মাথাপিছু আয় বেশি দেখাতে সরকার দেশের জনসংখ্যা কম দেখাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, খোদ সরকারের একজন মন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে, জনশুমারির গণনা ঠিক হয়নি, বাড়ি বাড়ি যায়নি।’
গতকাল বৃহস্পতিবার গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জনশুমারির প্রাথমিক প্রতিবেদনের বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।
গত বুধবার জনশুমারির প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এবারের জনশুমারি অনুযায়ী দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬। এর আগে ২০১১ সালে করা জনশুমারিতে এ সংখ্যা ছিল ১৪ কোটি ৪০ লাখ ৪৩ হাজার ৬৯৭। অর্থাৎ বেড়েছে ২ কোটি ১১ লাখ মানুষ।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যেকোনো মানুষ বুঝবে যে, এখানে ১৮ কোটি আমরা হিসাব করি, আমাদের হিসাবে আসে প্রায় ১৮ কোটি মানুষ। সেখানে ১৬ কোটি মানুষ দেখালে তো মাথাপিছু আয় বেশি দেখানোর সুবিধা হবেই।’
জনশুমারির গণনা নিয়ে সরকারের একজন মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘তারাই স্বীকার করেছেন যে, জনশুমারির গণনা সঠিক হয়নি, বাড়ি বাড়ি যায়নি। একটা বাড়িতে গিয়ে দারোয়ানকে জিজ্ঞাসা করেছে যে, এই বাড়িতে কতজন লোক খায়। ও (দারোয়ান) তো এতসব বুঝে না। সে বলেছে যে, দিনের বেলা দুজন খায়, রাতের বেলা চারজন খায়। এই যে বিষয়গুলো এটা তো জনশুমারি হতে পারে না।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এ জনশুমারির উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে বিভ্রান্ত করা, প্রতারণা করা। পুরো সরকারটাই প্রতারণার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এটা একটা টোটালি ফেইক গভর্মেন্ট।’
মহিউদ্দিন রনির রেলস্টেশনে অবস্থান সরকারের কৌশল : সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রেলওয়ের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে মহিউদ্দিন রনি আন্দোলন শুরু করেছিলেন। আমার স্ত্রী বলেছিলেন যে, দেখো কীভাবে কোনো রাজনীতি করে না, কিছু করে না সেই ছেলে কত ভালো কাজ করছে। সব মানুষকে নিয়ে আসছে। আমি সেদিনই তাকে (স্ত্রী) বলেছিলাম, দেখো শিগগিরই দেখবে এটা যে আওয়ামী লীগের একটা কৌশল, তা প্রমাণিত হবে। রনি ঠিকই প্রতিবাদী মিটিং শেষ করে আওয়ামী লীগের অফিসে গিয়ে ঢুকেছে।’
রনির আন্দোলনকে কৌশল দাবি করে সংকটের জন্য গণতন্ত্রহীনতাকে দায়ী করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গণতন্ত্র নেই বলেই আজকে জবাবদিহিতা নেই, পার্লামেন্ট নেই, যা খুশি লুটপাট করে নিয়ে যাচ্ছে।’
