জঙ্গিবাদ বিদেশ থেকে ভাড়া করা জিনিস : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২২, ০৩:৫৩ এএম

বিভিন্ন সময় হলি আর্টিজান, শোলাকিয়াসহ নানা জাগয়ায় হামলা করে বাংলাদেশকে একটি জঙ্গি রাষ্ট্র বানানোর অপচেষ্টা চালানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ বিদেশ থেকে ভাড়া করা জিনিস। এর স্থান বাংলাদেশে নেই।

গতকাল রবিবার দুপুরে রাজারবাগে পুলিশ অডিটোরিয়ামে এন্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) সংকলিত ‘ইসলামের দৃষ্টিতে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এটিইউর অতিরিক্ত আইজিপি কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব আখতার হোসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ, শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের ইমাম শাইখুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ।

ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য দেন এটিইউর ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত আইজিপি, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা, বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে দেখানো ও প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, তাদের সে চেষ্টা এখনো অব্যাহত আছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনী সতর্কতার সঙ্গে তা মোকাবিলা করছে। তিনি বলেন, বিশ^ব্যাপী ইসলামকে উগ্রবাদ-সন্ত্রাসবাদের ধর্ম হিসেবে আখ্যা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে সেটি বাংলাদেশে সম্ভব হয়নি। যেখানে সিরিয়াসহ বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশ ধ্বংস হয়ে গেছে।

আসাদুজ্জামান খান বলেন, দেশের কৃষক-শ্রমিক, সাধারণ জনগণ, আলেম-ওলামা, মসজিদের ইমাম, শিক্ষকদের সহযোগিতায় জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যে ধর্মান্ধ রাষ্ট্র নয়, তা সারা পৃথিবীতে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। যে কারণে বাংলাদেশ সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তানে পরিণত হয়নি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আখতার হোসেন বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। এখানে সন্ত্রাস বা কারও ওপর আক্রমণের কোনো স্থান নেই। অথচ কোরআন-হাদিসের অপব্যাখ্যা দিয়ে উগ্রবাদী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন প্রচুর ইসলামিক কনটেন্ট দেখা যায়। যেখানে কোনো সেন্সর নেই, কোনো মডারেটর নেই, কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে অজস্র নতুন নতুন তথ্য ঢুকছে। এর কোনটা সঠিক আর কোনটা বেঠিক, তা বোঝা মুশকিল। এসবের বিরুদ্ধে ধর্মীয় চিন্তাবিদদের কথা বলতে হবে। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ইসলামি চিন্তাবিদরা অজানা কারণে কথা বলতে চান না। যারা ওয়াজ-মাহফিল করেন তারা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলেন না। তাদের কথা বলতে হবে।

এটিইউর প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. কামরুল আহসান বলেন, জঙ্গিবাদবিরোধী জনসচেতনতামূলক কাজের অংশ হিসেবে কোরআন-হাদিসের সঠিক তথ্য তুলে ধরে ‘ইসলামের দৃষ্টিতে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ গ্রন্থ’টি সংকলন করা হয়েছ।

মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ বলেন, ‘ইসলামের দৃষ্টিতে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ’ গ্রন্থে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। তিনি গ্রন্থটি পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করা এবং ইংরেজি ও আরবি ভাষায় অনুবাদ করে এর বহুল প্রচার করার আহ্বান জানান।

পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অন্যান্য অতিথিকে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন।

উল্লেখ্য, ইসলামের দৃষ্টিতে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ গ্রন্থে ইসলামের পরিচিতি থেকে শুরু করে জিহাদসহ বহুল আলোচিত ও চর্চিত ৪৪টি বিষয়ের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। ১৫ জন আলেম, গবেষক, অধ্যাপক ও খতিব বইটির সম্পাদনা পরিষদে যুক্ত ছিলেন। প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন শাইখুল ইসলাম আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ। গ্রন্থটি গ্রন্থনা ও সংকলন করেছেন মুফতি সদরুদ্দীন মাকনুন ও মাওলানা মিরাজ রহমান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত