কলমানি মার্কেটের মতো ডলারেরও একটি আন্তঃব্যাংক মার্কেট থাকা দরকার বলে মত দিয়েছেন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন। এই মার্কেট ডলারের দরের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে বলে আশা করছেন তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংক খাতের সাম্প্রতিক কয়েকটি বিষয় নিয়ে এবিবির অভিমত তুলে ধরতে গিয়ে এসব কথা বলেন সেলিম আর এফ হোসেন।
এ সময় তিনি বলেন, ‘আন্তঃব্যাংক ডলারের বাজার চালু হলে এক ব্যাংক খুব সহজেই আরেক ব্যাংকের কাছ থেকে তুলনামূলক কম খরচে ডলার কিনে তার গ্রাহককে সরবরাহ করতে পারবে। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে যেভাবে ডলার সরবরাহ করা হয় তার থেকে সহজে আন্তঃব্যাংক ডলার মার্কেট থেকে ডলার সংগ্রহ করতে পারবে। এ মার্কেট প্রতিষ্ঠার জন্য দরকার ব্যাংকগুলোর কনফিডেন্স।’
কয়েক মাস ধরেই দেশে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন ঘটছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বশেষ ডলারের বিপরীতে টাকার দাম ৯৪ টাকা ৭০ পয়সা ঠিক করে দিয়েছে, যা কয়েক মাস আগেও ৮৬ টাকার ঘরে ছিল। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে দর ঠিক করে দিচ্ছে ব্যাংকে তার থেকে অনেক বেশি দরে ডলার কিনতে হচ্ছে গ্রাহকদের। খোলাবাজারে দাম আরও বেশি।
সম্প্রতি খোলাবাজারে ডলারের দাম উঠেছে রেকর্ড ১১২ টাকা। ব্যাংকগুলোতে নগদ ডলারের দর সর্বোচ্চ ১০৮ টাকায় উঠেছে। যা এর আগে কখনো দেখা যায়নি।
এবিবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমদানি ব্যয় বৃদ্ধিজনিত এই ডলার সংকট অচিরেই কেটে যাবে এবং বিদেশি মুদ্রার দরের ওঠানামা কমে আসবে। ডলারের দর কমে ঠিক আগের মতো ৮৬ টাকায় হয়তো নামবে না, তবে বাজারের চাহিদা ও সরবরাহের ভিত্তিতে ডলারের দর সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে।’ এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় নতুন গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার তার সংকল্পের কথা জানিয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন অর্থ সচিব ছিলেন। ব্যাংকিং খাত সম্পর্কে তিনি ভালো ধারণা রাখেন। গভর্নর হিসেবে যোগদানের পরপরই তিনি বিদেশি মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। এর ফলে অনেক ধরনের অপ্রয়োজনীয় আমদানি ব্যয় কমে আসতে শুরু করেছে। সামনে এ ধরনের আমদানি আরও কমবে।’
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গত ১৮ জুলাই জারি করা খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল সংক্রান্ত নীতিমালা নিয়ে এবিবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘এটি ব্যাংকের জন্য খুবই সময়োপযোগী ও বিস্তারিত একটি নীতিমালা। এ নীতিমালাটি যথাযথভাবে অনুসরণ করলে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ অনেকটা কমে আসবে। ব্যাংকগুলোতে ঋণশৃঙ্খলা ফিরবে। ব্যাংকগুলোতে যদি সুশাসন থাকে, কর্মীরা যদি দক্ষ হয় তাহলে এ নীতিমালা ব্যবহার করে ভালো ফল পাওয়া যাবে।’
