অনেকে অতি চঞ্চল (হাইপার একটিভ) শিশুর খাবার থেকে ডিম-দুধ, গমজাত অনেক খাবারই ঢালাওভাবে বন্ধ করে দিয়ে থাকেন। এতে শিশুর পুষ্টি ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একথা ঠিক যে অতি চঞ্চলতার একটি কারণ হলো বিশেষ ধরনের খাবার অ্যালার্জি। কিন্তু এটিও সত্য একই খাবারে শসা দই সালাদ সবার অ্যালার্জি হয় না। তাই শিশুকে ঢালাওভাবে সব খাবার বন্ধ করা উচিত নয়। এর জন্য প্রয়োজন কোনো খাবারে সত্যিই কোনো প্রভাব আছে কি না তা পরীক্ষা করা। পরীক্ষায় যদি বোঝা যায় একটি বিশেষ খাবার শিশুর আচরণে অতি চঞ্চলতা বাড়িয়ে দিচ্ছে তবে সেই খাবারটি না দিয়ে পুষ্টির জন্য বিকল্প খাবার দিতে হবে। আসুন জেনে নিই কীভাবে শিশুর খাবারের অ্যালার্জি পরীক্ষা করা যায়।
ধাপ ১
প্রথমে শিশুকে সব খাবার দিতে হবে এবং অতি চঞ্চলতার মাত্রা পরীক্ষা করতে হবে। অতি চঞ্চলতার মাত্রা নির্ণয়ের জন্য ১ থেকে ১০ মাত্রার একটি স্কেল ব্যবহার করা যেতে পারে। শিশুর অতি চঞ্চলতা যদি খুব সামান্য থাকে তবে মাত্রাটি হবে ১। উল্টোদিকে সব চেয়ে বেশি হলে ১০। অর্থাৎ বাবা-মা শিশুর অতি চঞ্চলতা পর্যবেক্ষণ করে তা ১ থেকে ১০ এর মধ্যে যেকোনো একটি মাত্রা নির্ণয় করবেন। এরপর শিশু প্রতিদিন কী কী খাবার খেল এবং অতি চঞ্চলতার মাত্রা কত তা নিচের টেবিলে লিপিবদ্ধ করবেন। এভাবে দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর্যবেক্ষণ করবেন।
ধাপ ২
এরপর খাদ্যতালিকা থেকে অতি চঞ্চলতার জন্য দায়ী বলে মনে করা হয় এমন যেকোনো একটি খাদ্য বাদ দিতে হবে এবং একইভাবে আগের মতো খাদ্যতালিকা ও অতি চঞ্চলতার মূল্যায়ন টেবিলটি চালু রাখতে হবে। এই ধাপটিও দুই থেকে তিন সপ্তাহ চালাতে হবে এবং দেখতে হবে আগের সপ্তাহগুলোর তুলনায় অতি চঞ্চলতা কমেছে কি না।
ধাপ ৩
যদি আগের খাদ্যটি বাদ দেওয়ার ফলে অতি চঞ্চলতা কমে তবে সেটিসহ নতুন একটি খাবার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে ধাপ ২ এর মতো করে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কিন্তু এর আগের ধাপে যদি অতি চঞ্চলতা না কমে থাকে তবে আগে বাদ দেওয়া খাবারটি চালু রাখতে হবে।
এইভাবে কয়েক ধরনের খাবার বাদ রেখে পর্যবেক্ষণ করলেই বোঝা যাবে যে, কোনো খাবারের আদৌ কোনো প্রভাব আছে কি না। যদি প্রভাব থাকে তবে শুধু ওই খাবারটি বন্ধ করে বিকল্প খাবার দিতে হবে। ঢালাওভাবে পুষ্টিকর খাবার বন্ধ করার দরকার পড়বে না। তবে যে খাবারগুলো না দিলেও শিশুর পুষ্টি ঘাটতি হবে না এমন খাবারগুলো প্রাথমিকভাবে বন্ধ করা যেতে পারে যেমন : প্রক্রিয়াজাত ও প্রিজারভেটিভ যুক্ত খাবার, কোমল পানীয়, কৃত্রিম জুস, কৃত্রিম উপাদান যুক্ত খাবার ইত্যাদি।
