জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. নকিবুল হাসান খানের নিয়োগে অনিয়ম নিয়ে দেশ রূপান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে চিঠি পাঠানো হয় চলতি মাসের ১৭ জুলাই। চিঠি পাঠানোর ১০ দিনেও তদন্ত কমিটি গঠন করেনি বিশ্ববিদ্যালয়টি। তবে কমিটি গঠনে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
তথ্য গোপন করে ও চাকরির বিজ্ঞপ্তির শর্ত ভেঙে এই শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহিত উল আলমের সময়ে। নিয়োগে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাবেক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা এহসান হাবীবের। তবে নিয়োগে সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন সেই কর্মকর্তা। অন্যদিকে এ নিয়োগ সম্পর্কে মনে নেই এবং তা বর্তমান প্রশাসন বলতে পারবে বলে মন্তব্য করেছিলেন সাবেক উপাচার্য।
এর আগে এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অ্যাকাডেমিক কমিটির সভায় বিভাগটির প্রধান অধ্যাপক ড. আশরাফ আলী সিদ্দিকীকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে নিজ কক্ষে তালা লাগিয়ে দিয়েছিলেন নকিবুল হাসান খানের নেতৃত্বে তিন শিক্ষক। যেটি অভিযোগ আকারে উপস্থাপন করেছিলেন বিভাগটির প্রধান। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ জুন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয় সামাজিকবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলামকে । অন্যদিকে বাকি দুই সদস্য হলেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আহমেদুল বারী ও সাবেক কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাহাবুদ্দিন বাদল।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, তদন্ত কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম ১৯ জুলাই সভা আহ্বান করলে সেখানে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সভায় যোগ দেননি অন্য দুই সদস্য। অন্যদিকে ২১ জুলাই সদস্য সচিব সাহাবুদ্দিন বাদল তদন্ত কমিটির সভা আহ্বান করে অন্য দুই সদস্যকে আহ্বান জানালে সেখানে উপস্থিত হননি সামাজিকবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার বলেন, তালা ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নের ঘটনায় করা তদন্ত কমিটি কাজ করছে। দ্রুতই প্রতিবেদন পাবেন তারা। পাশাপাশি দ্রুতই ইউজিসির নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
তদন্ত কমিটির কার্যক্রম নিয়ে জানতে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবকে মোবাইল ফোনে কল করেও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে রেজিস্ট্রারের বক্তব্যের ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে তদন্ত কমিটির সদস্য কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আহমেদুল বারীর থেকে। তিনি বলেন, ‘আমি অসুস্থ থাকার কারণে সভায় আসতে পারিনি। পরবর্তী সময়ে সদস্য সচিব আমার সামনে সভা আহ্বান করে আহ্বায়ককে অধ্যাপক নজরুল ইসলামকে মোবাইল ফোনে জানালে তিনি অসম্মত হয়ে জানান যে উনার যা জানানোর তা উপাচার্যকে জানিয়েছেন। আমি আইনের মানুষ। অধ্যাপক নজরুল ইসলামের মতো নিয়মের বাইরে কাজ করা মানুষের সঙ্গে আমি তদন্ত কমিটিতে বসতে পারি না। বৃহস্পতিবার আমি তদন্ত কমিটি থেকে পদত্যাগ করব।’
ইউজিসির চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য সৌমিত্র শেখর বলেন, ‘আমার প্রশাসন স্পষ্ট এবং পরিষ্কার। আমরা ইউজিসির চিঠি পাওয়ার পর অনেকটা এগিয়েছি। দ্রুতই তদন্ত কমিটি করব। অন্যায়ে কোনো ছাড় হবে না। আর এটাও বুঝতে হবে এ নিয়োগটি আমার সময়ের নয়। সাবেক প্রশাসনের। অনেকেই ভুল বুঝে আমার প্রশাসনের মনে করেছে। সেটি থেকেও বেরিয়ে আসতে হবে। আমার দায়িত্ব পালনের সময় এমন কোনো নিয়োগ হবে না যা আইনসিদ্ধ নয়।’
অন্যদিকে বিভাগীয় প্রধানের কক্ষে একই বিভাগের তিন শিক্ষকের তালা দেওয়ার ঘটনায় উপাচার্য বলেন, ‘আমরা তদন্ত কমিটি করেছি। তবে যদি সংকট থাকে তা সমাধানের ব্যবস্থা করে দ্রুতই সমাধানে যাব।’
বিভাগটিতে শিক্ষক দ্বন্দ্বের কারণে আটকে রয়েছে ক্লাস, পরীক্ষা এমনকি প্রকাশিত হচ্ছে না ফলাফল। এ সমাধানে বিভাগটির শিক্ষার্থীরা দফায় দফায় সমাধান চেয়ে সাক্ষাৎও করেছেন উপাচার্যের সঙ্গে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, এ ঘটনায় ইউজিসি এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্যারও কঠোর কিন্তু কেন যে এত ধীরভাবে এগোচ্ছে তা সামনে আসছে না। তবে নকিবুল হাসান খানকে বাঁচাতে সক্রিয় রয়েছে অনেকেই। গুন্ডামি আর শিক্ষকতা তো একসঙ্গে হতে পারে না। উনি শিক্ষকতাকে গু-ামি মনে করেন। শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।’
