সিলেটে ‘বিষে’ প্রবাসী বাবা-ছেলের মৃত্যু

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২২, ০৪:৩৮ এএম

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় যুক্তরাজ্য প্রবাসী একটি পরিবারের বাবা ও ছেলের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে এবং ওই পরিবারের আরও তিনজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অসুস্থদের মধ্যে মা ও মেয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে রাখা হয়েছে। প্রবাসী পরিবারের ওই ৫ সদস্যকে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার তাজপুর স্কুল রোডের একটি বহুতল ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ওসমানীনগর থানা পুলিশ ওই বাসায় গিয়ে কক্ষের দরজা ভেঙে তাদের উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রবাসী বাবা ও ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেন। তারা হলেন, ওসমানীনগরের দয়ামীর ইউনিয়নের ধিরারাই (খাতিপুর) গ্রামের মৃত আবদুল জব্বারের ছেলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী রফিকুল ইসলাম (৫০) ও তার ছোট ছেলে মাইকুল ইসলাম (১৬)। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন রফিকুল ইসলামের স্ত্রী হুছনে আরা বেগম (৪৫), ছেলে সাদিকুল ইসলাম (২৫) ও মেয়ে সামিরা ইসলাম (২০)। হুছনে আরা ও সামিরার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের আইসিইউতে রাখা হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পিবিআই ও সিআইডির পৃথক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ কর্মকর্তারা চিকিৎসকদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, বিষক্রিয়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। তবে বিষক্রিয়া কীভাবে হলো এবং এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য আছে কি-না তা তদন্ত  করা হচ্ছে।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রবাসী রফিকুলের শ্বশুর, শাশুড়ি, শ্যালক ও শ্যালকের স্ত্রীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। ছেলে সাদিকুলের চিকিৎসার জন্য গত ১২ জুলাই তিনি সপরিবারে দেশে ফিরে এক সপ্তাহ ঢাকায় ছিলেন। চিকিৎসা শেষে গত ১৮ জুলাই ওসমানীনগরের তাজপুর স্কুল রোড এলাকার একটি বহুতল ভবনের দ্বিতীয় তলা ভাড়া নিয়ে সেখানে থাকছিলেন। গত সোমবার রাতের খাবার শেষে রফিকুল ইসলাম তার স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে একটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। রফিকুলের শ্বশুর আনফর আলী, শাশুড়ি বদরুন্নেছা, শ্যালক দেলোয়ার হোসেন, শ্যালকের স্ত্রী শোভা বেগম ও শ্যালকের মেয়ে সাবিলা বেগম (৮) অন্যান্য কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। মঙ্গলবার সকাল ১০টা পর্যন্ত রফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী-সন্তানরা ঘুম থেকে না ওঠায় স্বজনরা ডাকাডাকি শুরু করেন। সাড়া না পেয়ে এক পর্যায়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। দুপুর ১২টার দিকে ওসমানীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কক্ষের দরজা ভেঙে রফিকুল ইসলামসহ তার স্ত্রী-সন্তানদের অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। এদের মধ্যে রফিকুল ও তার ছেলে মাইকুল মারা গেছেন।

প্রবাসী হুছনে আরা বেগমের চাচাতো ভাই গোলাম হোসেন জানান, খবর পেয়ে তিনি ও অন্য আত্মীয়স্বজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি বলেন, আমার বোনের পরিবারের সঙ্গে কারও শত্রুতা নেই। কীভাবে ঘটনা ঘটল বুঝতে পারছি না।

সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন পিপিএম, ওসমানীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম, ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলিমা রায়হানা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ছাড়া পিবিআই ও সিআইডির দুটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। যে বাসা থেকে অচেতন অবস্থায় প্রবাসী পরিবারের ৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে সেই বাসায় ৩টি শয়নকক্ষ, ১টি রান্নাঘর, ১টি খাবারের কক্ষ রয়েছে। যে কক্ষ থেকে অচেতন অবস্থায় ৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে সেই কক্ষের আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া গেছে।

ঘটনা প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিষক্রিয়ায় ঘটনাটি ঘটেছে বলে চিকিৎসকরা আমাদের জানিয়েছেন। তবে বিষক্রিয়া কীভাবে হলো তা তদন্তের আগে বলা সম্ভব নয়। ওই বাসা থেকে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন আলামতও জব্দ করা হয়েছে।’ পুলিশ সুপার আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রফিকুল ইসলামের চার নিকটাত্মীয়কে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত