ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি হলের ডাইনিংয়েও

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২২, ০৪:৩২ এএম

রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে হলটির ডাইনিং থেকে প্রতি মাসে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, এই দুই ছাত্রনেতার দাবি করা চাঁদার টাকাসহ বিভিন্ন আবদার মেটাতে গিয়ে ডাইনিংয়ের খাবারের দাম যেমন একদিকে বাড়ানো হচ্ছে, তেমনি একই সঙ্গে কমছে খাবারের মান। তবে ছাত্রলীগ নেতা সজীব হোসাইন ও আরিফুর রহমান চাঁদা আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তারা উল্টো ডাইনিংয়ের খাবারের মানোন্নয়নের চেষ্টা করছেন।        

জানা গেছে, গেল ঈদুল আজহার ছুটির পর গত ১৭ জুলাই হল খুললেও এর সাত দিন পর গত রবিবার থেকে চালু হয়েছে ডাইনিং। এই সাত দিন ডাইনিং চালু না হওয়ার মূল কারণ খাবারের মূল্য নির্ধারণ। ডাইনিং চালুর পর হল কর্র্তৃপক্ষের স্বাক্ষরবিহীন এক নোটিসে বলা হয়, ‘প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় খাবারের মান ঠিক রাখতে হল ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে ডাইনিংয়ের খাবারের দাম পাঁচ টাকা বাড়িয়ে ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হলো।’

ডাইনিং সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি দেশ রূপান্তরকে জানান, ছাত্রলীগ নেতাদের চাঁদাবাজির খপ্পরে পড়ে বাধ্য হয়ে খাবারের দাম বাড়াতে হয়েছে। একই সঙ্গে কমছে খাবারের মান। এ অবস্থায় গত ছয় মাসে ডাইনিংয়ের তিনজন ম্যানেজার পরিবর্তন করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর শেকৃবি ছাত্রলীগের হল কমিটি ঘোষণার পর ডাইনিং থেকে নির্ধারিত হারে মাসিক চাঁদা দাবি করে হল ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান। তাদের চাঁদার কারণে গত ছয় মাসে তিনজন ডাইনিং ম্যানেজার পরিবর্তন হয়ে সর্বশেষ ডাইনিং পরিচালনার দায়িত্ব নেন হলটির সহকারী বাবুর্চি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রতিমাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে আসছেন তিনি। আর এই টাকার ঘাটতি মেটাতে গিয়ে খাবারের মানের আরও অবনতি হলে সাধারণ ছাত্ররা খাবারের মানোন্নয়নে তাকে চাপ দিতে থাকেন। এমন পরিস্থিতিতে হল ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সম্মতিক্রমে খাবারের দাম বাড়ায় হল কর্র্তৃপক্ষ। পরে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে গত সোমবার রাতে হল প্রভোস্ট, সহকারী প্রভোস্ট, হল ছাত্রলীগ সভাপতি, গণমাধ্যম কর্মী, ডাইনিং কর্মচারী ও সাধারণ কিছু শিক্ষার্থীর প্রভোস্টের কক্ষে বৈঠক হয়। সেখানে আলোচনার প্রেক্ষিতে খাবারের দাম ৩০ টাকা বহাল রাখা হয়।

ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাধারণ শিক্ষার্থী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা যারা নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান তারা বেশিরভাগই ডাইনিংয়ে খাই। যে পরিমাণ টাকা দিই, ডাইনিং থেকে সে মানের খাবার আমরা কখনো পাই না।’

মতিউর নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘খাবারের মান নেই এ নিয়ে কোনো ছাত্র প্রতিনিধিকে খবর নিতে দেখি না, কিন্তু খাবারের দাম বাড়ানোর সময় তারা হাজির।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হলটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা এক শিক্ষক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ছাত্রলীগের মিঠু-মিজানের (শেকৃবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক) নাম করেও হল থেকে বিভিন্ন সময়ে চাঁদা আদায় করা হয়। হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের জন্মদিনে ১০০ কর্মীকে খাওয়ানো হয়, কিন্তু টাকা দেওয়া হয়নি। এ ছাড়াও বিভিন্ন প্রোগ্রামের সময় প্রশাসনকে চাপ দেয় তাদের টাকা দেওয়ার জন্য।’

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হল ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান। তাদের মধ্যে সজীব হোসাইন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এসব ভিত্তিহীন কথা। বরং আমরাই ডাইনিংয়ের খাবারের মানোন্নয়নের জন্য চেষ্টা করছি।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে শেকৃবি প্রভোস্ট কাউন্সিলের আহ্বায়ক ও হলটির প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এ সম্পর্কে (ছাত্রলীগ নেতাদের চাঁদাবাজি) আমাদের কাছেও বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ এসেছে। উপাচার্য মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত