বাড়তি লোডশেডিংয়ে বিড়ম্বনা

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২২, ০২:৪১ এএম

হবিগঞ্জে বিদ্যুতের নির্ধারিত লোডশেডিংয়ের পরেও কয়েক ঘণ্টার লোডশেডিং চা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে নানা সমস্যায় ফেলে দিয়েছে। এ ছাড়া চালকলগুলো সময়মতো সরকারি গুদামে চাল সরবরাহ করতে পারবে কিনা এ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় চালকল মালিকদের অভিযোগ, দৈনিক ৫ ঘণ্টা নির্ধারিত লোডশেডিংয়ের পরেও বাড়তি ২/১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে চালকল চালাতে গিয়ে নানা বিড়ম্বনার মুখোমুখি হচ্ছেন। সরকারের সঙ্গে চাল সরবরাহে চুক্তিবদ্ধ হওয়া মিল মালিকরা গুদামে চাল সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছেন।

গত ২৮ মে থেকে বোরো ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান চলছে। এই অভিযান চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। 

হবিগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার মোট ৬৮টি চালকল রয়েছে। এরমধ্যে ১৭টি স্বয়ংক্রিয় ও ৫১টি আধা স্বয়ংক্রিয়।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৪০ টাকা কেজি ধরে ১৩ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন সেদ্ধ এবং ৩৯ টাকা দরে ৩ হাজার ৫৬৯ টন আতপ চাল এবার চালকলগুলোর কাছ থেকে করা হবে। গত ২৪ জুলাই পর্যন্ত ৬ হাজার ৩০৪ দশমিক ২২০ টন সেদ্ধ এবং ২ হাজার ৭৭৪ মেট্রিক টন আতপ চাল মিল মালিকরা সরবরাহ করেছেন। ধান সংগ্রহ হয়েছে ১৬ হাজার ২০৬ টনের মধ্যে মাত্র ৬ হাজার ৯৭৪ দশমিক ৯২০ টন।

সুরমা অটোরাইস মিল মালিক মিজানুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে মিল ঠিকমতো চালানো যাচ্ছে না।’ তিনি বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলে তার মিল থেকে ৫০ টন ধান থেকে চাল বের করা সম্ভব। বর্তমানে লোডশেডিংয়ের কারণে অর্ধেকও সম্ভব হয় না।

অটোরাইস মিল মালিক সমিতির সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি  এস এন রাইস মিলের মালিক শংকর পাল বলেন, কোনো কারণে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকলে পুনরায় চালু করে আগের অবস্থায় ফিরে যেতে অনেক ক্ষতি মেনে নিতে হয়।

হবিগঞ্জ বিসিক শিল্প নগরীতে বিভিন্ন ক্ষুদ্র শিল্পে দেখা দিয়েছে হতাশা। বারবার লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে তাদের পণ্য উৎপাদন বিঘিœত হচ্ছে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব স্মল অ্যান্ড কটেজ ইন্ডাস্ট্রিজ অব বাংলাদেশ (নাসিব) হবিগঞ্জ শাখার সভাপতি সফিকুল বারি আওয়াল দাবি করেছেন, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মালিকদের রক্ষায় বিসিক নগরীতে কম লোডশেডিং করতে হবে।

কম বৃষ্টিপাত ও লোডশেডিংয়ের কারণে হবিগঞ্জের ২৩টি চা বাগানে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হুমকির মধ্যে পড়েছে। নির্ধারিত সময়ের বাইরে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে চায়ের মান ঠিক রাখা যাচ্ছে না।

লস্করপুর ভ্যালির অধীন ২৪টি চা বাগানে চলতি বছরে ১ কোটি ১৭ লাখ কেজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। কিন্তু মৌসুমের শুরুতে খুব কম বৃষ্টিপাত ও রোগবালাইয়ের কারণে চা গাছের ক্ষতি হয়েছে। তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, নতুন সমস্যা যোগ হয়েছেÑ লোডশেডিং ও ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট।

সব বাগানই হবিগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির আওতাভুক্ত।

যোগাযোগ করা হলে সমিতির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) প্রকৌশলী মামুন মোল্লা দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিদ্যুৎ বিতরণে মোট ৯৫টি ফিডার রয়েছে। এরমধ্যে ৯টি ফিডারে চা বাগানে বিদ্যুৎ দেওয়া হয়। চা বাগানগুলো সীমান্ত এলাকায়, একেকটি একেক ফিডারের আওতায় পড়েছে। সমন¦য় করা যাচ্ছে না। তবে নির্ধারিত সময়ের বাইরে খুব বেশি লোডশেডিং করা হয় না বলে তিনি দাবি করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত