু আত্মহত্যার স্থানের তালিকায় বিশ্বে শীর্ষ। সেতুটির ১১ জায়গায় জরুরি পরামর্শের জন্য টেলিফোন রয়েছে। এই ফোনের অপর পাশে সবসময় থাকেন প্রশিক্ষিত আত্মহত্যা প্রতিরোধবিষয়ক পরামর্শদাতারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত