জো বাইডেনকে চিনপিং

আগুন নিয়ে খেললে পুড়তে হবে

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২২, ০২:০০ এএম

তাইওয়ান বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে সতর্ক করে দিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং বলেছেন, ‘আগুন নিয়ে খেললে পুড়তে হবে।’ 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফরের পরিকল্পনা নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে টেলিফোন আলাপে এই সতর্কবার্তা দিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট।

জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি’র সঙ্গে এটি তার পঞ্চম ফোনালাপ। ২০১৫ সালে শি যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেলে তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। তবে ২০২১ সালে বাইডেন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এখন পর্যন্ত তাদের সাক্ষাৎ হয়নি। বৃহস্পতিবার দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা ফোনালাপে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি বৈঠকে বসতে সম্মত হন তারা। ফোনালাপে জলবায়ু পরিবর্তন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং মাদকবিরোধী অবস্থানসহ পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়েও আলোচনা করেন দুই নেতা।

শি ও বাইডেনের ফোনালাপের বিষয়ে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে ‘এক-চীন’ নীতি মেনে চলার তাগিদ দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট। তাইওয়ানের ব্যাপারে তারা কোনো বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ মেনে নেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

শি চিনপিং বলেন, ‘তাইওয়ান ইস্যুতে চীনা সরকার এবং জনগণের অবস্থান একই। চীনের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার্থে ১৪০ কোটি চীনা জনগণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’ 

প্রেসিডেন্ট বাইডেনের বক্তব্যের সারমর্ম তুলে ধরে হোয়াইট হাউজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘তাইওয়ানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তন হয়নি এবং এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার একতরফা যেকোনো ধরনের প্রচেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করে ওয়াশিংটন।’

যদিও ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত তাইওয়ানকে কূটনৈতিক স্বীকৃতি দেয়নি। তবু চীনের প্রভাবমুক্ত হতে তাইওয়ানের নানামাত্রিক প্রচেষ্টায় বরাবরই সক্রিয় আছে। নিজেদের সার্বভৌম রাষ্ট্র বলে মনে করে তাইওয়ান। তাইওয়ান চায় দেশের ভবিষ্যৎ তার জনগণের হাতেই থাকবে। নিজেদের প্রতিরক্ষায় মাঝে মাঝেই সরব হয় পূর্ব এশিয়ার দ্বীপটি। এটির অবস্থান চীনা মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে। ১৯৪৯ সালে চীনের কমিউনিস্ট নেতা মাও সে তুং পিপলস রিপাবলিক অব চায়না ঘোষণা করলে আলাদা হয়ে যায় তাইওয়ান। বর্তমানে গণতান্ত্রিকভাবে স্বায়ত্তশাসিত তাইওয়ানে প্রতিরক্ষা সামগ্রীর বড় বিক্রেতা যুক্তরাষ্ট্র। 

অন্যদিকে চীন তাইওয়ানকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন প্রদেশ বলে মনে করে। প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে হলেও একে নিজেদের অধীনে চায় চীন। তাইওয়ানকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে পেইচিংয়ের চেষ্টার কমতি নেই। এজন্য এর চারদিকে সামরিক কর্মকাণ্ডও জোরদার করেছে চীন। এমনকি গত বছরের মতো চলতি বছরের শুরু থেকেই তাইওয়ানের দাবি করা আকাশসীমা লঙ্ঘন করে আসছে চীনা যুদ্ধবিমান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত