পঞ্চম শ্রেণি : বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২২, ১০:৩০ পিএম

চতুর্থ অধ্যায় : আমাদের অর্থনীতি : কৃষি ও শিল্প

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

(গত সংখ্যার পর)

৪. পাটকে সোনালি আঁশ বলার কারণ ৫টি বাক্যে লেখো।

উত্তর : পাটকে সোনালি আঁশ বলার কারণ ৫টি বাক্যে লেখা হলো

ক. পাট ও পাটজাত দ্রব্য রপ্তানির মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।

খ. বাংলাদেশের মাটি ও জলবায়ু পাট চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। এ দেশের সব এলাকায় পাটের চাষ হয়। তবে বৃহত্তর ঢাকা, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, কুমিল্লা, পাবনা, কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনা জেলা বেশি পাট উৎপন্ন হয়।

গ. বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৪৫ লাখ টন পাট উৎপন্ন হয়।

ঘ. এ দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ পাট চাষ ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।

ঙ. বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক জীবনের বড় অংশ পাটের ওপর নির্ভরশীল।

এসব কারণে পাটকে ‘সোনালি আঁশ’ বলা হয়।

৫. বাংলাদেশের অর্থনীতিতে শিল্পের অবদান উল্লেখ করো।

উত্তর : প্রতিটি দেশের অর্থনীতিতে শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে শিল্পের অবদান হলো

ক. ২০১১-১২ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মোট জাতীয় আয়ে শিল্পের অবদান প্রায় ৩০ শতাংশ।

খ. বাংলাদেশের শিল্পব্যবস্থা এখনো অনেকটা দুর্বল। তবে ক্রমে তা প্রসার লাভ করছে।

গ. শিল্প প্রসারের ফলে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

ঘ. বিভিন্ন শিল্পে কাজ করে এ দেশের অসংখ্য মানুষ তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে।

ঙ. শিল্পজাত দ্রব্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে।

এসব কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে শিল্পের গুরুত্ব অপরিসীম।

৬. বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ৫টি গুরুত্ব বর্ণনা করো।

উত্তর : প্রতিটি দেশের অর্থনীতিতে শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্তমান বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মোট জাতীয় আয়ে শিল্পের অবদান প্রায় ৩০ শতাংশ। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পোশাকশিল্পের ৫টি অবদান উল্লেখ করা হলো

ক. বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে কয়েক লাখ নারী-পুরুষ একত্রে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

খ. পোশাকশিল্পে কাজ করে নারীরা আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

গ. সম্ভাবনাময় পোশাকশিল্পে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ঘ. পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রতি বছর প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে।

ঙ. নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার ফলে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছে এবং সমাজে তাদের সম্মান বাড়ছে। তাই বাংলাদেশের বিভিন্ন শিল্পের মধ্যে পোশাকশিল্পের ভূমিকা অপরিসীম।

৭. বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পের গুরুত্ব লেখো।

উত্তর : বাংলাদেশে বেশ কয়েক ধরনের ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প রয়েছে। এগুলোর মধ্যে চামড়াশিল্প, সাবানশিল্প, বিড়িশিল্প, তাঁতশিল্প, রেশমশিল্প, মৃৎশিল্প, কাঁসাশিল্প, কাঠশিল্প ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। সারা দেশে শত শত বছর ধরে এসব ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা মিটিয়ে আসছে। এসব শিল্পের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৮. বাংলাদেশের প্রধান প্রধান আমদানি ও রপ্তানি দ্রব্যের নাম লেখো।

উত্তর : বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আমদানি ও রপ্তানির গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতি বছর বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশ থেকে নানা ধরনের পণ্য আমদানি করে। আবার বিভিন্ন দেশে অনেক ধরনের পণ্য রপ্তানি করে।

আমদানি দ্রব্য : বাংলাদেশকে প্রতি বছর অন্য পণ্য আমদানি করতে হয়। প্রধান প্রধান আমদানি পণ্যগুলো হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি, শিল্পের কাঁচামাল, খাদ্যপণ্য, পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য।

রপ্তানি দ্রব্য : বাংলাদেশ প্রতি বছর বেশ কিছু দ্রব্য রপ্তানি করে। এগুলোর মধ্যে হিমায়িত খাদ্য, তৈরি পোশাক, কাঁচা পাট, পাটজাত দ্রব্য, চামড়া, চা ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

বাংলাদেশে রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি হয়। ফলে আমদানি ও রপ্তানির মধ্যে অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীন অবস্থা বিরাজ করছে।

৯. বাংলাদেশের তাঁতশিল্পের গুরুত্ব সম্পর্কে লেখো।

উত্তর : তাঁতশিল্প বাংলাদেশের প্রাচীন শিল্প। আমাদের দেশে তাঁতের চাহিদা প্রচুর। বাংলাদেশে শহর ও গ্রামে বহু তাঁত রয়েছে। এ দেশের বস্ত্র চাহিদার একটি বড় অংশ তাঁতে বোনা কাপড়ে পূরণ হয়। তাঁতে বোনা কাপড়ের মধ্যে জামদানি, টাঙ্গাইল শাড়ি, মণিপুরি শাড়ি উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া লুঙ্গি, গামছা, চাদর ইত্যাদিও তাঁতে উৎপাদিত হয়। বহু লোক এ শিল্পে নিয়োজিত থেকে জীবিকা নির্বাহ করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত