একের পর এক মিথ্যা ঘোষণায় আসছে বিদেশি মদের চালান

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২২, ০৬:৫৯ এএম

মিথ্যা ঘোষণায় আনা একের পর এক বিদেশি মদের চালান আসছে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। সংঘবদ্ধ চক্রের যোগসাজশে কখনো কখনো তা নির্বিঘেœ খালাস হয়ে যাচ্ছে বন্দর থেকে। এর ফলে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। কাস্টমস কর্মকর্তারা গত তিন দিনে ৫ কন্টেইনার মদ আটক করেছেন। তবে এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন এর সঙ্গে জড়িতরা। এদিকে, মদ আটকের ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

কাস্টমস সূত্র জানায়, গত শনিবার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থেকে ২টি কন্টেইনার, রবিবার চট্টগ্রাম বন্দরে ১টি কন্টেইনার এবং সোমবার চট্টগ্রাম বন্দরে আরও ২টি মদের চালানের কন্টেইনার আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ থেকে আটক কন্টেইনার দুটিতে ৩৩০টি কার্টনে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৩১ হাজার ৬২৫ লিটার বিদেশি মদ পাওয়া গেছে। রবিবার চট্টগ্রাম বন্দরে আটক কন্টেইনারে পাওয়া গেছে ১ হাজার ৪৩০ কার্টনে ১৫ হাজার ২০৪ লিটার বিদেশি মদ। এই তিন চালানের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ৭ কোটি টাকা। সর্বশেষ সোমবার বন্দরে আটক দুটি কন্টেইনারে মদ ও সিগারেটের চালান রয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত চালানটির ইনভেন্ট্রির কাজ চলমান ছিল।

সর্বশেষ আটক মদের চালানের বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের অডিট ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ (্এআইআর) শাখার  ডেপুটি কমিশনার মো. সাইফুল হক দেশ রূপান্তরকে জানান, মোংলা ইপিজেড এলাকার প্রতিষ্ঠান ভিআইপি ইন্ডাস্ট্রিজ বাংলাদেশ (প্রা.) লিমিটেড এবং নীলফামারী জেলার উত্তরা ইপিজেড এলাকার প্রতিষ্ঠান ডং জিন ইন্ডাস্ট্রিয়াল (বিডি) কোম্পানি লিমিটেডের নামে যথাক্রমে সুতা ও রেজিন ঘোষণায় দুই কন্টেইনার পণ্য আমদানি করা হয়। এর মধ্যে ডং জিন-এর কন্টেইনার গত ১২ জুলাই এবং ভিআইপি ইন্ডাস্ট্রিজের কন্টেইনারটি ২ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। পর পর তিনটি মদের চালান আটক হওয়ার পর চীনের নিংবাও বন্দর থেকে আসা এ দুটি কন্টেইনার নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হওয়ায় কাস্টম হাউজ, চট্টগ্রামের এআইআর এবং পোর্ট কন্ট্রোল ইউনিট (পিসিইউ) শাখা কর্তৃক রিস্ক ম্যানেজমেন্টের আওতায় আলোচ্য পণ্য চালান দুটির বিল অব লেডিং (বিএল) কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে ব্লক করে দেওয়া হয়। সোমবার বন্দরের এনসিটি কন্টেইনার ইয়ার্ডে এআইআর শাখার টিম কন্টেইনার দুটি কায়িক পরীক্ষাকালে কন্টেইনারের ভেতরে কার্টন ভর্তি অবস্থায় বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও সিগারেট পাওয়া যায়। চালান দুটি ইনভেন্ট্রি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এতে কী পরিমাণ মদ ও সিগারেট রয়েছে তা বলা যাচ্ছে না।

এর আগে শনিবার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাস হয়ে যাওয়া দু’টি বিদেশি মদের চালান নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁ থেকে আটক করে র‌্যাব। ঈশ^রদী ইপিজেড ও কুমিল্লা ইপিজেডের দুটি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে চীন থেকে চালান দুটি চট্টগ্রাম বন্দরে আনা হয়। এরপর কাস্টমসের আইপি (আমদানি অনুমতিপত্র) জালিয়াতির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে চালান দুটি ওইদিন সন্ধ্যায় খালাস নেওয়া হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত ৯টার দিকে বেপজার ওয়েবসাইট যাচাই করে জালিয়াতির বিষয়টি শনাক্ত করা হয়। এরপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে চালান দুটি আটকের জন্য গোয়েন্দা সংস্থা, হাইওয়ে পুলিশ ও র‌্যাবের সহায়তা চাওয়া হয়। রাত আড়াইটার দিকে র‌্যাব ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়গঞ্জের সোনারগাঁ এলাকা থেকে কন্টেইনারবাহী লরি দুটি আটক করে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে কাস্টমস চালান দুটি শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করে ৩১ হাজার ৬২৫ লিটার বিদেশি মদ পাওয়া যায়। পরদিন রবিবার মিথ্যা ঘোষণায় আনা আরও একটি কন্টেইনার আটক হয় চট্টগ্রাম বন্দরে। ওই কন্টেইনারে পাওয়া যায় ১৫ হাজার ২০৪ লিটার মদ।

র‌্যাব সূত্র জানায়, সোনারগাঁ থেকে মদের চালান আটকের পর দুই লরিচালক মো. নাজমুল মোল্লা ও মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে সাইফুলকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মুন্সীগঞ্জের এক ইউপি চেয়ারম্যান ও তার দুই পুত্র এই চালানের সঙ্গে জড়িত বলে জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে। পরে তাদের তথ্যের ভিত্তিতে ওই চেয়ারম্যানের ছেলে আবদুল আহাদকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত