শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের ডাইনিং থেকে সম্প্রতি চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ওঠে হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম সজীব হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে। এই দুই নেতার ‘চাঁদাবাজিতে’ অতিষ্ঠ হয়ে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ জানান হলটির প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ। কিন্তু ওই দুই ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে দেশ রূপান্তরে প্রতিবেদন প্রকাশের পর নিজের আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন অধ্যাপক কামাল। এমনকি উল্টো তিনি নিজেই দুই ছাত্রলীগ নেতার ‘চাঁদাবাজি’ ঢাকতে সহায়তা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, এস এম সজীব হোসাইন ও আরিফুর রহমান গত বছরের ডিসেম্বরে কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল শাখা ছাত্রলীগের দায়িত্ব পান। এরপর থেকেই তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উঠতে থাকে। দুই নেতার ‘চাঁদাবাজিতে’ অতিষ্ঠ হয়ে এক পর্যায়ে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ জানান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ। তখন তিনি দুই নেতার বিরুদ্ধে হলের ডাইনিং ও ক্যান্টিন থেকে এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হল প্রশাসনের কাছে চাঁদাবাজির তথ্যসহ বেশকিছু অনিয়মের বিষয় তুলে ধরেন। এমন তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে নামে দেশ রূপান্তর। প্রভোস্টের দেওয়া তথ্যের স্বপক্ষে প্রমাণ মিললে গত বুধবার দৈনিক দেশ রূপান্তরে ‘ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি হলের ডাইনিংয়েও’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। আর এই প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর আলোড়ন তৈরি হলে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে তৎপর হন দুই নেতা। ওইদিনই তারা হল প্রভোস্টের স্বাক্ষর সংবলিত একটি বিজ্ঞপ্তি তৈরি করে। যা দুই নেতা তাদের ফেইসবুক পেইজে গতকাল শুক্রবার প্রকাশ করেন। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘হলের ডাইনিংয়ের মিল চার্জ বৃদ্ধি ও চাঁদাবাজির সঙ্গে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল শাখার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।’
এ ছাড়াও নিজেদের নির্দোষ প্রমাণে আরও কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন দুই নেতা। জানা গেছে, আগামী রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জুনিয়র কিছু শিক্ষার্থীকে দিয়ে নিজেদের পক্ষে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। মানববন্ধনটি ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে নয়, সাধারণ শিক্ষার্থীরা করছে এমন তথ্য প্রচার করতে নেওয়া হয়েছে কৌশল। ছাত্রলীগে এখনো কোনো পদ-পদবি পায়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন জুনিয়র ব্যাচের (৭৭,৭৮, ৭৯ ও ৮০তম ব্যাচ) কিছু শিক্ষার্থীকে এই মানববন্ধন কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।
ছাত্রলীগ নেতাদের ফেইসবুক পেইজে প্রকাশিত নোটিসের বিষয়ে জানতে চাইলে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘কোনো তদন্ত করে এটা দেওয়া হয়নি। ওদের (সভাপতি সজীব ও সাধারণ সম্পাদক আরিফ) পীড়াপীড়ির কারণে এটা দিয়েছি। কারণ ছাত্রলীগ মানে তো শুধু ওরা দুজন না, আরও অনেকে আছে। এজন্য বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট কারও নাম উল্লেখ করিনি। আর এই বিজ্ঞপ্তিতে কিছু যায় আসে না। কারণ নিউজ যেটা হওয়ার হয়ে গেছে, যেটা আসল সত্য সেটা বের হয়ে গেছে।’
