হাইকোর্টের সন্দেহ

বাবুলের সন্তানদের জিজ্ঞাসাবাদে আদেশ লঙ্ঘিত

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২২, ০২:৩৫ এএম

সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় তাদের দুই সন্তানকে শিশু আইনের বিধান মেনে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ লঙ্ঘন হয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছে উচ্চ আদালত। বাবুল আক্তারের ভাই হাবিবুর রহমান লাবু ও মাগুরা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আশাদুল ইসলামের ব্যাখ্যা শুনতে তাদের আগামী ৭ আগস্ট তলব করেছে হাইকোর্ট।

বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি শাহেদ নূর উদ্দিনের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বুধবার এ আদেশ দেয়।

হাইকোর্ট বলেছে, ‘আমাদের মনে হচ্ছে এখানে আদেশের লঙ্ঘন হয়েছে।’ আদালত আরও বলে, ‘এই মামলায় (মিতু হত্যা মামলা) সুষ্ঠু বিচার হওয়া উচিত।’

পিবিআইয়ের (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) আবেদনের পর গত ১৬ মার্চ চট্টগ্রামের একটি আদালত এক আদেশে শিশু আইন মেনে এবং সতর্কতার সঙ্গে বাবুল ও মিতুর সন্তানদের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়। এ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন বাবুলের বাবা আবদুল ওয়াদুদ মিয়া। শুনানি নিয়ে গত ৮ জুন এক আদেশে মাগুরা জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কার্যালয়ে দুই শিশুকে শিশু আইনের বিধান মেনে জিজ্ঞাসাবাদ করতে আদেশ দেয়। এতে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদের সময় শুধু শিশুদের দাদা থাকবেন। এছাড়া একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তা ও জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বা তার মনোনীত কর্মকর্তা উপস্থিত থাকবেন। শিশুদের নিরাপত্তা ও তারা যাতে কোনো ধরনের মানসিক চাপ অনুভব না করে, সে বিষয়ে দৃষ্টি রাখতে বলে হাইকোর্ট।

গত ৪ জুলাই দুই শিশুকে মাগুরা সমাজসেবা কর্মকর্তার দপ্তরে জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই। এর ধারাবাহিকতায় হাইকোর্টে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আসে।

রাষ্ট্রপক্ষ থেকে অভিযোগ উঠে, সেদিন সমাজসেবা কার্যালয়ে অযাচিতভাবে বাবুল আক্তারের ভাই উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে অপরপক্ষের আইনজীবীর অভিযোগ পিবিআইয়ের সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা এ বিষয়ে গণমাধ্যমে অযাচিতভাবে কথা বলেছেন। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের সময় সেখানে একজন টাইপিস্ট রাখা হয়। যদিও শিশুদের বক্তব্য রেকর্ড করার নির্দেশনা ছিল হাইকোর্টের।

গতকাল হাইকোর্টে বাবুল আক্তারের বাবার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পি।

অ্যাডভোকেট শিশির মনির শুনানিতে বলেন, ‘তদন্ত কর্মকর্তা তদন্তের এ পর্যায়ে এসে গণমাধ্যমে এভাবে কথা বলতে পারেন না।’

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদের দিন বাবুল আক্তারের ভাই কার্যালয়ের আশপাশে ছিলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন, চিৎকার করেছেন সিসিটিভি ফুটেজে ধারণ করা তার এমন আচরণের ছবির বিষয়ে আদালতকে অবহিত করেছি। আদেশ যেভাবে ছিল সেভাবে এ কার্যক্রম হয়নি বলে আদালতের সন্দেহ। যে কারণে দুজনকে তলব করেছেন হাইকোর্ট।’

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রামের ও আর নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে গুলি ও ছুরিকাঘাতে খুন হন মাহমুদা খানম মিতু। গত বছর ১০ মে বাবুল আক্তারকে পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে মিতু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত