করোনা মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্ত কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (সিএমএসএমই) জন্য তৃতীয়বারের মতো ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক। এই প্যাকেজ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত সিএমএসএমই প্রতিষ্ঠান ৪ শতাংশ সুদে ঋণ পাবে। আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত এই প্যাকেজ চালু থাকবে।
গতকাল রবিবার এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগ থেকে একটি সার্কুলার জারি করে সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের পাঠানো হয়।
সার্কুলারের নির্দেশনা অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র শিল্পে ঋণ জোগানের জন্য আগের মতোই ২০ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে। এই তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া হবে। তবে গ্রাহকদের এই সুদের ৪ শতাংশ পরিশোধ করতে হবে। বাকি ৫ শতাংশ সুদ সরকার ভর্তুকি হিসেবে ব্যাংকগুলোকে পরিশোধ করবে।
এই প্যাকেজের বরাদ্দকৃত তহবিলের ৭০ শতাংশ কুটির, অতিক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র (সিএমএস) শিল্পে বিতরণ করা হবে। বাকি ৩০ শতাংশ ঋণ পাবে মাঝারি শিল্প খাতের উদ্যোক্তারা।
প্যাকেজের আওতায় বার্ষিক মোট ঋণের ৮ শতাংশ নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে বলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা রয়েছে।
২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনা মহামারী দেখা দেওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রপ্তানিমুখী শিল্প, কৃষি ও ক্ষুদ্র শিল্পের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তার লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি প্রণোদনা প্যাকেজ চালুর ঘোষণা দেয়। সেই ঘোষণা অনুযায়ী, ওই বছরের এপ্রিলে সিএমএসএমই খাতের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ধরনের আরও বেশ কয়েকটি প্রণোদনা প্যাকেজ চালু করা হয়। যার আর্থিক পরিমাণ ছিল প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা।
প্রথমবার ক্ষুদ্র শিল্পের জন্য গঠিত ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে ১৫ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়, ঋণ পেয়েছিলেন ৯৭ হাজার ৮১৪ গ্রাহক। দ্বিতীয় মেয়াদে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৪০৭ কোটি টাকা। ঋণ পেয়েছে ৩৫ হাজার ৭৬০টি প্রতিষ্ঠান।
তবে এই তহবিলের ঋণ বিতরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত নয় এমন গ্রাহকও এই তহবিল থেকে ঋণ পেয়েছেন। আবার প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকেই ঋণ চেয়েও পাচ্ছেন না।
