করোনা মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্ত বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনরুদ্ধারে আরও ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এটা এ খাতের জন্য তৃতীয় ও শেষ দফা প্রণোদনা।
গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে জারি করা এক সার্কুলারে বলা হয়, আলোচ্য ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের ২৭ হাজার কোটি টাকা শিল্প ও সেবা খাতের বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বরাদ্দ থাকবে। বাকি ৩ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্র্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্র্তৃপক্ষ (বেপজা) ও বাংলাদেশ হাইটেক কর্র্তৃপক্ষকে অবস্থিত ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ টাইপ শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ওইসব অঞ্চলের বাইরে অবস্থিত শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন বা যৌথ মালিকানাধীন দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ হিসেবে দেওয়া হবে।
যেসব প্রতিষ্ঠান প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ঋণ সুবিধা পায়নি তাদের অনুকূলে তৃতীয় পর্যায়ের এই প্রণোদনা প্যাকেজের সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বরভিত্তিক চলতি মূলধন বাবদ মঞ্জুরি করা বা প্রদত্ত সীমার ভিত্তিতে প্রাপ্যতা সীমা নির্ধারিত হবে।
এই প্যাকেজের আওতায় এর আগে কোনো ঋণ সুবিধা না পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণ দেওয়ার জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের ৩০ জুনের মধ্যে এই প্যাকেজের ঋণ বিতরণ কার্যক্রম শেষ করতে হবে ব্যাংকগুলোকে।
২০২০ সালের মার্চে দেশে প্রথম নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। এর পরপরই মহামারীর প্রকোপ কমাতে দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। এ সময় ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়লে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় দেশে একের পর এক প্রণোদনা ঋণ প্যাকেজ চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব প্যাকেজের আওতায় ২ থেকে ৪ শতাংশ সুদে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ঋণ দেওয়া হয়।
ওই বছরের ১২ এপ্রিল বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রথম ৩০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ চালু হয়। পরে সেই প্যাকেজের তহবিলের আকার বাড়িয়ে ৪০ হাজার কোটি টাকা করা হয়। এ প্যাকেজের আওতায় দেশের বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখার সুযোগ পায়। গত ২০২১-২২ অর্থবছরে এ খাতে দ্বিতীয় দফা প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসের প্রকোপ থেকে অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের জন্য এ ধরনের ১০টিরও বেশি প্যাকেজ সে সময় হাতে নেয় সরকার। যার মাধ্যমে ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেওয়া হয়।
এর মধ্যে কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার একটি প্যাকেজ হাতে নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সম্প্রতি ওই প্যাকেজের তৃতীয় দফার প্রণোদনার ঋণ বিতরণের নির্দেশনা দিয়েছে ব্যাংক খাতের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এ ছাড়া কৃষি খাতের জন্য তৃতীয় দফায় আরও ৩ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনার ঋণ দেওয়া হবে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছর জুড়ে।
