চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে কৃষি খাতে ৩০ হাজার ৯১১ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করবে ব্যাংকগুলো। নতুন অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত এ লক্ষ্যমাত্রা আগের অর্থবছরের কৃষিঋণের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি। ২০২১-২২ অর্থবছরে কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৮ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা।
গতকাল বৃহস্পতিবার ‘ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণপূর্বক বার্ষিক কৃষি ও পল্লীঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচি’ ঘোষণাকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগ এ তথ্য জানায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম, আওলাদ হোসেন চৌধুরী ও জিএম আবুল কালাম আজাদসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এবার কৃষি ও পল্লীঋণের চাহিদা বিবেচনায় চলতি অর্থবছরে মোট লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো ১১ হাজার ৭৫৮ কোটি টাকা এবং বেসরকারি ও বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকের জন্য ১৯ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লীঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে গত দুই অর্থবছরে করোনা মহামারীর কারণে কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও বিদায়ী অর্থবছরে এ খাতের ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিগত ২০২১-২২ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো মোট ২৮ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লীঋণ বিতরণ করেছে, যা অর্থবছরের মোট লক্ষ্যমাত্রার ১০১ দশমিক ৫৬ শতাংশ। ২০২০-২১ অর্থবছরের পুরো সময়ে কৃষিঋণ বিতরণ হয় লক্ষ্যমাত্রার ৯৭ শতাংশ। এর আগের অর্থবছরে (২০১৯-২০) কৃষিঋণ বিতরণ হয় লক্ষ্যমাত্রার ৯৪ শতাংশ। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, বিদায়ী অর্থবছরে ৩৩ লাখ ৪ হাজার ৮১১ জন গ্রাহক কৃষি ও পল্লীঋণ পেয়েছেন। এর মধ্যে ব্যাংকগুলোর নিজস্ব নেটওয়ার্ক ও মাইক্রো ফাইন্যান্স ইনস্টিটিউশন (এমএফআই) বা এনজিও লিংকেজের মাধ্যমে ১০ হাজার ৮২৯ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লীঋণ পেয়েছেন ১৭ লাখ ৯৭ হাজার ৫২ জন নারী। এছাড়া গত অর্থবছরে ২৪ লাখ ৯৯ হাজার ৯৪৫ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষি বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ২০ হাজার ১৮২ কোটি টাকা এবং চর, হাওর প্রভৃতি অনগ্রসর এলাকার ৪ হাজার ৭৩ জন কৃষক প্রায় ১৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ঋণ পেয়েছেন।
নতুন নীতিমালায় বলা হয়, কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। করোনা মহামারী এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ব পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে কৃষির গুরুত্ব অধিকভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ কারণে কৃষি খাতে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের মাধ্যমে সহায়তা করতে বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে। এছাড়া টেকসই উন্নয়নের নির্ধারিত লক্ষ্যের প্রথম ও প্রধান তিনটি লক্ষ্য তথা দারিদ্র্য বিমোচন, ক্ষুধামুক্তি এবং সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণের উদ্দেশ্যে পল্লী অঞ্চলে কৃষিঋণ প্রবাহ বাড়ানো।
নীতিমালায় আরও বলা হয়, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলে জনসাধারণের খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে উদ্ভূত সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং কৃষকদের কাছে কৃষিঋণ সহজলভ্য করার লক্ষ্যে বর্তমান নীতিমালা ও কর্মসূচিতে বেশ কিছু বিষয় সংযোজিত হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে প্রাণিসম্পদ খাতের আওতায় হাঁস পালনের জন্য ঋণ নিয়মাচার সংযোজন, চিয়া বীজ, জিন ফল, সুগারবিট চাষের জন্য ঋণ নিয়মাচার সংযোজন, ভিয়েতনামি হাইব্রিড নারিকেল, কফি ও সুইটকর্ন চাষের ঋণ নিয়মাচার সংযোজন, সামুদ্রিক শৈবাল চাষের জন্য ঋণ নিয়মাচার সংযোজন, মৎস্য খাতের আওতায় গলদা চিংড়ি চাষের ঋণ নিয়মাচার সংযোজন, সহজে অধিকসংখ্যক কৃষককে কৃষিঋণ দেওয়ার লক্ষ্যে ব্যাংকগুলো দলবদ্ধভাবে কৃষিঋণ বিতরণের পদ্ধতি সংযোজন এবং একরপ্রতি ফসল উৎপাদনের ঋণ নিয়মাচার বাড়ানো হয়েছে।
করোনা মহামারী দেখা দেওয়ার পর গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে ব্যর্থ হয় ব্যাংকগুলো। ২০২০-২১ অর্থবছরেও লক্ষ্যমাত্রার ৯৭ শতাংশ ঋণ বিতরণ করতে সক্ষম হয় তারা। ওই অর্থবছরে কৃষি ও পল্লী খাতে ব্যাংকগুলোর ২৬ হাজার ২৯২ কোটি টাকার ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। অর্থবছর শেষে এ খাতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৫ হাজার ৫১১ কোটি টাকা। দুই অর্থবছর পর আবারও কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে সক্ষম হয় ব্যাংকগুলো।
