বিদেশি মুদ্রা বিনিময়ে রবির বড় লোকসান

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২২, ১১:০৫ পিএম

ডলার সংকটে খাবি খাচ্ছে দেশের অর্থনীতিসহ সব খাত। ডলারের বিপরীতে টাকার অব্যাহত অবমূল্যায়ন আমদানি ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। উৎপাদনমুখী কোম্পানির উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি সেবা খাতেও সংকট তৈরি করছে। বিদেশি মুদ্রার বিনিময়ে বড় অঙ্কের লোকসান দিচ্ছে কোম্পানিগুলো। দেশের দ্বিতীয় শীর্ষ মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটার ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটেছে। চলতি ২০২২ হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) কোম্পানিটির আয় বাড়লেও বিদেশি মুদ্রার বিনিময়ে বড় অঙ্কের লোকসান দিতে হয়েছে। যার ফলে এ সময়ে নিট লোকসানে পড়েছে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানি।

চলতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে রবি আজিয়াটার আয় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়লেও ১২ কোটি টাকার নিট লোকসান হয়েছে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ভয়েস কল ও ইন্টারনেট সেবা থেকে কোম্পানির সমন্বিত আয় হয়েছে ২ হাজার ১০৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ হাজার ৩০ কোটি টাকা। এ সময় আয়ের বিপরীতে ব্যয় ও প্রশাসনিক খরচও কমেছে। তবে বিক্রয় ও বিতরণ ব্যয় আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে পরিচালন ব্যয়ও কিছুটা বেড়েছে। তবে আয় বৃদ্ধির বিপরীতে ব্যয় কমে আসায় চলতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৩২৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৪ দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি।

এদিকে পরিচালন মুনাফা বাড়লেও রবি আজিয়াটার সুদ ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বিদেশি মুদ্রার বিনিময়ে বড় অঙ্কের লোকসান হয়েছে। চলতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটি ঋণের সুদ বাবদ ব্যয় করেছে ১০৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৯৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা।

এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ডলারের দাম বাড়তে থাকায় অধিকাংশ কোম্পানি বিদেশি মুদ্রার বিনিময়ে লোকসান করে। এ সময়ে শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবেই ডলারের বিপরীতে টাকার সাড়ে ৮ শতাংশ অবমূল্যায়ন হয়েছে। যদিও দেশের শীর্ষ মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন এ সময়ে বিদেশি মুদ্রার বিনিময়ে ৩৮ লাখ টাকা মুনাফা করেছে। কিন্তু চলতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিদেশি মুদ্রার বিনিময়ে রবি আজিয়াটার লোকসান হয়েছে ১৭২ কোটি টাকা। গত বছর এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে বিদেশি মুদ্রার বিনিময়ে ৩২ লাখ টাকার মুনাফা থাকলেও চলতি বছর বিপুল লোকসানে পড়েছে এ খাতে, যা কোম্পানির নিট লোকসানে যাওয়ার প্রধান কারণ।

সুদ ব্যয় ও বিদেশি মুদ্রার লোকসান সমন্বয়ের পর চলতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে রবির করপূর্ব মুনাফা দাঁড়ায় ৫০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এ সময় রবিকে কর পরিশোধ করতে হয় ৬৩ কোটি ১০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১১৭ কোটি টাকা। ফলে কর পরিশোধের পর চলতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির নিট লোকসান দাঁড়ায় ১২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ৪৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা নিট মুনাফা হয়।

তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে লোকসান হলেও প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) মুনাফা থাকায় চলতি প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) রবি আজিয়াটা নিট মুনাফায় রয়েছে। চলতি প্রথমার্ধে কোম্পানিটির আয় দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১২৪ কোটি টাকা। বিভিন্ন ব্যয় সমন্বয়ের পর পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৫৭৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫১৩ কোটি টাকা। চলতি প্রথমার্ধে কোম্পানির সুদ বাবদ ব্যয় হয়েছে ২০৮ কোটি টাকা। আর বিদেশি মুদ্রা বিনিময়ে লোকসান হয়েছে ১৮২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, যেখানে আগের বছরের প্রথমার্ধে সামান্য মুনাফা ছিল। চলতি প্রথমার্ধে কর পরিশোধের পর নিট মুনাফা হয়েছে ২৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ৮০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা মুনাফা হয়।

চলতি অর্ধবার্ষিক শেষে রবির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫ পয়সা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৫ পয়সা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত