মেজর সিনহা হত্যার দুই বছর

কক্সবাজারে কমেছে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ আতঙ্ক

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২২, ০২:২১ এএম

কক্সবাজারের টেকনাফের শামলাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যার দুই বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ রোডের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান। সেই ঘটনার পর পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। গ্রেপ্তার হন প্রদীপ কুমার দাশসহ পুলিশের আরও কয়েকজন সদস্য। পরে ওই মামলার রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড ও কয়েকজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এদিকে আলোচিত ওই ঘটনার পর কক্সবাজার জেলায় গত দুই বছর পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেনি। জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর পিপি অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম বলেন, মেজর (অব.) সিনহা হত্যাকান্ডের পর গত দুই বছর বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেনি।

দুই বছর আগে ঘটনার পরপরই তা আড়াল করতে পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি (টেকনাফে দুটি, রামুতে একটি) মামলা করেছিল। পরে কক্সবাজার আদালতে টেকনাফ থানার বহিষ্কৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায়। র‌্যাবের তদন্ত কর্মকর্তা মো. খাইরুল ইসলাম এ মামলায় চার মাসের বেশি সময় তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর ৮৩ জন সাক্ষীসহ অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন। ১৫ জনকে আসামি করে দায়ের করা অভিযোগপত্রে সিনহা হত্যাকা-কে একটি ‘পরিকল্পিত ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

পরবর্তীকালে ২০২১ সালের ২৩ আগস্ট থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আট দফায় ৮৩ জনের মধ্যে ৬৫ জন সাক্ষ্য প্রদান করেন। এর মধ্যে প্রথম দফায় ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত তিন দিনে দুজনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়। দ্বিতীয় দফায় ৫ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার দিনে সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয় চারজনের। তৃতীয় দফায় ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিনে সম্পন্ন হয় আটজনের। চতুর্থ দফায় ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুদিনে সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা করা হয় ছয়জনের। পঞ্চম দফায় ১০ থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনে ১৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়। ষষ্ঠ দফায় ২৫ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনে সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয় ২৪ জনের। সপ্তম দফায় ১৫ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ছয়জন সাক্ষ্য দেন। এদের মধ্যে পাঁচজনের জেরা সম্পন্ন হলেও তদন্তকারী কর্মকর্তার জেরা অসম্পন্ন ছিল। সর্বশেষ অষ্টম দফায় ২৯ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন দিনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়। এরপর ৬ ও ৭ ডিসেম্বর আসামিরা ফৌজদারি কার্যবিধি ৩৪২ ধারায় আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেন। সর্বশেষ ৯ থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত মামলায় উভয়পক্ষের আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।

গত ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বরখাস্ত পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে মৃত্যুদন্ডাদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার অন্যান্য আসামি বরখাস্ত এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাগর দেব, রুবেল শর্মা, পুলিশের সোর্স নুরুল আমিন, নিজাম উদ্দিন ও আয়াজ উদ্দীনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা দেওয়া হয়। এছাড়াও ‘এপিবিএন’র এসআই শাহজাহান আলী, কনস্টেবল মো. রাজীব ও মো. আবদুল্লাহ, পুলিশের কনস্টেবল সাফানুল করিম, কামাল হোসেন, লিটন মিয়া ও পুলিশের কনস্টেবল আবদুল্লাহ আল মামুনকে খালাস প্রদান করে আদালত।

আদালতের রায়ের পর মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি প্রদীপ ও লিয়াকতের রায়ের কপি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এ দুই আসামি হাইকোর্টে আপিল করেছেন। তবে এখনো আপিল শুনানির তারিখ নির্ধারণ হয়নি। বর্তমানে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি ঢাকার কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত